২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রফতানিতে নগদ সহায়তার অনিয়ম

  • আবেদন দাখিল না করার পরামর্শ বাংলাদেশ ব্যাংকের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রফতানি না করেও প্রবাসীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে সেগুলো রফতানি আয় হিসাবে ব্যাংকে পাঠিয়ে এর বিপরীতে তুলে নেয়া হচ্ছে সহায়তার অর্থ। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে নগদ সহায়তার কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু রফতানিকারক। এই অনিয়ম ঠেকাতে রফতানি আয়ের ওপর নগদ সহায়তা কমানো হচ্ছে। এ নিয়ে আগামীকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক ডাকা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোন কোন ব্যাংক অর্থ ছাড় দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করছে। এরূপ আবেদন ভবিষ্যতে না করার জন্য দেশের কার্যরত সকল তলসিলি ব্যাংককে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, রফতানিকারকদের উৎসাহিত করতে রফতানি আয়ের ওপর ৩ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ ১০০ টাকার রফতানি আয় দেশে এলে রফতানিকারকদের সর্বোচ্চ ২০ টাকা নগদ সহায়তা দেয়া হয়। নগদ সহায়তা পেতে রফতানিকারকদের রফতানি আয় দেশে আনা বিষয়ক সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হয় ব্যাংকের কাছে। ব্যাংক তা যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকদের অনুকূলে অর্থ ছাড় দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সুপারিশ করে। ব্যাংকের সুপারিশের ভিত্তিতে রফতানিকারকদের অনুকূলে ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোন কোন ব্যাংক অর্থ ছাড় দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করছে। এমন আবেদন ভবিষ্যতে না করার জন্য দেশের কার্যরত সকল তলসিলি ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিছু রফতানিকারকের বিরুদ্ধে রফতানি বিল দেশে আনা বিষয়ক কাগজাদি ব্যাংকের কাছে দাখিল করার ক্ষেত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর সঙ্গে ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকে। এভাবে ভুয়া কাগজপত্র দাখিলের মাধ্যমে নগদ সহায়তার কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় অসাধু রফতানিকারকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে একাধিক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ও অডিট বিভাগের তদন্তে দেখা গেছে, রফতানি খাতে দেয়া বিকল্প নগদ সহায়তার অর্থের একটি অংশ নিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে। রফতানি না করেও প্রবাসীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে সেগুলো রফতানি আয় হিসাবে ব্যাংকে পাঠিয়ে এর বিপরীতে তুলে নেয়া হয়েছে সহায়তার অর্থ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক তদন্তে বেসরকারী খাতের একটি ব্যাংকে আলু, বোতল ও বস্ত্র রফতানির নামে সহায়তার সাড়ে ৮ কোটি টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা ধরা পড়ে। এরমধ্যে আলু রফতানিতে পৌনে দুই কোটি, বোতল রফতানিতে পৌনে দুই কোটি এবং বস্ত্র রফতানিতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। আরও সাতটি ব্যাংকে এ ধরনের জালিয়াতির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। এগুলোতেও জালিয়াতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকে তদন্ত করে ২০ কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে। এগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে আদায় করে সরকারের হিসাবে জমা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, কিছু অসাধু রফতানিকারক ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় রফতানি না করেই হুন্ডির মাধ্যমে ডলার এনে তা রফতানির মূল্য দেখিয়ে সরকারের নগদ সহায়তার অর্থ আত্মসাৎ করে। বিশেষ করে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে তা ব্যাংকে পাঠিয়ে এই কাজটি করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রফতানি সহায়তা তহবিলের এ জালিয়াতি কমাতেই রফতানি আয়ের ওপর নগদ সহায়তা কমানো হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ কমানো হবে তা আগামীকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রফতানি খাতে বিকল্প নগদ সহায়তার প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রফতানি উন্নয়ন ব্যুারো এবং রফতানিকারকরা উপস্থিত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।