২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অস্ট্রেলিয়াকে ভোগাবে এই উইন্ডিজ?

  • অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট সিরিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে পাঁচটায়) হোবার্টে শুরু অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। একদিকে ঘরের মাটিতে দুর্ধর্ষ অসিরা, অন্যদিকে নিজেদের হারিয়ে খোঁজা ক্যারিবীয়রা। যেখানে নিশ্চিত ফেবারিট স্টিভেন স্মিথের অস্ট্রেলিয়া। ক’দিন আগে প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্টে সিরিজ ২-০তে জেতে স্বাগতিকরা। অনেকের মনে আগাম একতরফা টেস্টের ছবিটাই ফুটে উঠছে। তবে সেটি মানতে রাজি নন সফরকারী পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা কেমার রোচ। কন্ডিশন, বিশেষ করে পেস সহায়ক উইকেটের সুবিধা নিয়ে প্রতিপক্ষ অসি ব্যাটিং-লাইনআপকে কাঁপিয়ে দিতে চান দ্রুতগতির এই বোলার। সঙ্গে জেরমো টেইলর, শ্যানন গ্যাব্রিয়েলদের নিয়ে নিজেদের পেস আক্রমণকে বিশ্বমানের বলেও অভিহিত করেন তিনি।

রোচ বলেন, ‘আমাদের দলে একাধিক বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার রয়েছে, যারা অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। পেস আক্রমণের অগ্রভাগে থাকা জেরমো টেইলর অসাধারণ এক বোলার। এখানে দারুণ রকমের সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ওর। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের কথাও বিশেষভাবে বলতে হয়। কারণ ও বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির পেসার। হোবার্ট, মেলবোর্ন, সিডনিÑ গ্রাউন্ড হিসেবে তিন ভেন্যুই দ্রুতগতির। যেখানে গ্যাব্রিয়েল আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। তার ওপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনকে বেশ নড়বড়ে দেখিয়েছে। যা আমাদের আরও বেশি করে আশাবাদী করে তুলেছে। ওদের হাতে মাইকেল ক্লার্ক কিংবা ক্রিস রজার্সের মতো ব্যাটসম্যানও আর নেই।’

রোচের যুক্তি একেবারে ফেলে দেয়ার নয়। ইংল্যান্ডে এ্যাশেজ সিরিজ শেষে আচমকাই ক্রিকেটকে বিদায় জানান তুখোড় ক্লার্ক। অবসরে অধিনায়কের সঙ্গী হন রাজার্স, ব্র্যাড হ্যাডিন, শেন ওয়াটসনের মতো বড় মাপের ব্যাটসম্যান। স্টিভেন স্মিথের দলটা উইন্ডিজেরই মতো তারুণ্যনির্ভর। তার ওপর নিউজিল্যান্ড সিরিজে হুট করে ক্রিকেট ছাড়েন নাম্বার ওয়ান পেসার মিচেল জনসন। সে অর্থে উইন্ডিজের পেস আক্রমণ আসলেই সমৃদ্ধ। ব্যাটিংয়ে অসিদের স্থীতিশীলতার অভাব দেখা গেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টে। ঐতিহাসিক দিবারাত্রির টেস্টে ৩ উইকেটের জয় পেলেও ঘাম ঝরে গেছে স্মিথদের। এ্যাডিলেডে স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ২২৪ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য ১৮৭ রান করতেই খোয়ায় ৭ উইকেট। রোচ মূলত সেদিকেই ইঙ্গিত করেন। যদিও তরুণদের নিয়েই সিরিজটা শেষ পর্যন্ত জিতে উজ্জীবিত প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।

এই সিরিজে আবার ক্যারিবীয়দের কোচ হিসেবে ফিরছেন ফিল সিমন্স। তার প্রশংসা করে রোচ আরও বলেন, ‘সিমন্স বড় মাপের কোচ। আমি তার সঙ্গ উপভোগ করি। ড্রেসিং রুমেই তার আচরণ শিক্ষণীয়। সে উইন্ডিজ ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবে। আমরা মাঠে ভাল পারফর্ম করে সেটির প্রতিদান দিতে পারি।’ তবে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘আন্ডারডগ’ বলে দুঃখ নেই রোচের, ‘মানুষ আমাদের আন্ডারডগ বলছে, এটা মন্দ নয়! কারণ এতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ বেশি থাকবে। আমরা নির্ভার হয়ে সেরাটা দিতে পারব। উইন্ডিজ ক্রিকেটের সামনে সুন্দর ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে। যেদিন আমরা ভাল করতে শুরু করব, ধীরে ধীরে শীর্ষে জায়গা করে নেব, সেদিন অবশ্যই সবার ধারণা বদলে যাবে। অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার মতো আমাদেরও ফেবারিট বলবে। এ জন্য আসল কাজটা মাঠেই করতে হবে।’

যদিও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ভোগানো বা চ্যালেঞ্জ জানানোর কাজটা সহজ নয়। এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটার হারনো সত্ত্বেও সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে সেটিই দেখিয়েছে অসিরা। ব্রিসবেনে প্রথম টেস্টে ২০৮ রানের বড় জয়ে প্রথমে এগিয়ে যায় স্টিভেন স্মিথের দল। রান-বন্যায় পার্থের দ্বিতীয় ম্যাচ ড্র হয়। আর এ্যাডিলেডে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ঐতিহাসিক ডে-নাইট টেস্টে ৩ উইকেটের জয়ে ২-০তে সিরিজ পকেটে পোড়ে অসিরা। ৯৯ গড়ে ৩ সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ৫৯২ রান করেন ডেভিড ওয়ার্নার। অসি ওপেনার ক্যারিবীয়দের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দেখা দিতে পারেন। ব্যাট হাতে ২ সেঞ্চুরি হাঁকানো উসমান খাজার সঙ্গে স্মিথও ভয়ঙ্কর। বল হাতে যদিও ইনজুরিতে মিচেল স্টার্ক, তবে জস হ্যাজলউড, জেমস প্যাটিনসন, পিটার সিডল, নাথান লেয়ন ও মিচেল মার্শকে নিয়ে স্বাগতিকদের আক্রমণ ভাগ সমৃদ্ধ।