২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিধিভঙ্গের সূচনা সরকারপ্রধানের হাতে: বিএনপি

বিধিভঙ্গের সূচনা সরকারপ্রধানের হাতে: বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্ধারিত সময়ের পর ‘প্রার্থী বদল’ এবং মনোনয়নপত্রে প্রত্যয়নের মাধ্যমে সরকারপ্রধান নিজেই পৌর ভোটে অনিয়ম এবং বিধিভঙ্গের ‘সূচনা করেছেন’ বলে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া যে কত কঠিন তার প্রমাণ আমরা দেখছি। যিনি সরকার প্রধান, দলীয় প্রধান, তার হাত দিয়েই অনিয়ম, বিধিভঙ্গের সূচনা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে পৌর নির্বাচন যে কতোটা সুষ্ঠু হবে অথবা হবে না- তার প্রাথমিক আলামত আমরা পাচ্ছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, শরীয়তপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রথমে রফিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হলে গত ৭ ডিসেম্বর ফারুক আহমেদকে মনোনয়ন দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেওয়া হয়। “ওই মনোনয়নপত্রে প্রত্যয়ন করছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। তিনি কে? তিনি হচ্ছেন চিফ এক্সিকিউটিভ, সরকার প্রধান। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এই বিধির পরিপন্থি।” এক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ফখরুল বলেন, “সংশ্লিষ্ট রির্টানিং অফিসার বলেছেন, প্রার্থী বদলের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে তারা জানিয়েছেন। অর্থাৎ রির্টানিং অফিসার উভয় মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন।

“যেখানে আইনে পরিষ্কার বলা আছে, রির্টানিং অফিসারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেখানে তা না করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হয়েছে। তাহলে নির্বাচন কতোটা নিরপেক্ষ হতে পারে, তা সহজেই বোঝা যায়।” এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের মূল অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। “পৌর বিধিতে আছে, ওটা রির্টানিং অফিসারেরই বাতিল করার কথা। ৭ তারিখে তারা প্রার্থী পরিবর্তনের চিঠি গ্রহণ করেন কেন? এটা নির্বাচন কমিশনারকে কীভাবে পাঠানো হল?” অনেক পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রার্থী দেওয়ারও পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ভয়ভীতি দেখানো ও হামলার অভিযোগ তোলেন তিনি।

“গতকাল ফেনী বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। তার বাড়িতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। তার মা ও স্ত্রী ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। তার অপরাধ, তিনি ফেনী পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। “কিছুক্ষণ আগে আমাকে জানানো হয়েছে, রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় আমাদের সমর্থিত সব কমিশনারকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে।” ক্ষমতাসীন দলের সাংসদদের আচরণবিধি লঙ্ঘনে নির্বাচন কমিশনের ‘কারণ দর্শাও নোটিস’ সম্পর্কে ফখরুল বলেন, “শো-কজ করাটা মানে ব্যবস্থা নেওয়া নয়। একটা অ্যাকশন নিতে হবে। আমরা সবচেয়ে নির্যাতিত বিরোধী দল। আমরা গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে পারি, আমাদের তো অন্য কোনো বিকল্প রাস্তা নেই।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, সহ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।