১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুপেয় পানির সঙ্কট

বিশ্বে নিরাপদ বা সুপেয় পানির সঙ্কট বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অমূল্য এই পানি সম্পদের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। প্রতিদিনই সুপেয় পানির উৎসগুলো দূষণের শিকার হচ্ছে। চারদিকে পানি আর পানি, কিন্তু কোথাও যেন পানযোগ্য পানি নেই। এমনই এক পরিস্থিতি যেন ধেয়ে আসছে পৃথিবীতে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সারা বিশ্বে যে পরিমাণ পানি রয়েছে তার মধ্যে মাত্র দশমিক শূন্য ১৪ ভাগ খাবার পানি রয়েছে। ৯৭ দশমিক ৪১ ভাগ পানি লবণাক্ত। বাকি ২ দশমিক ৫৯ ভাগ পানির অবস্থান কয়লা খনি বা মাটির এত নিচে যে এ পানি পাওয়া কঠিন।

২০১৩ সালে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক যৌথ সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বের সিংহভাগ মানুষের নিরাপদ পানি পানের সুযোগ নেই। নিরাপদ পানির অভাবে বিশ্বে প্রতিদিন ১৪শ’ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। এই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বেশিরভাগই দরিদ্র শ্রেণীর। বৃহত্তর এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও। বিশ্বে নিরাপদ পানি সঙ্কটের দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পানি এখন আলোচনার বিষয়। দেশের প্রায় তিন কোটি মানুষ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত। পরিসংখ্যানটি শঙ্কিত হওয়ার মতো। পরিসংখ্যান মতে, আমাদের দেশে সুপেয় পানির উৎসমূল থেকে যে পানি আসছে, সংরক্ষণাগারের অভাবে এসব পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। উৎসগুলোও নানাভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে। এ দূষণের জন্য আমরাই দায়ী। শুধু সুপেয় পানিই নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। দেশে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। বেশিরভাগ নদীর পানি প্রবাহ নেই, কোন কোন নদীর পানি কমে যাচ্ছে। যে পানি আছে তা দূষিত। পানি দূষণমুক্তকরণের যে ব্যবস্থা আছে তাও কার্যকর নয়। টিউবওয়েলে আর্সেনিক নামক বিষের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। পানি নিয়ে সমস্যা এখানেই শেষ নয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের পানি সঙ্কট মরুভূমিতে রূপ নিচ্ছে। সেখানকার ৫৫টি নদী পানিশূন্যতায় ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। দক্ষিণে লবণাক্ততার ছোবল, রয়েছে ভূগর্ভস্থ পানির অপ্রতুলতাও। কোন কোন স্থানে কৃষি কাজের উপযোগী পানির সঙ্কটও তীব্র আকার ধারণ করছে। বিষয়টি নিয়ে এখনই ভাবা উচিত।

বিশ্বে তিন ভাগ পানি আর এক ভাগ স্থল। পানির এতো প্রাচুর্য সত্ত্বেও খাবার উপযোগী পানি সঙ্কটের বিষয়টি চিন্তিত হওয়ার মতো। তাই পানি সঙ্কটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে ভাবা দরকার। সঙ্কট মোকাবেলায় স্থায়ী সমাধানের পথ সবাইকে খুঁজতে হবে। এই ক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানো, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধ করা, দূষণের মাত্রা কমানো, বনভূমির ধ্বংস রোধ করা এবং প্রকৃতির ওপর অত্যাচারের মাত্রা কমানো জরুরী। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিশ্বের কোন দেশই স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে না। এমনকি যেসব উন্নত দেশের কারণে এই সঙ্কটটি তীব্র আকার ধারণ করেছে সেসব দেশও না।

নিরাপদ পানির সঙ্কট দূর করতে দরকার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। পানি সংরক্ষণে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে, এ ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সুষ্ঠুভাবে ধারণ এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এজন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। তাই প্রয়োজন বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা- নিতে হবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।