১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রামীণফোনের ‘জিপি কৃষি সেবা’ চালু

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ‘সুদিনের শুরু এখানেই’ সেøাগান সামনে রেখে কৃষকদের কৃষিবিষয়ক নানা কাজে সেবাদানের লক্ষ্যে ‘জিপি কৃষি সেবা’ সার্ভিস নিয়ে এসেছে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। এই সেবা পেতে চাইলে ‘২৭৬৭৬’ নম্বরে ডায়াল করতে হবে। এই সেবার আওতায় শস্য উৎপাদন, শাক-সবজি ও মাছ চাষ, গবাদি পশু পালন এবং সার ও কৃষি পণ্য সম্পর্কিত তথ্যসহ কৃষিকাজ সংক্রান্ত নানা ধরনের তথ্য জানা যাবে। এমনকি কৃষক চাইলে এই সেবা ব্যবহার করে সরাসরি কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। সোমবার বিকেলে রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে আয়োজিত একটি ‘নাটিকার’ মাধ্যমে এই বিশেষ সেবার উদ্বোধন করা হয়। নাটিকাতে বহুল পরিচিত নানা-নাতির চরিত্রের গানে গানে এই বিশেষ সেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এই সেবা পেতে কৃষককে তার এলাকা এবং পছন্দের শস্য/মাছ/গবাদি পশুর নাম দিয়ে নিবন্ধিত করতে হবে। এক্ষেত্রে একজন সর্বোচ্চ তিনটি টাইপ বেছে নিতে পারবেন। এই সেবার আওতায় যেকোন কৃষক লাল তীর বীজের প্যাকেট কিনে বিনামূল্যে ইউএসএসডি মেনুর মাধ্যমে বীজের প্যাকেটটি আসল কি না নকল তা যাচাই করে নিতে পারবেন।

নাটিকার শেষে সাংবাদিকদের এই সেবা সম্পর্কে জিপির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, কৃষকদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করাই এই সেবার মূল লক্ষ্য। ২৭৬৭৬ নম্বরে ফোন করে এই সেবা ব্যবহারকারী তার পছন্দ অনুযায়ী মেন্যু বাছাই করে নিতে পারবেন। সাধারণত শস্য বর্ষপঞ্জি এবং ঋতুর সঙ্গে মিল রেখে তথ্য সরবরাহ করা হবে। এসব তথ্য হবে আইভিআর এবং ভয়েস মেসেজভিত্তিক। এর আওতায় এগ্রো কল সেন্টারে ফোন করে প্রতি মিনিট তিন টাকা চার্জে কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। এছাড়া এই সেবার নিবন্ধিত গ্রাহকরা যেকোন অপারেটরে প্রতি সেকে- ১ পয়সা রেটে কথা বলতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই সেবা কৃষিকাজে নতুন মাত্রা যোগ করে কৃষকদের জীবনকে সহজ করে তুলবে।

সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে কৃষি বিশেষজ্ঞ, কৃষি সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত সংগঠনসমূহ, কৃষিপণ্য বিক্রেতা এবং কৃষকদের মধ্যে একটি সমন্বিত প্লাটফর্ম তৈরি করাই এই সেবার মূল লক্ষ্য। কৃষি প্রধান দেশ হিসেবে কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সহজলভ্য সব ধরনের প্রযুক্তিরই ব্যবহার করা উচিত।

অনুষ্ঠানে মুঠোফোনের মাধ্যমে বক্তব্য দেন সাংবাদিক শাইখ সিরাজ। তিনি বলেন, কৃষকদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য এইরকম সব বিশেষ সেবা চালু করা উচিত। তবে সব ক্ষেত্রে এসব সেবা আনতে হবে ‘নামমাত্র’ মূল্যে। এদেশের কৃষকদের অনেকেই এন্ড্রোয়েড অপারেটিং সিস্টেম পরিচালিত মুঠোফোন ব্যবহার করে থাকেন। আশা করি, দেশে একদিন এমন সব এন্ড্রোয়েড সফটওয়্যারের আবিষ্কার হবে যার মাধ্যমে কৃষক মুঠোফোনের সাহায্যে বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন। এই ধরনের সেবার পাশাপাশি কৃষকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে এগিয়ে নিতে আরও নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা প্রয়োজন। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সুমাইয়া সাদিয়া রায়হান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এই সেবার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি সাত দিনে পাঁচ টাকা। ভয়েস মেসেজগুলো বিকেল চারটা থেকে রাত আটটার মধ্যে পাঠানো হবে।