২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংকের অংশীদার হচ্ছে ৫৭ দেশ

  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান গড়তে সফল চীন

২০১৩ সালের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার অবকাশ শহর বালিতে চলছিল বিশ্ব নেতৃবৃন্দের এক বৈঠক। এই বৈঠকেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছিলেন যে চীন একটি বহুজাতিক শত কোটি ডলার ব্যাংক তৈরির স্বপ্ন দেখছে। যার লক্ষ্য হবে এশিয়ার পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্থায়ন করে। মার্কিন পরররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি জিনপিংয়ের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

এ নিয়ে চীনের আশাবাদ মিলিয়ে যেতে অবশ্য খুব বেশি সময় লাগেনি। কারণ মৌখিকভাবে স্বাগত জানালেও বিশ্বব্যাংকের প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু গড়ার ঘোর বিরোধী ছিল যুক্তরাষ্ট্র। চীন যেন সেরকম কিছু করতে না পারে সেজন্য নড়েচড়ে বসে ওবামা প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল যে, চীন নিজস্ব বৈশ্বিক কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যেতে যায়। পরিবেশ সুরক্ষা, মানবাধিকার ও দুর্নীতি দমনের মতো ইস্যুগুলো চীনের অবস্থান নিয়ে পশ্চিমা মানদ-ে উত্তীর্ণ নয় বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে। এছাড়া চীন সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের অস্থিতিশীল দেশের সরকারকে বড় অংকের ঋণ দিয়েছে, অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করছে যা করতে গিয়ে নাম মাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুরো একটি এলাকা থেকে জনবসতি উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাই ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে সঙ্গত কারণে চীনের নতুন উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা আটকানোর সব চেষ্টাই করা হয়েছে।

তবে চীনের পরিকল্পনা আটকে থাকেনি। মার্কিন পশ্চিমা মিত্রদের অনেকে এগিয়ে এসেছে চীনের সমর্থনে। ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৫৭টি দেশ চীনের নতুন ব্যাংকের অংশীদার হতে সম্মতি জানিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তালিকার বাইরে রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী। নয়া বাণিজ্যিক প্রতিপত্তি স্বীকৃতি স্বরূপ চীনের মুদ্রা রেনমিনবিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএফএফ) সম্প্রতি মর্যাদাপূর্ণ মুদ্রার ক্যাটাগরিভুক্ত করেছে। এই ক্যাটাগরিতে আগে থেকে ছিল ডলার, ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েন। এরপর নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেকে নতুন করে তুলে ধরারই চেষ্টা চীনের। বেজিংয়ের আশা আর্থিক ও রাজনৈতিকভাবে তার পরিকল্পনাগুলোর বৈধতা আদায় এখন সহজ হবে।

নতুন বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে চীন কি ধরনের ভূমিকা পালন করতে চায় তার ধারণা দেবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এশীয় অবকাঠামো ও বিনিয়োগ ব্যাংক)। বিশ্লেষকরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শ্রম অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চীনের দর কষাকষির করার সুযোগ আরও বাড়বে। এসব ব্যাপারে চীনের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পশ্চিমাদের অনেক আগে থেকেই মতপার্থক্য রয়েছে। চীনের কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, তারা বিশ্বব্যাংক, আইএফএফ বা এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রকল্প নজরদারির দিকে মনোযোগী হবেন না। বরং তারা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেবেন। এছাড়া এই ব্যাংকের প্রধান বিনিয়োগ ক্ষেত্র হবে অবকাঠামো। আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজালের কারণে এশিয়ার বিভিন্ন অনুন্নত অংশে রেলপথ, বন্দর ও বিদ্যুত উন্নয়ন খাতে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাংক, আইএফএফ বা এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক আট ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেনি। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস।