১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আশরাফসহ আসামিরা আমার মামা নুরুল আমিনকে হত্যা করে

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার;###;সাক্ষী বুলবুলের জবানবন্দী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামালপুরের আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেনসহ ৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ষষ্ঠ সাক্ষী মোঃ আতাউর রহমান বুলবুল ও ৭ম সাক্ষী মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন মল্লিক ওরফে রাখাল তার জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে ষষ্ঠ সাক্ষী মোঃ আতাউর রহমান বুলবুল বলেছেন, আমি নানা ও মামা শাহজাহানের কাছে শুনেছি বদর বাহিনীর সদস্য আশরাফসহ অন্যান্য আসামি আমার মামা নুরুল আমিন মল্লিককে হত্যা করেছে। সাক্ষীদের জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী তাদের জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ১৩ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হক ছুটিতে রয়েছেন। এ সময় সাক্ষীকে সাক্ষ্য দানে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল, প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। আসামি পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান তরফদার ও এ্যাডভোকেট এসএম মিজানুর রহমান।

প্রসিকিউশনের ষষ্ঠ সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মোঃ আতাউর রহমান বুলবুল। আমার বর্তমান বয়স ৫৮ বছর। আমার ঠিকানা, সিংহজানী হাইস্কুল রোড, কাচারীপাড়া, জামালপুর। আমি বর্তমানে ব্যবসা করি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ১৩/১৪ বছর। তখন আমি জামালপুর জেলা স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়তাম। ঐ বাসাটি জামালপুর সিএ্যান্ডবি রোড়ে অবস্থিত। ঐ বাসাটি দুই তলা বিশিষ্ট, প্রতি তলায় তিন রুম ছিল। ১৯৭১ সালের ৯ জুলাই দিবাগত রাত দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে আমার মামা নুরুল আমিন মল্লিককে তার বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে আলবদর বাহিনীর কিছু লোক এসে ধরে নিয়ে যায়। আমার মামাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি নিচ তলায় পশ্চিম পাশের রুমে ছিলাম।

সাক্ষী জবানবন্দীতে আরও বলেন, আমি আমার রুমের দরজা খুলে দেখতে পাই বদর বাহিনীর সদস্যরা আমার বুকে বন্দুক তাক করে আছে। তারা আমাকে দরজা লাগিয়ে দিতে বলে। ঐ সময় দেখি যে, বদর বাহিনীর লোকজন চলে যাচ্ছে। আমার নানা ও নানি চিৎকার করে দক্ষিণ রুম থেকে বের হয়ে আসে এবং বলে, আশরাফ, শরীফ, মান্নান, বারী তোর মামাকে ধরে নিয়ে গেছে। এর পর ১১ জুলাই ভোরে আমার মামা শাহজাহান পুনরায় আমার মামা নুরুল আমিন মল্লিককে খোঁজে জামালপুর শহরে নানার বাসায় যায়। একাত্তর সালে জামালপুর শহরের শ্মশান ঘাটে পাক আর্মি ও আলবদর বাহিনীর লোকরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকজনদের হত্যা করত। আমার মামা শাহজাহান ব্রহ্মপুত্র নদের চাপাতলা ঘাটে একজন লোকের লাশ ভাসছে খবর শুনে সেখানে যান। ঐ লাশটি আমার মামা নুরুল আমিন মল্লিকের লাশ বলে চিনতে পারে। তার শরীরে একটি গুলি ও একটি বেয়নেটের চিহ্ন ছিল।