১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হা ফেসবুক!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায় এগিয়ে যায় মানবসভ্যতা। নতুন নতুন প্রযুক্তি মানুষের জীবনে আনে নতুনত্ব। সহজ ও সাবলীল করে তোলে দৈনন্দিন জীবনকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আবিষ্কার মানুষের জীবনে এনেছে নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য। ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এখন ঘরে বসেই যে কেউ ফেসবুকের মাধ্যমে জেনে নিচ্ছে পরস্পরকে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব কে কেমন আছেন সহজেই জেনে নিচ্ছে ফেসবুক ব্যবহার করে। নিত্যনতুন ছবি আর মত প্রকাশ করে সাজিয়ে তুলছে নিজের ফেসবুক ওয়াল। এই প্রজন্ম যেন ফেসবুক ছাড়া একটি মুহূর্তও কল্পনা করতে পারে না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর গভীর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ফেসবুকে চোখ মেলা বন্ধ নেই। সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ মাধ্যমটি সরকারী সিদ্ধান্তে ১৭ নবেম্বর বাংলাদেশে ব্যবহার বন্ধ করা হয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণকে নিরাপদ রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এজন্য সরকারকে সমালোচনার মধ্যে পড়তে হয়। এমনকি অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।

দেশে ফেসবুক বন্ধ হওয়ার পর থেকে ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামে। ব্যবসা কমে মোবাইল অপারেটর ও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবসায়ীদেরও। দেশের অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ীদের সঙ্কট বাড়ে। বাংলাদেশে অনলাইনে পণ্য বিক্রি করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশও ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের নিয়মিত অর্ডার পায়। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করে দেশে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অনলাইন ব্যবসা। ঢাকার বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো খুলে দেয়ার জন্য ফ্রিল্যান্সারদের মানববন্ধনের মতো ঘটনাও ঘটে। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেই যে প্রভাব পড়ে তা নয়, এর প্রভাব তরুণ সমাজে আরও প্রকট আকারে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যম দিয়ে দেশ-বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করা যায়নি। যারা বিকল্প পথে মাধ্যমটি ব্যবহার করছেন তাদের প্রতিও সরকারের নজরদারি রয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় চার লাখ তরুণ-তরুণী আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা বিদেশী ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ করেন এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে নিয়ে আসেন। ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের প্রধান কয়েকটি মাধ্যম ভাইবার, হোয়াটসএ্যাপ ও ফেসবুক।

বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটির ওপরে। তার মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটিরও বেশি। দেশে ফেসবুকে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সীদের হার ৪২ শতাংশ। এটা স্পষ্ট যে, এই ফেসবুক ব্যবহারকারীর একটা বড় অংশই তরুণ প্রজন্ম। বলা যায়, ফেসবুক যেন এক মায়াজালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে তাদের। এর গুরুত্ব বোঝা গেল কয়েকদিন ফেসবুক বন্ধ থাকায়। ফেসবুক ছাড়া যেন একটি দিনও ভাবা যায় না।

অস্বীকার করার উপায় নেই ব্যবহারকারীর একটা অংশ ফেসবুকের অপব্যবহারও করছে। বাড়ছে নোংরা চিন্তা-ভাবনা ও কুপ্রবৃত্তি। কখনও কখনও ধর্মের অপব্যাখ্যা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি, মনীষীদের নিয়ে অপব্যাখ্যা, অপপ্রচার চালিয়ে অস্থিরতাও সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফেসবুক বন্ধ রাখার বিষয়ে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত যে এসব কারণে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবার বিশ্বাস সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফেসবুক আবার সবার মাঝে গ্রহণীয় হবে। অপব্যবহার নয়, সঠিক ও কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমেই ফেসবুক বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।