২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুটবলার বিথীর অভিলাষ ...

ফুটবলার বিথীর অভিলাষ ...

রুমেল খান ॥ আসিয়া খাতুন। তবে সবাই জানে বিথী নামেই। জন্ম তারিখ ১০ জুন, ১৯৯৩। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় নিবাস। জন্ম ওখানেই। বাবা বাদল হোসেন, পেশায় অটো ড্রাইভার। মা সালমা বেগম গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে বিথী ছোট। বিথীর পরিচয়, তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের এক ফুটবলার। আসন্ন এসএ গেমস উপলক্ষে দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অধীনে। কথা হয় তার সঙ্গে। ‘ছোটবেলা থেকেই টিভিতে ফুটবল খেলা দেখতে খুব ভাল লাগত। খেলা শেষে খেলোয়াড়দের যে পুরস্কার ও ট্রফি দেয়া হতো, সেটা দেখে অনেক ভাল লাগত। ফুটবল খেলতে উজ্জীবিত হতাম। তবে আমি ফুটবলার হয়েছি আমার বাবার আগ্রহে। বাবা ছিলেন ফুটবলের পাগল। যাকে বলে অন্ধ ভক্ত। কাজী মোঃ সালাউদ্দিনের খেলা দেখতে দারুণ ভালবাসতেন। সালাউদ্দিনের খেলা দেখতে তিনি স্টেডিয়ামে চলে আসতেন। তার অনেক খেলা দেখেছেন। বাবার স্বপ্ন ছিল তার কোন ছেলে হলে তাকে তিনি বড় ফুটবলার বানাবেন। বাবার ছেলে হয়নি ঠিকই। কিন্তু তিনি তার মেয়েকে ঠিকই ফুটবলার বানিয়েছেন (হাসি)। অবশ্য বাবাকে এজন্য আমার নিজের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করতে হয়েছে। তিনি তো বটেই, আমার মাও কোন আপত্তি করেননি। আমি ফুটবল খেলতে চাই শুনে বাবা তো মহাখুশি! কারণ তিনি তো এটাই চেয়েছিলেন।’ ফুটবলে আসার গল্পটা এভাবেই বর্ণনা করলেন বিথী।

বাবা বাদল হোসেন যদি বিথীকে ফুটবলে এনে থাকেন, তাহলে বিথীকে ফুটবলে তালিম বা হাতেখড়ি দিয়েছেন মোসলেহউদ্দিন খন্দকার বিদ্যুৎ। পাইকপাড়ার স্থানীয় ফুটবল কোচ তিনি। ‘সবাই তাকে ‘চাচা’ বলে। তিনি আবার আমার বাবার মামাত ভাই। চাচার অধীনে জাতীয় ফুটবলার ওয়ালী ফয়সালসহ অনেক ফুটবলার তৈরি হয়েছে। তো, বাবা বিদ্যুৎ চাচাকে গিয়ে ধরলেন, ‘আমার মেয়ে ফুটবল খেলতে খুবই আগ্রহী। তুমি মেয়েদের একটা ফুটবল দল বানাও। চাচার একটা মেয়ে ছিল, মাকসুদা আক্তার সুখী (পরে সুখী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে), এছাড়া ওই পাড়ারই আরও ৩/৪টা মেয়ে ছিল। এদের নিয়েই চাচা অনুশীলন শুরু করলেন। সেটা ২০০৪ সালের ঘটনা। তখন সবে পঞ্চম শ্রেণী থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠছি (কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়)।’ বিথীর ভাষ্য। খেলাধুলার জন্য অবশ্য পড়াশোনায় কিছুদিনের বিরতি পড়েছিল। এখন বিথী মানবিক বিষয় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন পাইকপাড়া আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় এ্যান্ড কলেজে। জাতীয় দলে আসার কাহিনীটাও শোনা গেল বিথীর কাছে, ‘উড়িষ্যা বনাম বাংলাদেশ মহিলা দলের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হয় ২০০৮ সালে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলার জন্য প্রথমবারের মতো ডাক পাই। আমাদের দলের কোচ ছিলেন আবু ইউসুফ। এর কিছুদিন পর বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা দল ইন্দো-বাংলা বাংলাদেশ গেমসে ফুটবল ইভেন্টে অংশ নেয়। দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকলেও তবে দুর্ভাগ্যবশত চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ি। কেননা সে সময় আমার ম্যালেরিয়া জ্বর হয়েছিল। কিন্তু তাতে হতাশ হইনি। জানতাম, পরিশ্রম করলে ও ভাল খেললে ডাক আবার পাবই। সেটাই হয় এক সময়।’

২০০৯ সালে শুরু হয় এসএ গেমস উপলক্ষে ফুটবল ক্যাম্প। কোচ ছিলেন গোলাম রব্বানী ছোটন। তিনি বিথীকে স্কোয়াডে ডাকেন। স্বীয় নৈপুণ্যে প্রজ্বরিত হয়ে বিথী খেলেন। দলও তাম্রপদক অর্জন করে। সেটাই তার প্রথম দলীয় সাফল্য। ক্লাব ক্যারিয়ার? ‘আমার প্রথম ক্লাব নারায়ণগঞ্জের দিপালী যুব সংঘ। সর্বশেষ খেলেছি ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডে। এছাড়া কর্পোরেট ফুটবর খেলি টিম বিজেএমসির হয়ে।’

শুধু খেলে তো সংসার-জীবন চলে না, তাই এ বয়সেই বিথীকে বেছে নিতে হয়েছে চাকরি। ‘আমি ২০১২-১৩ সালে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনে (বিজেএমসি) চাকরি করছি।’ জাতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সফর করেছেন এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার পজিশনে খেলা বিথী। ভবিষ্যত লক্ষ্য? ‘নিজের খেলার আরও উন্নতি ঘটানো এবং জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য পাওয়া। এছাড়া খেলা থেকে যখন অবসর নেব, তখন ইচ্ছে আছে ভাল কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার। এ লক্ষে ইতোমধ্যেই ‘সি’ লাইসন্স কোচিং কোর্স কমপ্লিট করেছি। ভবিষ্যতে ‘বি’ লাইন্সেস কোচিং কোর্সটাও করে ফেলব ইনশাল্লাহ্।’ প্রিয় ফুটবলার? ‘দেশে মামুনুল ইসলাম এবং বিদেশে আর্জেন্টিনার এ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। সতীর্থদের মধ্যে ভাল লাগে সাবিনা খাতুনের খেলা। এছাড়া সিনিয়রদের মধ্যে কৃষ্ণাদি ও সুইনুদির (তারা এখন জাতীয় দলে নেই) খেলাও অনেক পছন্দ করি।’