২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই দিন পরে পুঁজিবাজারে সূচকের পতন

  • চাহিদার শীর্ষে ছোট মূলধনী কোম্পানি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দু’দিন উর্ধমুখী ধারায় লেনদেনের পর ফের দরপতন পুঁজিবাজারে। সোমবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। এদিন ডিএসইতে ৬২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। বড় ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির দরপতনের দিনে ছোট মূলধনী কোম্পানিগুলোর দর বেড়েছে বেশি। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতি ও রবিবার পুঁজিবাজারে উর্ধমুখী ধারায় লেনদেন হয়েছিল। মাত্র দুই কার্যদিবস পরই সোমবার লেনদেন হয়েছে পতনে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সোমবার ডিএসইতে ৪৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১০১ কোটি টাকা বা ১৮ শতাংশ কম। আগের দিন এ বাজারে লেনদেন হয়েছিল ৫৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ৩১৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এরমধ্যে দর বেড়েছে ৭৭টির, কমেছে ১৯৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১টির শেয়ার দর।

সকালে ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর কিছুক্ষণ পরই বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তোলার চাপ বাড়তে থাকে। ফলে দ্রুতই সূচকের পতন ঘটতে থাকে। দিনশেষে ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্যসূচক ৪৬ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৬০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ১১০ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৫৬ পয়েন্টে।

পরিশোধিত মূলধনের দিক থেকে দেখা যায়, সোমবারের বাজারে চাহিদা কম ছিল ৩০০ কোটি টাকার উপরে পরিশোধিত মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, যা আগের দিনের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে বেড়েছে ২০-৫০ কোটি টাকার মূলধনী প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, যা আগের দিনের তুলনায় ৩১.৪৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ০-২০ এবং ৫০-১০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনী প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের পরিমাণ রবিবারের তুলনায় সোমবার কমেছে ২৭.০৪ এবং ১৮.৮১ শতাংশ।

অন্যদিকে পিই রেশিও ২০-৪০ এর মধ্যে থাকা শেয়ারের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ৩৮.৬৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে পিই রেশিও ০-২০ এর মধ্যে থাকা শেয়ারের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় ২৯.৬ শতাংশ কমেছে। ৪০-এর উপরে থাকা শেয়ারের লেনদেন আগের তুলনায় ২০.৩২ শতাংশ বেড়েছে।

ক্যাটাগরির দিক থেকে সোমবার পিছিয়েছিল ‘এন’ ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন, যা আগের দিনের তুলনায় ৬২.০১ শতাংশ লেনদেন কমেছে। এর বিপরীতে ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন রবিবারের তুলনায় বেড়েছে ৬২.৪০ শতাংশ।

ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানি হলো- কাশেম ড্রাইসেলস, বিএসআরএম স্টিলস, আফতাব অটোমোবাইলস, সাইফ পাওয়ারটেক, গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, কেডিএস এক্সেসরিজ, ইফাদ অটোস, বেক্সিমকো ফার্মা এবং লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট।

ডিএসইর দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো- হাক্কানী পাল্প, জিকিউ বলপেন, এ্যাপেক্স স্পিনিং, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, কেয়া কসমেটিকস, চতুর্থ আইসিবি, নিটল ইন্স্যুরেন্স, ওয়াটা কেমিক্যাল ও গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স।

সোমবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন সিএসই সার্বিক সূচক ১৭০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৪৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এরমধ্যে দর বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৪৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টির।

সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো- লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ফার কেমিক্যাল, বিএসআরএম স্টিল, আফতাব অটোস, কেডিএস এক্সেসরিজ, কাসেম ড্রাইসেলস, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, গোল্ডেন সন, ইফাদ অটোস ও বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড।