২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নারীর প্রতি সহিংসতা সমস্ত সম্প্রদায়ের জন্যই হুমকি

  • যৌথ নিবন্ধে ঢাকায় নিযুক্ত নয় দেশের নারী রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত সাড়া দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নয়টি দেশের নারী রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার। তারা বলেছেন, নারীর প্রতি সহিসংতা সমস্ত সম্প্রদায়ের ওপর হুমকিস্বরূপ। যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমেই নারীর প্রতি সহিংসতা চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব বলেও অভিমত প্রকাশ করেছেন তারা। মঙ্গলবার এক যৌথ নিবন্ধে ঢাকায় নিযুক্ত নয়টি দেশের নারী কূটনীতিকরা এমন অভিমত প্রকাশ করেন।

ঢাকা নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, ভুটানের রাষ্ট্রদূত পেমা শোডেন, ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত ওয়ানজা ক্যাম্পোস দ্য নব্রেগা, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হ্যান ফুগল এস্কেয়ার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফি অবেয়ার, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নোরলিন বিন্তি ওসমান, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত লিওনি মার্গারিটা কুয়েলেনায়ের, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মেরেটে লুন্ডিমো ও শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ইয়াসোজা গুনাসেকেরা এই যৌথ নিবন্ধ লিখেছেন। ঢাকায় ১৬ দিনব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতাবিরোধী কর্মতৎপরতা প্রচারের অংশ হিসেবে নারী রাষ্ট্রদূতরা এই নিবন্ধ লিখেছেন। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে এই নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে।

তারা বলেছেন, প্রতিবছর ২৫ নবেম্বর নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবসে ১৬ দিনের কর্মতৎপরতা শুরু হয়, যেটি ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবসে শেষ হয়। জাতিসংঘের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রচারাভিযানে নারী ও পুরুষ, ছেলে ও মেয়ে, সরকারী কর্মকর্তা এবং কমিউনিটি নেতাসহ সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পুরো পৃথিবী এবং বাংলাদেশজুড়ে নারীর প্রতি সহিংসতাবিরোধী সচেতনতা ও প্রথা তৈরিতে মানুষ কাজ করছে, যা এই অভিশাপ থেকে মুক্তির পূর্বশর্ত।

নয় দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত নয় জাতির নারী রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমরা অবশ্যই অনেক বিষয় নিয়েই কাজ করছি। তবুও আমরা এ বিষয়ে একমত যে, সারাবিশ্বে, আমাদের দেশে এবং বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত সাড়া দেয়া জরুরী। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর প্রতি সহিংসতা (জেন্ডারবেজড ভায়োলেন্স -জিবিভি) ভয়ানক আকারে সারাবিশ্বে বিস্তৃত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজনের একজন নারী তার জীবনে সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক বা যৌন নিপীড়নের শিকার হন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০১১ অনুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৮৭ ভাগ বিবাহিত নারী তাদের স্বামীর হাতে নিগৃহীত হন। আমরা সবাই এর প্রতিরোধে কিছু করতে পারি।

নারীর প্রতি সহিংসতা সমস্ত সম্প্রদায়ের ওপর হুমকিস্বরূপ। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস করে। সহিংসতাও দ্বন্দ্বকে উস্কে দেয়। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, নারীর ওপর সহিংসতার উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক বিরূপ প্রভাব রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাস্থ্যসেবা ব্যয়, নারীদের আয়ের উৎস হারানো, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং বংশপরম্পরায় নেতিবাচক প্রভাব। ইউএন উইমেন অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৪৪ বছর পর্যন্ত নারী ও মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে সমষ্টিগতভাবে ক্যান্সার, সড়ক দুর্ঘটনা, ম্যালেরিয়া এবং যুদ্ধের কারণে মৃত্যুর চেয়েও নারীর প্রতি সহিংসতা অধিকতর মৃত্যু ও শারীরিক অক্ষমতার কারণ।

জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে সহিংসতার শিকার হওয়া থেকে শুরু করে যৌন হয়রানি ও জোরপূর্বক বিয়েসহ নারীর প্রতি সহিংসতার বহু ধরন রয়েছে। সহিংসতা যে রকমই হোক তা আমাদের সামগ্রিক মানবতার জন্য কলঙ্ক, শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বাধা এবং তা আমাদের এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানায়। সহিংসতা অত্যাবশ্যকীয় নয়। আমরা প্রত্যেকেই এটি বন্ধের জন্য কাজ করতে পারি।