১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল নির্মাণে আর বাধা নেই

  • ভূমি অধিগ্রহণ শীঘ্রই

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (ছাড়পত্র) পাওয়ায় সাগর পাড়ে বে-টার্মিনাল নির্মাণে আর কোন জটিলতা নেই। সোমবার বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমি কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে প্রত্যাশিত সেই ছাড়পত্র। শীঘ্রই শুরু হবে টার্মিনালের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ। ৯০৭ একর ভূমিতে এ টার্মিনাল হবে একটি বিকল্প বন্দর। এতে ভিড়তে পারবে অনেক বড় জাহাজ। ফলে বন্দরের ক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতা দুটোই বেড়ে যাবে। দেশের আমদানি-রফতানি ক্রমশ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা রেখে এই টার্মিনাল নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চউকের ছাড়পত্র প্রয়োজন ছিল। এই ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতাও ছিল। জমি নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এই দুটি সংস্থার মধ্যে বিরোধও ছিল। কিন্তু এখন আর কোন বাধা নেই। দ্রুততার সঙ্গে বিশাল এই কাজটি শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

এর আগে গত রবিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চীফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম মঞ্জুরুল করিম চৌধুরীর কার্যালয়ে যান চউক আউটার রিং রোড প্রকল্পের পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস। সেখানে আউটার রিং রোড প্রকল্পের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এলাকার মাটি ভরাট কাজের অনুমতির বিষয়ে কথা হয়। বে-টার্মিনালের ক্ষতি হবে না এমন এলাকা থেকে মাটি উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার ওই এলাকা থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগে ড্রেজার বাল্কহেড আটক করেছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে, বে-টার্মিনালের পরিবর্তিত নক্সা নিয়ে চউকের নগর পরিকল্পনাবিদ জহির উদ্দিন আহমেদের কার্যালয়ে যান বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান ভূমি কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান। সেখানেও নতুন নক্সা পর্যালোচনা করে টার্মিনাল নির্মাণের আশ্বাস মেলে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবে রয়েছে, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বে-টার্মিনাল নির্মাণ, যা হবে একটি বিকল্প বন্দর। ৯ দশমিক ৭ একর জায়গায় এ বিকল্প বন্দর নির্মিত হলে ৫ হাজার কন্টেনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে। অথচ জোয়ার-ভাটা নির্ভর বর্তমান বন্দর টার্মিনালে প্রবেশ করতে পারে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮শ’ কন্টেনারবাহী জাহাজ। টার্মিনালটি নির্মিত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের উৎপাদন ও গতিশীলতা অনেক বেড়ে যাবে। কেননা, বে-টার্মিনালে ভিড়তে পারবে ১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজও। বর্তমানে ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম জানান, নগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে আউটার রিং রোড নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু এ রিং রোড দিয়ে যদি বন্দরের ভারি যানবাহন চলাচল শুরু করে তাহলে সুফল মিলবে না। সে কারণে বন্দরকে শর্ত দেয়া হয়েছে যে, রিং রোড দিয়ে বন্দরের গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। বন্দরও এ শর্ত মেনে নিয়েছে। বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ছাড়পত্র প্রদানের সিদ্ধান্তও হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।