২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সন্ত্রাসী হুমকি বিপজ্জনক পর্যায়ে

  • ইসলাম নয়, যুদ্ধ জঙ্গীদের বিরুদ্ধে ॥ জাতির উদ্দেশে ভাষণে ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইসলামিক স্টেট সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু তিনি সেই উদ্দেশ্যে ইরাক ও সিরিয়াতে মার্কিন স্থলসৈন্য মোতায়েন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট রবিবার ২০১০ সালের পর ওভাল অফিস থেকে দেয়া তার প্রথম ভাষণে জিহাদী দলটিকে দমন করার কোন নতুন পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে জানাতেও ব্যর্থ হয়েছেন। খবর এক্সপ্রেস অনলাইন ও ইয়াহু নিউজের।

প্রেসিডেন্ট ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সন্ত্রাসী হুমকি এক বিপজ্জনক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে আমেরিকানদের সতর্ক করে দেন। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনার পর তিনি এ কথা বললেন। তবে তিনি ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও অন্যান্য জঙ্গী দলকে ধ্বংস করে দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ওবামা ইসলামপন্থী জঙ্গীদের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে মার্কিন জনগণের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ প্রশমিত করতে চেয়েছেন। এ লড়াই এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চলছিল বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তিনি তার কৌশলের ক্ষেত্রে কোন বড় রকমের পরিবর্তনের আভাস দেননি। কৌশল যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে সমালোচনার মুখে পড়েছে। ওবামা কী করবেন এবং কী করবেন না, তা সতর্কতার সঙ্গে উল্লেখ করেন। যেমন তিনি যে কোন স্থানেই সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে প্রচারিত ওই ভাষণে বলেন, আমাদের ইরাক বা সিরিয়ায় এক দীর্ঘমেয়াদী স্থলযুদ্ধে আরেকবার জড়িত হওয়া উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক ও তার পাকিস্তানী স্ত্রী তাশফিন ক্যালিফোর্নিয়ার সান বারনারডিনো শহরে সিভিল সার্জেন্টদের এক হলিডে পার্টিতে গুলি করে ১৪ ব্যক্তিকে হত্যা করার চার দিন পর ওবামা ওই ভাষণ দিলেন। ওই দম্পতি কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে নিহত হন। ওবামা ওই হামলাকে নিরীহ জনগণকে হত্যার লক্ষ্যে পরিকল্পিত এ সন্ত্রাসী কাজ বলে নিন্দা জানান। কিন্তু তিনি একথাও বলেন যে, সন্ত্রাসী হুমকি যে এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা সান বারনারডিনো ঘটনা থেকে দেখা যায়। কারণ ইসলামিক স্টেট সম্ভাব্য হত্যাকারীদের মন বিষিয়ে দিতে ইন্টারনেটকে কাজে লাগাচ্ছে। বন্দুক নিয়ন্ত্রণেও ওবামার ভাষণের আরেক বড় বিষয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দাফা হত্যাকা-ের পর তিনি বারবার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। আবারও তিনি বন্দুক সংগ্রহের ওপর কড়াকড়ি আরোপের পক্ষে বললেন। আইএসের প্ররোচনায় ক্যালিফোর্নিয়ার আধা-সামরিক ধাঁচের ওই হামলা সংঘটিত হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে এফবিআই তদন্ত করছে। আইএস সিরিয়া ও ইরানের বিরাট ভূখ- নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কিন্তু ওবামা বলেন, ক্যালিফোর্নিয়া হামলা বিদেশের কোন জঙ্গী দলের নির্দেশিত বা স্বদেশের কোন বড় ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তথাপি ওবামা দেখাতে চান যে, তার প্রশাসন সঙ্কটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও দেশে বেড়ে ওঠা চরমপন্থীর বিরুদ্ধে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন নতুন প্রশ্ন উঠছে।

ওবামা বলেন, সন্ত্রাসবাদের হুমকি বাস্তব, কিন্তু আমরা তা কাটিয়ে উঠব। একই সময়ে ওবামা দেশে জঙ্গী হুমকির বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, আমরা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইকে আমেরিকা ও ইসলামের মধ্যকার লড়াই হিসেবে চিহ্নিত করে একে অপরের শত্রু হয়ে উঠতে পারি না। তিনি কয়েক কড়া সমালোচকের জবাব দিচ্ছিলেন। তারা মুসলিম আমেরিকানদের জন্য পৃথক তালিকা তৈরির আহ্বান জানান। ওবামা বলেন, ইসলামিক স্টেট ইসলামের পক্ষে কথা বলছে না। তারা দস্যু ও হত্যাকারী। তারা বিশ্বের এক শ’ কোটিরও বেশি মুসলমানের এক অতি ক্ষুদ্র অংশ। ওবামা আইএস ও আল কায়েদার ঘৃণাপূর্ণ মতাবাদ চূড়ান্ত ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করতে আমেরিকা ও বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানান।