২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঁকখালীতে নদী দখল থামছে না

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ খরস্রোতা বাঁকখালী নদীর তীরে জেগে ওঠা চর বন্দোবস্ত নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে সরকারদলীয় দুইটি গ্রুপ। ইতোমধ্যে তারা এ জমি বন্দোবস্ত পেতে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করে শুরু করেছে ব্যাপক লবিং। এ নিয়ে সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত কোটি কোটি টাকার জমি বেহাত ছাড়াও সুপেয় পানি সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা করছে পৌরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১২৯৫ ও ১১৬৬ নং সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত ৮৮ শতক জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদন করেন মহেশখালীর শাপলাপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক। এ বিষয়ে তিনি পয়স্তি বন্দোবস্ত মামলা করেন। এটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একইভাবে ১ দশমিক ৬০ একর জমি বন্দোবস্ত চেয়ে আবেদন করেছে আওয়ামী লীগের আরেকটি গ্রুপ। ওই গ্রুপে রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট আহমদ হোসেন, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ বাদশা, মোস্তফা কামাল পাশা, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, আক্তার আলম, নুরুল আক্তার, মোঃ মমতাজ উদ্দিন, রেজাউল করিম হিরু, মোঃ সরওয়ার আলমসহ অনেকে। ইতোমধ্যে আবেদনকারীরা জমি বন্দোবস্তি পেতে সংশ্লিষ্ট দফতরে তোড়জোড় শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেখ ফরিদ আহমদ জানান, খাস জমির মালিক একমাত্র সরকার। এখানে কারও স্থাপনা করার অধিকার নেই। যারা অবৈধ স্থাপনা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, আব্দুল খালেকের মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে মন্তব্য করা অনুচিত। অন্যদিকে ১৩ জনের আবেদনটি ভূমি অফিস নাকচ করে দিয়েছে।

এদিকে কোন মতেই থামছে না বাঁকখালী নদী দখল। প্রতিদিন টনে টনে মাটি ও ময়লা ফেলে দখল স্বত্ব নিশ্চিত করছে দখলবাজরা। গড়ে তুলছে নিত্য নতুন অবৈধ বসতি। এ কাজে ব্যবহার হচ্ছে পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ি। আর দখলবাজ প্রতিরোধে নেই কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা। শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া থেকে মাঝেরঘাট পর্যন্ত বাঁকখালী নদীর কিনারা দখলবাজের নখর দীর্ঘদিন ধরে তো আছেই। এরই মধ্যে কস্তুরাঘাট বিআইডাব্লিওআইটি টার্মিনাল সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে নতুন করে চলছে ভরাটের কাজ। সেই সঙ্গে পৌরসভার বর্জ্য ফেলে দূষিত করা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। পৌরসভার পুরাতন ডাম্পিং স্টেশন থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে পশ্চিম দিকে এগিয়ে চলছে এ ভরাট প্রক্রিয়া। পরিবেশ বিধ্বংসী এ কাজে ব্যবহার হচ্ছে পৌরসভার অসাধু কর্মচারী। যে কারণে বাঁকখালী নদী দখল-দূষণ কোনমতে থামছে না।