১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরও হামলার পরিকল্পনা ছিল ফারুক-তাসফিন দম্পতির

ক্যালিফোর্নিয়া হামলাকারী দম্পতি সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক ও তাসফিন মালিকের অস্ত্রের মজুদ দেখে মার্কিন তদন্তকারীদের ধারণা ক্রমশ দৃঢ় হচ্ছে যে, তাদের একাধিক হামলার পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি তাসফিন তার মার্কিন নাগরিক স্বামীকে চরমপন্থীতে পরিণত করেছিল কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে রবিবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর ইয়াহু নিউজের।

মার্কিন সরকারের এক সিনিয়র সূত্র জানিয়েছে, তদন্তকারীদের বিশ্বাস, তাসফিন ও ফারুক আরও হামলা চালাতে অস্ত্রের এই বিশাল মজুদ করেছিল। তবে তাদের কাছে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য সম্পর্কে কোন প্রমাণ নেই। সান বারনারডিনো শহরের ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে বুধবার এক পার্টিতে রাইফেল নিয়ে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান তাসফিন ও ফারুক। এতে ১৪ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়। হামলার পরপরই পুলিশের অভিযানে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ওই দম্পতি নিহত হয়। পরে তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, অস্ত্র ও পাঁচ হাজার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, কর্তৃপক্ষ জানার চেষ্টা করছে যে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে ইসলামপন্থী জঙ্গীদের সঙ্গে তাসফিনের যোগাযোগ কেমন ছিল। তাসফিন ২৫ বছর আগে ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে যান এবং সেখান থেকে ২০০৭ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তান যান। তাসফিন বিদেশে থেকেই চরমপন্থী হয়েছিলেন নাকি তিনি তার স্বামীকে চরমপন্থীতে পরিণত করেন, এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ নেই তদন্তকারীদের কাছে। তারা এখন এ বিষয়ে জোর তদন্ত চালাচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হাউস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান মাইকেল ম্যাককাউল রবিবার ফক্স নিউজকে বলেছেন, তাসফিন পাকিস্তান ও সৌদি আরবে কি কি করেছেন সে বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত চলছে। আমরা ধারণা করছি যে, মৌলবাদ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত অনেক কিছুই করেছেন তিনি এবং খুব সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই ফারুককে মৌলবাদীতে পরিণত করেছেন। তাসফিনই এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। অস্ত্র কিনতে এই দম্পতির অর্থের উৎসের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে এই দম্পতির সম্পর্কের বিষয়টি এখনও অস্পষ্ট। তারা নিজেদের আইএসের অনুসারী বলে দাবি করেছে। তাদের আইএস হয়ত হামলা চালাতে অনুপ্রাণিত করে।