২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নতুন শুরুর অপেক্ষায় বাউচার্ড

  • জিএম. মোস্তফা

হোবার্ট ওপেন দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করবেন ইউজেনি বাউচার্ড। বুধবার কানাডিয়ান টেনিসের উদীয়মান তারকা নিজের মুখেই জানিয়েছেন তা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালটা খুব ভালভাবেই শুরু করতে চাই আমি। আশা করছি হোবার্টে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই কোর্টে ফেরার।’

নতুন বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্টে হোবার্ট ওপেন। আর একই কোর্টেই অনুষ্ঠিত হবে মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। যে কারণে এখানে ভাল পারফর্মেন্স করার মানেই ইউএস ওপেনের কঠিন লড়াইয়ে নিজেকে একধাপ এগিয়ে রাখা। তাই ২১ বছর বয়সী বাউচার্ডও এই ইভেন্টকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখছেন। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে গত মৌসুমটা দারুণ কাটে তার। যে কারণে প্রিয় কোর্টে নামতে যেন কিছুতেই তর সইছে না কানাডিয়ান তারকার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে কোর্টে হোবার্ট ওপেন শুরু হবে ঠিক সেখানেই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে লড়াই। তাই আশাকরি মেলবোর্নের জন্য এটা বিরাট এক প্রস্তুতিরও মঞ্চ। অতীতে অস্ট্রেলিয়াতে আমার অসাধারণ সাফল্যের স্মৃতি রয়েছে। নতুন শহরে পুরনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে কিছুতেই তর সইছে না আমার।’

তবে জানিয়ে রাখা ভাল যে, গত মৌসুমে হঠাৎ করেই টেনিস বিশ্বের পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন ইউজেনি বাউচার্ড। মৌসুমের প্রথম দুই গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠা কানাডিয়ান এই টেনিস তারকা উইম্বল্ডনের ফাইনালে ওঠেন। পুরো টেনিস বিশ্বকেই রীতিমতো চমকে দিয়ে টেনিসের নতুন তারা হিসেবে বিবেচনায় চলে আসেন তিনি। শুধুই কি টেনিস কোর্টে? রূপ আর গ্ল্যামার দিয়ে মডেলিংয়েও সমানভাবে আধিপত্য বিস্তার করেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই কানাডিয়ান তারকার। গত মৌসুমের অসাধারণ পারফর্মেন্সের সেই ধারাবাহিকতা খুব বেশিদিন ধরে রাখতে পারেননি তিনি। এই মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন ঠিকই। কিন্তু পরের সময়টাতে আর কোর্টে খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। তবে বছরের শেষ মেজর টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পান তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর ফ্লাশিং মিডোতেই টানা তিন জয়ের দেখা পান তরুণ প্রতিভাবান এই টেনিস তারকা। সেই সঙ্গে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোতেও জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এই সময়ই চোটের কবলে পড়েন তিনি। এরপরই নিজেকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন বাউচার্ড।

মূলত মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেন চলাকালে লকার রুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন কানাডার তরুণ প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়। সেই আঘাত মারাত্মকভাবে ভোগায় তাকে। ইউএস ওপেনের পর চায়না এবং জাপান ওপেনেও খেলতে পারেননি তিনি। শুধু তাই নয়, টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়েও অধঃপতন ঘটে তার। যে কারণে ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রায় এক মাস পর ইউনাইটেড স্টেটস টেনিস এ্যাসোসিয়েশনের (ইউএসটিএ) বিরুদ্ধে মামলাও করেন তিনি। বাউচার্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এক সময় র‌্যাঙ্কিংয়ের পঞ্চম স্থানে ছিলেন বাউচার্ড। কিন্তু লকার রুমে আঘাত পাওয়ার পর থেকেই তার অধঃপতন হচ্ছে। আর এটা হয়েছে মূলত ইউএসটিএর অসচেতনতা, অবহেলা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং কর্তৃপক্ষের অমনোযোগী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। এ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ নিরাপদ এবং খেলোয়াড়দের উপযোগী অবস্থান রাখতে পুরোপুরিভাবেই ব্যর্থ হয়েছে।

তবে অতীতের এসব ব্যর্থতাকে এই মুহূর্তে সামনে আনতে চান না বাউচার্ড। এই মুহূর্তে তার লক্ষ্য কেবলই নতুন মৌসুম শুরু করার। আর তা হোবার্টেই দারুণভাবে নিজেকে মেলে ধরতে চান তিনি। তবে দীর্ঘদিন কোর্টের বাইরে থাকা বাউচার্ড কি নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন? ভক্ত-অনুরাগীদের সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।