১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিকলে বেঁধে স্ত্রীকে নির্যাতন ॥ হাসপাতালে ভর্তি করল গ্রামবাসী

নিজস্ব সংবাদদাতা, বরগুনা, ৭ ডিসেম্বর ॥ সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ইটবাড়ীয়া গ্রামের নাসির হাওলাদার নামের পাষন্ড স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এক সন্তানের জননী হাসি বেগমকে সোমবার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের গাবতলী গ্রামের খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেছে গ্রামবাসী।

নির্যাতিত গৃহবধূ হাসি বেগম বলেন, চার বছর আগে মোবাইলের মাধ্যমে নাসিরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেলে ২০১২ সালে কাউকে না জানিয়ে পটুয়াখালী শহরে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে স্বামী নাসির। কয়েক দফা সালিশ বৈঠকের পরে আবার ফিরে আসেন স্বামীর ঘরে। কয়েক মাস যেতে না যেতেই নতুন করে শুরু হয় নির্যাতন। গত শুক্রবার কয়েক দফা মারধরের পরে রাত ১০টার দিকে স্বামী ঘরে এসে প্রথম স্ত্রীরকে সঙ্গে নিয়ে মারধর করে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। নির্যাতনের একপর্যায়ে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস দিতে চেষ্টা করে তারা। একই সঙ্গে মাথার চুলের কিছু অংশ কেটে দেয়া হয়। এরপর চড় ঘুষি লাথিসহ লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। রাতে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে ঘুমিয়ে পরলে চাবি হাতের কাছে পেয়ে তালা খুলে পালিয়ে যায় হাসি।

হাসি আরও বলেন, পাষন্ড স্বামী নাসিরের নির্যাতনের শিকার হয়ে ৬ মাসের শিশু ইয়াসিনকে রেখে জীবন বাঁচাতে রাতের আধারে শিকল খুলতে পেরে ঘর থেকে বের হয়ে দৌড়াতে থাকি। রাস্তা জঙ্গল খাল পেরিয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার দৌড়ে খুব সকালে আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামে পৌঁছায়। তিনি সকাল বেলা রাস্তা থেকে খালে নেমে পড়লে লোকজন ভাসতে দেখে খাল থেকে উদ্ধার করে । হাসি বলেন, এমন নির্যাতনের বিচার চাই। বর্তমান সরকার নারীদের জন্য অনেক কিছু করেছে, এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারও চান তিনি।

গ্রামের আবদুল আজিজ জানান, সকাল বেলা ভিজা অবস্থায় রাস্তায় হাঁটতে দেখে পাগল মনে হয়েছিল। পরে বেশি লোক দেখে রাস্তা থেকে খালে নেমে পড়ে। প্রথমে সাঁতার দিলেও খালের মাঝে গিয়ে ¯্রােতের সঙ্গে ভেসে যেতে দেখে লোকজন নিয়ে উদ্ধার করি। পরে গলায় চোখের পাশে আঘাতে চিহ্ন দেখি। আমাদের বাড়ির মহিলারা তার ভিজা কাপড় ছাড়িয়ে শুকনা কাপড় পরায়। পরে স্থানীয় চৌকিদারের মাধ্যমে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূ হাসির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। শারীরিকভাবে সে এখন দুর্বল। সুস্থ হতে তার আরও ৫-৬ দিন লাগতে পারে বলেও তিনি জানান।

সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে হাসিকে উদ্ধার করে দুপুরে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নির্যাতিত হাসি বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে পুলিশ সুপার তাকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং দুই হাজার টাকা চিকিৎসার জন্য সহায়তা দেন। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামালা দায়ের করা হয়েছে। আমরা আসামি ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। খুব শীঘ্রই আসামিদের গ্রেফতার করা হবে বলেও তিনি জানান।