২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোটের আলোয় আলোকিত হচ্ছে পথঘাট

সমুদ্র হক, বগুড়া অফিস ॥ বগুড়া পৌর নির্বাচনে প্রার্থীরা কতটা আলোকিত এ নিয়ে যতটা না আলাপ, তার চেয়ে বেশি আলাপ রাস্তার বাতি নিয়ে। পৌরসভার সম্প্রসারিত অংশে এখনও অনেক জায়গা দেখে মনে হয় অজপাড়াগাঁ। এলাকার মানুষের কাছে স্ট্রিট লাইট (সড়ক বাতি) দিনকয়েক আগেও ছিল স্বপ্ন। ওই সব গ্রামের (বর্তমানে পৌরসভা) মানুষের কথা ছিল এ রকম- ‘কুনদিন আস্তাত (রাস্তায়) সলক (আলো) হবি রোশনাই হয়া যাবি...।’

নির্বাচনের বাদ্য বেজে ওঠার সঙ্গেই এলাকার পথঘাট ‘সলক’ করে দিতে মাঠে নেমেছে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীগণ। নিত্যদিন ঠেলাগাড়িতে করে মই ও স্ট্রিট লাইটের সামগ্রী নিয়ে পৌরসভার বিদ্যুতকর্মীরা যাচ্ছেন এতকাল অবহেলায় থাকা বর্ধিত এলাকাগুলোতে। প্রায় দশ বছরের পৌরবাসীর বড় একটি অংশই নিজেদের রাস্তায় বাতি দেখেনি। যদিও পল্লী বিদ্যুত সমিতির বিদ্যুত ছিল। পৌরসভা বর্ধিত হওয়ার পর সড়ক বাতির কাজটি বর্তায় পৌরসভার ওপর। বর্ধিত এলাকায় একে তো দাঁত-মুখ খিঁচানো ইট বিছানো ও কাঁচা এবড়ো থেবড়ো রাস্তা, তার ওপর পোলে বাতি না থাকায় পৌরবাসীর অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রায় অন্ধকারেই পথ চলতে হয় তাদের। এই নিয়ে পৌরপিতা ও এলাকার কাউন্সিলরের কাছে কত যে ধরনা দিতে হয়েছে। কোন কাজ হয়নি। সচেতন নাগরিক কমিটির জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে অনেক সময় পৌরপিতা উপস্থিত থাকেননি। কখনও থাকলেও শুধু আশ্বাস দিয়ে বৈতরণী পার হয়ে যান। নতুন পৌরবাসীর ললাট লিখন খ-ে না।

নির্বাচনী ঢাকঢোলের বাদ্যে তাদের এলাকায় কিছুটা হলেও আলোর নাচন শুরু হয়েছে। প্রার্থীগণ পৌরসভার বিদ্যুতকর্মীদের সরঞ্জাম দিয়ে পাঠাচ্ছেন। নিজেরাও গিয়ে কুশল বিনিময় করছেন। ভাই-ভাবি চাচা-চাচি, দাদু-দাদি, নানা-নানি... যত রকমের মায়ার ডাক আছে দিচ্ছেন। কর্মরতদের হাঁক দিচ্ছেন- ‘এই তাড়াতাড়ি করো, আজই যেন বাতি জ্বলে...।’ রাস্তা সলক করে দেয়ার সলুক সন্ধানে যা মেলে তাই হলো- ভোটের আলো। কখনও প্রার্থীরা নিজেদের ট্যাকের পয়সা খরচ করছেন এই কাজে। শিক্ষিতজনরা বলছেন, ভোটের পর এটা যেন আবার আলেয়ার আলো না হয়ে যায়।