১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুনর্অর্থায়নের তহিবলে ঋণ পেলেন ২৫ হাজার বিনিয়োগকারী

  • ঋণ আবেদনে সাড়া কম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনর্অর্থায়ন তহবিলের আওতায় ঋণ পেয়েছেন ২৪ হাজার ৯৮৮ অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার বিনিয়োগকারী। তবে বহু কাক্সিক্ষত এই ঋণ পেতে খুব বেশি আগ্রহী নন বিনিয়োগকারীরা। বাজারে প্রণোদনার অংশ হিসেবে পুনর্অর্থায়ন তহবিলের আওতায় ৩৪টি সিকিউরিটিজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৩৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাস পর্যন্ত অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফ ও মাত্র ৯ শতাংশ সুদে ঋণ রি-সিডিউলিংয়ের সুবিধা প্রাপ্তির আবেদন করার সুযোগ রেখেছে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। এ সময়ের মধ্যে যারা পুনর্অর্থায়ন তহবিলের আওতায় সুদ মওকুফ ও ঋণ পুনর্তফসিলীকরণের সুবিধা নিতে চান তারা। সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন বলে আইসিবি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে তৃতীয় কিস্তির ৩০০ কোটি টাকার জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করা হয়েছে বলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র এবং পুনর্অর্থায়ন তদারকি কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সাইফুর রহমান। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ আমরা যথাযথভাবে বণ্টন করেছি। এখনও আবেদন জমা পড়ছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে ঋণ সুবিধা প্রদান করছি। এখন পর্যন্ত ৩৪টি সিকিউরিটিজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংককে ৬৩৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেউ একাধিবার ঋণ সুবিধা নিয়েছে আবার কাউকে এই সুবিধা প্রাপ্তিতে নাকচ করে দেয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, অগ্রণী ইক্যুইটি এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ঋণ প্রাপ্তির আবেদন নাকচ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৩৪টি সিকিউরিটিজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকে ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড প্রথম দফায় ৪ হাজার ৩৬২ জন বিনিয়োগকারীর বিপরীতে ৮ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা ভোগ করেছে। দ্বিতীয় দফায় প্রতিষ্ঠানটি ৫ হাজার ৭৪৬ জন বিনিয়োগকারীর বিপরীতে ৭ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা নিয়েছে। এছাড়া ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ২ হাজার ২৮৫ জন বিনিয়োগকারীর বিপরীতে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ১ হাজার ৪৮২ জন বিনিয়োগকারীর বিপরীতে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, জনতা ক্যাপিটাল এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ৭৯৬ জন বিনিয়োগকারীর বিপরীতে ৪ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা নিয়েছে।

ঋণ সুবিধা প্রাপ্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান হলো : গ্রিনল্যান্ড ইক্যুইটিজ, বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট, আইআইডিএফসি সিকিউরিটিজ, ব্যাঙ্কা ফাইন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এ্যান্ড সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টক এ্যান্ড বন্ড, আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট, সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস, প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বিএলআই ক্যাপিটাল লিমিটেড, পিএফআই সিকিউরিটিজ, রিলায়েন্স ব্রোকারেজ সার্ভিসেস লিমিটেড, মিকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টস, প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সার্প সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এনসিসিবি সিকিউরিটিজ এ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ফিনিক্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এআইবিএল ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেড, এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, ফাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড ঋণ সুবিধা নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী সরবরাহ এবং যাবতীয় দলিলাদি সম্পাদন করতে আইসিবিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২২ আগস্ট অর্থ ছাড়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও আইসিবির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২৬ আগস্ট পুনর্অর্থায়ন তহবিলের প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি টাকা ছাড় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর পুনর্অর্থায়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহার করতে তদারকি কমিটি গঠন হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোঃ সাইফুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫ জন। এর মধ্যে রয়েছেন– বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মহাব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিএসইসির পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ও আইসিবির উপ-মহাব্যবস্থাপক তারেক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।