২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নোট বাছাইয়ের নির্দেশনা না মানলে অর্থদণ্ড

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ যথাযথভাবে নোট বাছাই (সর্টিং) করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়ার নির্দেশনা মানছে না দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো। নতুন, পুরনো, ছেঁড়া, ফাটা সব নোটের ক্ষেত্রেই হ-য-ব-র-ল পাকিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা করছে ব্যাংকগুলো। এতে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোট পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের। ব্যাংকগুলোর এমন আচরণে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ব্যাংক। এমন অবস্থায় ব্যাংকগুলোকে তিনভাগে বিভক্ত করে নোট জমার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নোট জমাদানকালে ব্যাংকগুলোকে পুনঃপ্রচলনযোগ্য, অপ্রচলনযোগ্য ও মিউটিলেটেড নোট আলাদাভাবে জমা দিতে হবে। এ নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নেগেটিভ পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে অর্থদ-ে দ-িত করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থদ- করার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসরণ করা হবে। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এমন নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করা হয়েছে। যা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, যথাযথভাবে নোট বাছাই, বাংলাদেশ ব্যাংকে নোট জমা দেয়া ও নেয়া, নোটে তোড়া বাঁধার নিয়ম-কানুন, জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে করণীয়, ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের জন্য পর্যাপ্ত ধাতব মুদ্রার ব্যবস্থা রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে চলতি বছরের শুরুতে কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করা হয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকে নোট জমা দেয়ার সময় প্রচলনযোগ্য ও অপ্রচলনযোগ্য নোট আলাদাভাবে জমা দিতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা মানছে না। বিষয়টি নিয়ে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যিক ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঐ বৈঠকে নোট সর্টিংয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন, লেনদেন ও এটিএমে টাকা ঢোকানোর আগে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিনের ব্যবহার ও ছোট মূল্যমানের নোট গ্রহণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কিন্তু তারপরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন হয়নি। ফলে নতুন করে আবারও সার্কুলার জারি করতে বাধ্য হলো বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলো যথাযথভাবে নোট বাছাই না করার কারণে পুনঃপ্রচলনযোগ্য ও অপ্রচলনযোগ্য নোটে তালগোল পাকিয়ে ফেলছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোটের সঙ্গে অপ্রচলনযোগ্য নোট মিশিয়ে ফেলছে। আবার প্রচলনযোগ্য নোটের পাশাপাশি ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ, ময়লা ও বাতিল নোটের তোড়া বাঁধার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম ফলো করছে না ব্যাংকগুলো। এতে মহাঝামেলায় পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নোট পরীক্ষকদের। পাশাপাশি তাদের পুনরায় নোট সর্টিং করতে হওয়ায় সময় ও শ্রম দুটোই বেশি বেশি ব্যয় হচ্ছে।

নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টিতে নোট জমাদানকালে যথাযথভাবে তা সটিং করে জমার নির্দেশনা দিয়ে বিভিন্ন সময়ে সার্কুলার জারি করা হয়েছে। কিন্তু ইস্যুকৃত সার্কুলারের নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পরিপালিত হচ্ছে না মর্মে ইদানীং পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা মোটেও কাম্য নয়। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে পুনঃপ্রচলনযোগ্য, অপ্রচলনযোগ্য এবং মিউটিলেটেড এ তিনভাগে নোট বিভক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোটের সঙ্গে অপ্রচলনযোগ্য, মিউটিলেটেড ও দাবিযোগ্য নোট; অপ্রচলনযোগ্য নোটের সঙ্গে পুনঃপ্রচলনযোগ্য, মিউটিলেটেড ও দাবিযোগ্য নোট এবং মিউটিলেটেড নোটের সঙ্গে পুনঃপ্রচলনযোগ্য, অপ্রচলনযোগ্য ও দাবিযোগ্য নোট যেন মিশ্রিত না থাকে সেটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, এ নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোকে নেগেটিভ পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক কোম্পানি আইনে অর্থদ-ে দ-িত করা হবে। নেগেটিভ পয়েন্ট নির্ণয় করার জন্য সার্কুলারের সঙ্গে একটি নীতিমালা সংযোজন করে দেয়া হয়েছে।

পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোটের বৈশিষ্ট্য ॥ অত্যধিক ময়লাযুক্ত, নোটের ওপর একাধিক সিল, দুইটির অধিক অনুস্বাক্ষর/স্বাক্ষর বা সংখ্যা, অপ্রয়োজনীয় লেখা বা দাগ, নোটে মরিচার চিহ্ন, নোটে অল্প রং লাগানো।

মিউটিলেটেড নোটের বৈশিষ্ট্য ॥ টেপযুক্ত নোট, দুই খ-ে খ-িত নোট, নোটের কোন অংশ অনুপস্থিত এবং অনুপস্থিতির পরিমাণ নোটের আয়তনের ১০ শতাংশের কম।

দাবিযোগ্য নোটের বৈশিষ্ট্য ॥ দুইয়ের অধিক খ-ে খ-িত নোট, নোটের কোন অংশ অনুপস্থিত এবং অনুপস্থিতির পরিমাণ নোটের আয়তনের ১০ শতাংশের বেীি, আগুনে পোড়া বা আগুনের আঁচ লাগানো নোট, ড্যাম্প নোট, নোটে বেশি রং লাগানো। পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোটের বৈশিষ্ট্য ॥ অপ্রচলনযোগ্য, মিউটিলেটেড ও দাবিযোগ্য নোটগুলো ব্যতীত যে সকল নোট পুনরায় প্রচলনে দেয়ার মতো পরিচ্ছন্ন, সে সকল নোট পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট হিসেবে গণ্য হবে।