২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৬৪ জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে কাল থেকে শুরু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব

৬৪ জেলার শিল্পকলা একাডেমিতে কাল থেকে শুরু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৫’ শুরু হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের সকল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে এবং ৬৪ জেলা শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ১৫ দিনে সারাদেশের একাডেমি মিলনায়তনে একযোগে একই ধরনের ২২টি দেশীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী, মস্হিউদ্দিন শাকের এবং মোরশেদুল ইসলাম। এ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে উৎসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্রকার মস্হিউদ্দিন শাকের, মোরশেদুল ইসলাম, চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াৎ, এই আয়োজনের আহ্বায়ক ও শিল্পকলার সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী ও একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক সারা আরা মাহমুদ।

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘সবার জন্য চলচ্চিত্র, সবার জন্য শিল্প সংস্কৃতি’ এই সেøাগান সামনে রেখে আমরা এগিয়ে চলেছি। চলচ্চিত্রের মতো একটি বিশাল শিল্প মাধ্যম জাতির শিল্পবোধ ও মনন গঠনে বিরাট ভূমিকা পালন করে। আমরা এই কার্যক্রমটি উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে চাই। ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই চলচ্চিত্রের সুফল। মস্হিউদ্দিন শাকের বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র ঘরে ঘরে পৌঁছতে না পারার একটি অন্যতম কারণ আমরা কখনই রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থাটি পাইনি। এই চলচ্চিত্র উৎসবের মধ্য দিয়ে ঢাকার বাইরের দর্শকরাও সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উপভোগের সুযোগ পাবেন।

মোরশেদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি ব্যাপক আয়োজন। আমি আগামীতে এই আয়োজনের সঙ্গে স্বল্পদৈর্ঘ্য এবং প্রামাণ্যচিত্রও সংযুক্ত করার পাশাপাশি জেলা শহরগুলোতে চলচ্চিত্র বিষয়ক সেমিনার আয়োজন করারও প্রস্তাব করছি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্বোধনী দিন সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে তারেক মাসুদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’। এই উৎসবে ১১ ডিসেম্বর থাকবে এ্যাডাম দৌলার ‘বৈষম্য’ (সকাল ১০টা), আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’ (বিকেল ৪টা), জহির রায়হানের ‘কাচের দেয়াল’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১২ ডিসেম্বর মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলীর ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ (বিকেল ৪টা), প্রসূন রহমানের ‘সুতপার ঠিকানা’ (সন্ধ্যা ৬টা)। ১৩ ডিসেম্বর গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১৪ ডিসেম্বর বাদল রহমানের ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১৫ ডিসেম্বর হারুনুর রশীদের ‘মেঘের অনেক রং’ (সন্ধ্যা ৬টা)। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে মোরশেদুল ইসলামের ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ (বিকেল ৪টা), নাসিরউদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১৭ ডিসেম্বর সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ (সন্ধ্যা ৬টা), ১৮ ডিসেম্বর নোমান রবিনের ‘কমন জেন্ডার’ (সকাল ১০টা), তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’ (বিকেল ৪টা), মুরাদ পারভেজের ‘বৃহন্নলা’ (সন্ধ্যা ৬টা)। ১৯ ডিসেম্বর আবু সাইয়ীদের ‘কীত্তনখোলা’ (বিকেল ৪টা), আকরাম খানের ‘ঘাসফুল’ (সন্ধ্যা ৬টা), ২০ ডিসেম্বর সাইদুল আনাম টুটুলের ‘আধিয়ার’ (সন্ধ্যা ৬টা), ২১ ডিসেম্বর তানভীর মোকাম্মেলের ‘লালন’ (সন্ধ্যা ৬টা), ২২ ডিসেম্বর সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকীর ‘ঘুড্ডি’ (সন্ধ্যা ৬টা), ২৩ ডিসেম্বর আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘সারেং বৌ’ (সন্ধ্যা ৬টা) এবং ২৪ ডিসেম্বর গাজী রাকায়েতের ‘মৃত্তিকা মায়া’ (সন্ধ্যা ৬টা)। উৎসবের চলচ্চিত্র উপভোগ করতে কোন টিকিট বা পাস লাগবে না।

রবীন্দ্র সরোবরে টিআইবির দুর্নীতিবিরোধী সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুগ্ধ দর্শক ॥ ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরের উন্মুক্ত মঞ্চ দর্শকের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভর্তি। প্রিয় শিল্পীদের গান সরাসরি উপভোগ করার আনন্দটাই যেন অন্য রকম এক অনুভূতি। কখন মঞ্চে উঠবেন শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, বাপ্পা মজুমদার, সায়ানসহ জনপ্রিয় শিল্পীরা। সেই আগ্রহ নিয়েই অপেক্ষা করছে সবাই। এমন সময় মাইকে ঘোষণা এলো, জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আজকের দুর্নীতিবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তরুণ সমাবেশ। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি। ‘জাগ্রত বিবেক দুর্জয় তারুণ্য- দুর্নীতি রুখবেই’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচীর আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গান, আবৃত্তি আর বিভিন্ন রকম কোরিওগ্রাফির মধ্য দিয়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে টিআইবির ইয়েস গ্রুপের শিল্পীরা। জাতীয় সঙ্গীতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিআইবির আউটরিচ এ্যান্ড কমুনিকেশনস বিভাগের পরিচালক রিজওয়ানউল আলম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের মহাসচিব কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। টিআইবির থিম সংয়ের সঙ্গে কোরিওগ্রাফিতে অংশ নেন আবিদা নিনাত জাহান, তানজিনা তাজিন ও নোমান মজুমদার। আবৃত্তি করেন ইয়েস গ্রুপের সদস্য সুমনা ইসলাম শিলা, ইশমত জাহান ও প্রত্যাসা। স্বরচিত গান পরিবেশন করেন নাঈমুল হক হৃদয়। এছাড়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী উর্মী ঘোষ। এরপর মঞ্চে আসেন শিল্পী সায়ান। তিনি একে একে তার জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় তার প্রাণোচ্ছল গানের মাধ্যমে দর্শককে মহিত করেন। শিল্পী বাপ্পা এ্যান্ড ফেন্ডস’র পরিবেশনা ছিল মনোমুগ্ধকর।

