১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিবন্ধী পুনর্বাসনে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে ॥ ভিসি কামরুল হাসান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অক্ষম ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান। তিনি বলেছেন, অক্ষম ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ব্যবস্থা সমন্বিত হওয়া উচিত। তাদের সামাজিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি পুনর্বাসন চিকিৎসার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। তবে এ কাজ কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। এজন্য সমন্বিত ব্যবস্থাপনা দরকার। যার যে দায়িত্ব, সেটি যথাযথভাবে পালন করলেই প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ত্রুটিমুক্ত করা যাবে। তবে চিকিৎসকদেরই এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে হবে। সোমবার দুপুরে বিএসএমএমইউয়ের মিলন হলো অ্যানেক্সে ‘অক্ষমতা ও প্রতিবন্ধিত্বের ভার কমাতে পুনর্বাসন চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস-২০১৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিক্যাল মেডিসিন এ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাসকুলোস্কেলেটাল মেডিসিন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফিজিক্যাল মেডিসিন এবং রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ কামরুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক একেএম সালেক।

হাসপাতালে স্থান সঙ্কট, অপ্রতুল বাজেট, ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা এবং জনসংখ্যার আধিক্যÑ এ চারটি বিষয়কে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, গত এক দশকে প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে সমাজে সচেতনতা বেড়েছে। বিশেষ কোন অঙ্গের প্রতিবন্ধিতা বুঝাতে অপমানজনক শব্দচয়নের ক্ষেত্রে এখন সবাই সচেতন। গণমাধ্যম এক্ষত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এখনও প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য কোন পরিসংখ্যান না থাকা দুঃখজনক। দেশে যতসংখ্যক প্রতিবন্ধী রয়েছেন, তাদের সবাইকে পুনর্বাসন চিকিৎসা সেবা দেয়া যাচ্ছে কি না তা যাচাই করা যেত।

মুক্ত আলোচনায় চিকিৎসকরা বলেন, বহুমাত্রিক ধরন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্ভরযোগ্য কোন পরিসংখ্যান নেই। এ কারণে নির্দিষ্ট ধরনের প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন চিকিৎসায় করণীয় ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা যাচ্ছে না। প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ কাজে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে চিকিৎসকদের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা যথাযথ নয়।

মূল বক্তব্যে চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম কচি বলেন- যেভাবে এদেশে প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়, তাতে মনে হয় এনজিও ছাড়া তাদের নিয়ে আর কারও মাথাব্যথা নেই। আর এনজিওগুলোরও মূল মনোযোগ প্রতিবন্ধীদের সামাজিক পুনর্বাসনে, পুনর্বাসন চিকিৎসায় নয়। অথচ একজন পঙ্গু ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার বা ক্রাচ কিনে দেয়ার বদলে তার শরীরে কৃত্রিম পা লাগানোর ব্যবস্থা করা গেলে তিনি আরও সক্ষম জীবনযাপন করতে পারেন। অপর মূল বক্তব্য উপস্থাপক শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন চিকিৎসা মূলত একটি দলীয় কাজ। অনেকক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদে করতে হয়। ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট এবং ফিজিয়াট্রিস্টদের বহুমুখী এবং দলীয় চিকিৎসা প্রচেষ্টা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশে চিকিৎসক ও পুনর্বাসন চিকিৎসকের সংখ্যার অনুপাতেও বিশাল ফারাক, ৭৬৫ ঃ ১। মুক্ত আলোচনায় বিএসএমএমইউ উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক শহীদুল্লাহ শিকদার বলেন, পরিসংখ্যানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। রোগী দেখার সময় চিকিৎসকদের উচিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেয়া। এটি চিকিৎসকের দয়া নয়, দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মোঃ আলী আসগর মোড়ল, ডাঃ মশিউর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ শামসুন নাহার, সাংবাদিক শিশির মোড়ল প্রমুখ।