২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমিরের কাছে হার হাফিজের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কত বড় কথা, মোহাম্মদ আমির যে দলে আছেন, সেই দলে খেলবেনই না মোহাম্মদ হাফিজ! আর তাই চিটাগাং ভাইকিংসের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন হাফিজ। কারণ, দলটিতে আছেন আমির। যিনি ম্যাচ গড়াপেটার জন্য শাস্তি শেষে আবার ক্রিকেটে ফিরেছেন। সেই আমিরের কাছেই অবশ্য মঙ্গলবার হেরেছেন হাফিজ। কিভাবে? ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে ব্যাটিং করতে নেমে আমিরের বলেই যে আউট হয়েছেন হাফিজ।

ঢাকার স্কোরবোর্ডে তখন ১৪ রান। এমন সময় ১ রান করা হাফিজ আউট হয়ে যান। কার বলে? আমিরের বলে। যে ক্রিকেটার চিটাগাং দলে আছেন বলে সেই দলে খেলেননি হাফিজ। ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে জড়িত কোন ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলবেন না হাফিজ। তাই আমিরের সঙ্গে খেলেননি। তবে ঢাকার হয়ে এবার বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন। সেই ম্যাচেই ঢাকার প্রতিপক্ষ দল থাকে চিটাগাং। আর সেই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বোলার আমির। প্রথম উইকেট পতনের পর হাফিজ ব্যাট হাতে নামেন। আমির বল করতে এসেই হাফিজকে সাজঘরে ফেরান। উইকেটরক্ষক এনামুল হক বিজয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন হাফিজ। সে কী আনন্দ আমিরের। মাথা নত করে হাফিজ সাজঘরে ফিরছেন। আর চিটাগাংয়ের সব ক্রিকেটার এসে আমিরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। যেন ম্যাচই জিতে গেছে চিটাগাং। তবে ম্যাচ জেতা হারা পরে, আমিরের কাছে এ জয়ই যেন অনেক বড় আনন্দের হয়েই ধরা দিয়েছে। বিপিএল তখনও শুরু হয়নি। হঠাৎ করে শোনা গেল হাফিজ খেলবেন না এবারের আসরে। কারণ, আমির খেলছেন। চিটাগাং ভাইকিংসের হয়ে খেলার প্রস্তাব তাই ফিরিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তান অলরাউন্ডার হাফিজ। এমনটাই দাবি করেছিল টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত পাকিস্তানী তরুণ পেসার মোহাম্মদ আমিরের কারণেই হাফিজের এই না খেলার সিদ্ধান্ত। দুবাই ভিত্তিক পত্রিকা ‘জাং’ এর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছিল হাফিজের মতে, এটা কোন একজন ব্যক্তি বা নিজস্ব কোন বিরোধিতা নয়। এখানে সম্পূর্ণভাবেই পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তি জড়িত। হাফিজ বলেছেন, ‘আমি এমন কোন খেলোয়াড়ের সঙ্গে একই দলে খেলতে চাই না যার জন্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।’

পত্রিকাটির রিপোর্টে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টে চিটাগাং ভাইকিংস থেকে আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেলেও শুধু আমিরের কারণে হাফিজ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিপিএল খেলতে চিটাগাংয়ের ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছ থেকে হাফিজ ১০ মিলিয়ন পাকিস্তানী রুপীর প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলেও পত্রিকাটি উল্লেখ করেছিল।

এর আগেও ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে নিষেধাজ্ঞায় থাকা আমির, সালমান বাট ও মোহাম্মদ আসিফের বিপক্ষে হাফিজ নিজের কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। একবার পাকিস্তান দল জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন করার সময় সাবেক বোলিং কোচ মোহাম্মদ আকরাম নেটে হাফিজের বিপক্ষে আমিরকে বোলিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁহাতি এই পেসারের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে অস্বীকৃতি জানান হাফিজ। যে কোন ফরমেটে এই তিন অভিযুক্ত ক্রিকেটারকে আবারও জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার বিপক্ষেও বর্তমান দলের অনেকের সঙ্গেই হাফিজ শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই অবস্থান বিপিএলের জন্যও থাকে হাফিজের। পরে অবশ্য হাফিজই জানিয়েছেন, যদি চিটাগাং ছাড়া অন্য কোন দল ভাল প্রস্তাব দেয় তাহলে খেলবেন। অবশেষে হাফিজকে দলে ভিড়িয়েছে ঢাকা। এবং সেই ঢাকার হয়ে খেলতে নেমে চিটাগাংয়ের আমিরের বলেই আউট হয়েছেন হাফিজ। ৫ বলে ১ রান করেই সাজঘরে ফেরেন।

শুধু হাফিজ নন, এর আগে সিলেট সুপার স্টারসের বিপক্ষে ম্যাচে আমিরের বিপক্ষে সমালোচনা করা শহীদ আফ্রিদিকেও আউট করে দেন এ পেসার। তবে বিপিএলেই খেলতে রাজি না হওয়ার বিষয়ে আলোচনা তুঙ্গে তুলে দেয়া হাফিজকে আউট করে দিয়ে যেন জয় পেলেন আমিরই।