২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১৪ শতাংশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নবেম্বর) রাজস্ব অর্জিত হয়েছে ৫৪ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৪৭ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ১৪ শতাংশ। একক মাস হিসেবে নবেম্বরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, গত নবেম্বরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ হাজার ৬৮ কোটি টাকা, যা গত বছরের নবেম্বরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। গত বছরের নবেম্বরে আদায় হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে এনবিআরকে। অর্র্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে বছর শেষে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি এক প্রাক্কলনে জানিয়েছে, অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার চাইতে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

অবশ্য এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান মনে করেন, বছর শেষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায়ে গতি বেড়েছে। গেল নবেম্বরের রাজস্ব আদায়ে ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এর বড় প্রমাণ। তিনি বলেন, পেট্রোবাংলা ও বিপিসির কাছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মামলায় আটকে থাকা ৩১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব উদ্ধারেও তৎপরতা শুরু হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকা-ে গতি ফেরায় আমদানি রফতানিতে গতি ফেরা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নে অগ্রগতির ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের শুরুতে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও কাক্সিক্ষত পরিমাণে আদায় না হওয়ায় পরবর্তীতে তা কমিয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। বছর শেষে অবশ্য ওই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা হলেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশের কিছু বেশি। চলতি বছর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ শতাংশ।

১২ ডিসেম্বর ঢাকায় আসছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের আমন্ত্রণে আগামী ১২ ডিসেম্বর ৪ দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কৌশিক বসু। সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন কর্মসূচীর তথ্য তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল। দেশের অর্থনীতির জন্য সহায়ক পরামর্শ গ্রহণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের তাঁর গবেষণালব্দ জ্ঞান থেকে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্দেশ্যেই তাঁকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিরূপাক্ষ পাল। ঢাকায় এসে কৌশিক বসু যে সব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন তার মধ্যে রয়েছে, রফতানিমুখী শিল্পের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন, ‘বিশ্ব অর্থনীতি, বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা’ বিষয়ের ওপর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গণবক্তৃতা প্রদান, ‘সামষ্টিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি খাতের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’বিষয়ক গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র দেখতে মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং সবশেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।

১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা সফর শেষে ভারতের উদ্দেশে রওনা হবেন।