২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ মুক্ত দিবস

  • দাউদকান্দি, নাজিরহাট, নেত্রকোনা, দাউদকান্দি ও গফরগাঁও

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ আজ দাউদকান্দি, নাজিরহাট, নেত্রকোণা, দাউদকান্দি ও গফরগাঁও মুক্ত দিবস। এদিন পাকি এই তিন জেলায় হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। খবর নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো-

দাউদকান্দি ॥ ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধাদের প্রচ- আক্রমণের মুখে পাক হানাদার বাহিনী হটতে শুরু করলে দাউদকান্দির মুক্তিযোদ্ধারা মানসিকভাবে দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ, শহিদনগর ওয়ারল্যাস কেন্দ্রে এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের দাউদকান্দিস্থ ডাক বাংলোতে অবস্থানরত পাক সেনাদের টার্গেট করে উত্তর ও দক্ষিণ পার্শ্ব হতে এক যোগে আক্রমণ শুরু করে। মোহাম্মদপুর, ডাকখোলা, গোয়ালমারী, বাতাকান্দি প্রভৃতি এলাকার ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধারা অগ্রসর হতে থাকে, পূর্ব দিক থেকে মিত্র বাহিনীর আর্টিলারীর কাভারিং ফায়ার ফ্রন্টে থেকে মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ করলে পাক সেনারা পশ্চিম দিকে হটতে থাকে। মিত্র বাহিনীর সেলিংয়ের কারণে শহিদনগনর ওয়ারল্যাস এলাকা ছেড়ে পাক সেনারা দাউদকান্দি সদরের দিকে দৌড়াতে থাকে। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর জনসাধারণ উত্তর দিকে গোমতী নদীতে আতঙ্কিত অবস্থায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৮ ডিসেম্বর দিবাগত সমস্ত রাত এবং ৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টা পর্যন্ত যুদ্ধের পর পাক সেনারা দাউদকান্দিতে তাদের শেষ আশ্রয়স্থল সড়ক ও জনপথের বাংলোতে উঠে এবং সেখান থেকে লঞ্চ যোগে মেঘনা নদী দিয়ে গজারিয়া হয়ে ঢাকায় পালিয়ে যায়। দুপুরে মুক্তিযোদ্ধারা দাউদকান্দি পৌঁছে হানাদারমুক্ত দাউদকান্দিতে স্বাধীন বাংলা লাল সবুজ পতাকা উড়ায়।

ফটিকছড়ি ॥ নাজিরহাট রণাঙ্গন দিবস। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে উত্তর চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক এই নাজিরহাট থেকে ঐ দিন ভোরে পাকবাহিনী চলে যাওয়ার পর মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিকামী জনতা এখানে এসে বিজয়ের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে। এক পর্যায়ে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং মুক্তিবাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান নেয়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাকবাহিনী অতর্কিত হামলা চালালে উভয়ের মধ্যে প্রচ- সম্মুখযুদ্ধ হয়।

গফরগাঁও ॥ আজ ৯ ডিসেম্বর গফরগাঁও মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে এই দিনে পাকি দখলদার হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্তিযোদ্ধারা গফরগাঁওকে মুক্ত করে। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর মেজর আফসার বাহিনীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হয়ে পাকি সেনারা পিছু হটে। দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে আলোচনা সভা, র‌্যালি, বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ॥ যথাযোগ্য মর্যাদায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর দৌলতপুরকে শত্রুমুক্ত করে থানা চত্বরে বিজয় পতাকা উড়ানোর মধ্য দিয়ে মুক্তিকামী বীর সূর্য সন্তানেরা দৌলতপুরকে হানাদার মুক্ত করেন।

নেত্রকোনা ॥ ৯ ডিসেম্বরÑনেত্রকোনা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিন সকালে শত্রুমুক্ত হয় নেত্রকোনা। হাজারও মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষের ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় মহকুমা শহর, ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। মুক্তিযুদ্ধকালীন ন’মাসই নেত্রকোনা শহর ছিল পাকবাহিনীর ঘাঁটি। দালাল-রাজাকারদের সহযোগিতায় শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিল শত্রুরা। ৮ ডিসেম্বর রাত থেকেই তারা কোম্পানির বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীকে টার্গেট করে শহরের কৃষিফার্ম এলাকায় এ্যাম্বুস পাতেন।

নির্বাচিত সংবাদ