২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চৌগাছায় দলীয় নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে

  • পাল্টে যাচ্ছে হিসাব

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ চৌগাছা পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে অধিকাংশ দলীয় নেতাকর্মী এখন মাঠে। এতে দলীয় প্রার্থী পড়েছে বিপাকে। দলীয় প্রার্থী তার অনুগতদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় পৌর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক নূরউদ্দীন আল মামুন হিমেলকে। খবরটি শোনা মাত্রই হিমেলের কর্মী সমর্থক আনন্দ উল্লাস করে। কিন্তু ক্ষোভে ফেটে পড়ে পৌর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তারা এ মনোনয়নকে প্রত্যাখ্যান করে। এক পর্যায়ে গত ৩ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ও বিগত পৌরসভা নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত প্রার্থী এসএ সাইফুর রহমান বাবুল দলীয় নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের পরামর্শে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম জমা দেন। এতে নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ পাল্টাতে থাকে। এ অবস্থায় দলীয় মনোনীত প্রার্থীর নৌকা প্রতীক বৈতরণী পার হতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পৌর এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনোনয়ন বঞ্চিত এসএম বাবুলকে সমর্থন দিয়েছে বলে একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাবুলের পক্ষে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছে। এ বিষয়ে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আশাদুল ইসলাম বলেন, নিজেদের সম্মান রক্ষার জন্য বাবুলের পক্ষে ভোট করতে হবে। কেন্দ্র ভুল করলে সেই ভুল আমরাতো করতে পারিনে। ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ জানান, দল হিমেলকে দিতে পারে। কিন্তু জনসমর্থনে বাবুল এগিয়ে রয়েছে। ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জানান, রাজনীতির মাঠে ময়দানে বাবুল রয়েছে। গত নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে বাবুল পরাজিত হন। দলীয় মনোনয়ন এবার তাকে দেয়া উচিত ছিল। ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহম্মদ আলী খোকন বলেন, নৌকা প্রতীকের বাইরে যাবার সুযোগ নেই। এটুকুই মন্তব্য করেন তিনি। তবে এ ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, রাজনীতির মাঠে ময়দানে বাবুল রয়েছে। তার যে ভীত তৈরি হয়েছে সেটা কেউ নষ্ট করতে পারবে না। ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মগরেব বিশ্বাস বলেন, তৃণমূল নেতাদের মূল্যায়ন না করে যাকে তাকে মনোনয়ন দিলে তো হবে না। ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান শেখ বলেন, সব জায়গায় রাজনীতির মারপ্যাঁচ চলে না। হিমেলকে মনোনয়ন দিলেই তো হবে না? অনেক হিসাব-নিকাশ আছে। হিমেলের অনেক সুযোগ ছিল। বয়সও খুব কম। তাই এবার বাবুলের মনোনয়ন দেয়া উচিত ছিল। ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিবুর রহমান কোন মন্তব্য করেননি। তবে সাধারণ সম্পাদক শ্যামল শিকদার বলেন, বাবুলের পক্ষে মাঠে নেমেছি বলে আমার ওপর খুব চাপ আসছে। গত ৩ ডিসেম্বর রাতে হিমেলের পক্ষের সুমন সরকার ও শাহীন আমার ও আমার স্ত্রী অনিতা শিকদারকে শাসিয়েছে। ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মহাসীন আলী জানান, আমি এতটুকু জানি আমার ওয়ার্ডে হিমেলের ভোট নেই। কেন্দ্র আমাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলল। ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রমজান আলী ঝন্টু তার ওয়ার্ড ও সার্বিক বিষয়ে জানান, দল যদি বেইমানি করে তাহলে আমরা বেইমানি করলে দোষ কী? আমরা তো প্রকৃত যোগ্য এবং রাজনীতির মাঠে যে আছে তার সঙ্গে আছি। একই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা জানান, দলের বাইরে যাবার সুযোগ নেই। নৌকা প্রতীকের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। সারাজীবন নৌকায় ভোট দিয়েছি।

এ বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ জাহিদুর রহমান বকুল জানান, তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাদের মতামত চাওয়া হয়েছিল। আমরা যোগ্যতানুসারে এসএম সাইফুর রহমান বাবুলের নাম প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করে লিখিত দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা প্রতিফলিত হয়নি এবং আমাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করা যাবে না। একইভাবে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুজিদ বলেন, আমাদের সামান্যতম মূল্যায়ন করা হয়নি। তাহলে মতামত দিয়ে কি লাভ?