ইস্ট কস্ট গ্রুপ একাত্তর এস্নাফস ফটো প্রদর্শনী সিজন ফোর উদ্বোধন ॥ গ্যালারিতে প্রবেশ করেই চোখে পড়বে নারী ও পুরুষের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি, চিন্তামগ্ন পাহাড়ী বৃদ্ধা, শ্রীমঙ্গল ট্রেন লাইনের ওপর দিয়ে ঝাকা মাথায় মধ্য বয়সী পুরুষ, কোরোসিনের আলোয় অধ্যয়নরত স্কুল বালিকা, সুয়ারেজের পাইপে প্রান্তিক শিশুদের অবস্থানসহ নানা আলোকচিত্র। এ সকল ছবি নিয়ে দৃক গ্যালারিতে ‘ইস্ট কস্ট একাত্তর এস্নাফস ফটো প্রদর্শনী সিজর ফোর’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে থার্ড আই ফটোগ্রাফি সোসাইটি। মঙ্গলবার বিকেলে চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ক্যামেরার কারণে আগের তুলনায় ছবি তোলা অনেক সহজ হয়েছে। শিল্পের ক্ষেত্রে এতে ক্ষতির কোন কারণ নেই। যুদ্ধ বাড়লে ক্ষতি আছে শিল্প বাড়লে ক্ষতি নেই। আমরা এটাকে পজেটিভ হিসেবেই দেখি। আলোকচিত্রীরা সহজেই এতে বোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত সেপ্টেম্বরের ১ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে আলোকচিত্র আহ্বান করা হয়। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন ফটোগ্রাফারদের কয়েক হাজার আলোকচিত্র জমা পড়ে। এর থেকে বাছাই করা ৭১ জনের ৭১টি আলোকচিত্র নিয়েই এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদ স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত ॥ অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিকেলে এক স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথমবারের মতো অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদ স্মারক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে সমাজÑরূপান্তন অধ্যায়ন কেন্দ্র ও খান সারওয়ার মুরশিদের পরিবারের পক্ষ থেকে। অনুষ্ঠানে ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয়তাবাদের পরীক্ষা’ শীর্ষক একক বক্তব্য রাখেন ইমেরিটাস প্রফেসর ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। একক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ড. মুরশিদের কথা স্মরণ করতে গেলে অনিবার্যভাবে মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে পড়ে। ওই রকমের সমষ্টিত দুঃসময় আমাদের জীবনে আর কখনও আসেনি। যুদ্ধাটা ছিল রাজনৈতিক এবং তাতে জাতীয়তাবাদ নানাভাবে ও বিভিন্ন দিক দিয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল। বাঙালী জাতীয়তাবাদের শক্তি সে সময়ে বিশেষভাবে প্রকাশ পায়, তার দুর্বলতাও যে ধরা পড়ে এমনও নয়। বাঙালী জাতীয়তাবাদের শক্তি ছিল ঐক্যে, দুর্বলতা ছিল নেতৃত্বের পেটি বুর্জোয়া চরিত্রে। বিপরীত পক্ষে পাকিস্তানী জাতীয়তাবাদও পরীক্ষা দিয়েছিল। তার দুর্বলতা ছিল অনৈক্য ও অনৈতিকতায়। এর আগে সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে খান সারওয়ার মুরশিদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। আয়োজন করা হয় দোয়া মাহফিলের। পরে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

নেতৃত্বের পেটি বুর্জোয়া চরিত্রে। বিপরীত পক্ষে পাকিস্তানী জাতীয়তাবাদও পরীক্ষা দিয়েছিল। তার দুর্বলতা ছিল অনৈক্য ও অনৈতিকতায়।’

‘নারীর সৃজন ও অধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত ॥ ‘নারীর সৃজন ও অধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা হয় রাজধানীর বেঙ্গল ক্যাফেতে মঙ্গলবার বিকেলে। যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে কালি ও কলম এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, মনিরুল ইসলাম, নাট্যজন সারা যাকের, আফজাল হোসেন, কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান, সঙ্গীতশিল্পী ফাহমিদা নবী প্রমুখ। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত। বক্তারা বলেন, নারী সৃজনের ক্ষেত্রে কখনও পুরুষের থেকে পিছিয়ে ছিল না। শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণে তারা নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। বর্তমানে এ অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে এখনও সমাজের সব প্রতিকূলতা দূর হয়নি। সরকারকে সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। যাতে করে একজন নারী মধ্যরাতেও নির্ভয়ে ঘরে ফিরতে পারে। নারীর সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পেলে সৃজনে ও অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।