২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জাপানী নাগরিক ও খাদেম হত্যায় জেএমবি জড়িত

  • প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর ॥ অবশেষে রহস্য উন্মোচিত হলো জাপানী নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকা-ের। একই সঙ্গে বেরিয়ে এসেছে রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম পল্লী চিকিৎসক রহমত আলী হত্যা এবং বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার রহস্যও। এ সব ঘটনাই একই সূত্রে গাঁথা এবং এর সঙ্গে জড়িত উগ্র মৌলবাদী সংগঠন জেএমবি। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩ অক্টোবর কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী গ্রামে তিন দুর্বৃত্তের ছোড়া গুলিতে খুন হন জাপানী নাগরিক হোশি কুনিও। বিদেশী এ নাগরিককে গুলি করে হত্যা ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় রংপুর। চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় সারাদেশসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও। ঘটনার পরই আইএসএ’র নামে হত্যার দায় স্বীকার করে মিডিয়ায় প্রেসরিলিজ পাঠায় সাইট ইন্টালিজেন্স। ঘটনার ২ মাস ৫ দিন পর ডিআইজি হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যে প্রমাণিত হলো আইএস নয়, কুনিও হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত উগ্র মৌলবাদী জেএমবি গোষ্ঠী। শুধু জাপানী নাগরিকই নয়, গত ৮ নবেম্বর সকালে নগরীর ইসলামবাগ এলাকার বাসা থেকে কর্মস্থল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে গুলি করে হত্যা চেষ্টা করা হয় বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে। এর দু’দিন পরেই ১০ নবেম্বর রাতে জেলার কাউনিয়ার এক মাজারের খাদেম ও আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা পল্লী চিকিৎসক রহমত আলীকে জবাই করে হত্যা করা হয়। এ সব ঘটনার সঙ্গেই জড়িত এই জেএমবি চক্র। ডিআইজি জানান, হোশি কুনিও হত্যাকা-ের পরই পুলিশ সন্দেহভাজন ৬ জনকে গ্রেফতার করে। সবশেষে গত বুধবার রাতে পীরগাছা উপজেলা থেকে মাসুদ রানা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করলে সে পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে এসব হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত থাকা এবং নিজেকে জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্বীকারোক্তি দেয়। তিনি আরও জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকা-গুলোর মামলার তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। যেসব আলামত তারা উদ্ধার এবং সাক্ষী-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন তাতে নিশ্চিত হয়েছেন কারা কীভাবে কোন্ পরিকল্পনার ভিত্তিতে এসব হত্যাকা- এবং হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে এসব এখন না বললেও শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।

এদিকে বিডিনিউজ জানায়, রংপুরে জাপানী নাগরিক হোশি কুনিও হত্যায় গ্রেফতার জেএমবি নেতা মাসুদ রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন জানিয়ে পুলিশ বলেছে, তিনি মাজারের খাদেম হত্যা ও বাহাই নেতা হত্যাচেষ্টার সঙ্গেও জড়িত। রংপুর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি হুমায়ুন কবির বলেন, এই মাসুদ রানা জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার এবং তিনি হোশি কুনিওর হত্যাকারীদের অন্যতম। ওই জাপানীকে তিনিই গুলি করেন বলে সোমবার রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শফিউল আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বলেছেন।

নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির নেতা মাসুদ রানাকে (৩৮) বৃহস্পতিবার কাউনিয়ার কল্যাণী ইউনিয়নের পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ায় তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন বলেন, তদন্তের স্বার্থে আমরা এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করিনি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত না হওয়ায় জবানবন্দী নেয়ার পর সাংবাদিকদের অবহিত করলাম।

ঢাকায় ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহের মধ্যে ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়ায় হত্যা করা হয় জাপানী নাগরিক হোশিকে। দুটি হত্যাকাণ্ডই তিন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

ডিআইজি হুমায়ুন সাংবাদিকদের বলেন, কুনিওকে হত্যার পর থেকেই মাসুদ পলাতক ছিল। বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে আসার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে বাড়ির পুকুর হতে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো হাতবোমা তৈরির ৫০টি লোহার কৌটা ও তিনটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। ওই তিন ছোরার একটি দিয়েই খাদেমকে জবাই করা হয় বলে মাসুদ জানিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে জঙ্গি কর্মকাণ্ডেও মাসুদ জড়িত ছিল বলে জানান তিনি। বাংলা ভাইয়ের যখন ফাঁসি হয় তখন মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয় দুই বছর জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আসার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।