২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গলে যাচ্ছে চীনের মেংকি হিমবাহ

  • প্রভাব পড়বে এশিয়ার পানি ব্যবস্থার ওপর

এক সময় মানুষ মনে করত হিমবাহগুলো প্রকৃতির স্থায়ী অংশ। এর কোন ক্ষয় বা লয় নেই। বিশেষ করে ১৯৭০ ও ৮০ এর দশকে অনেকের বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে হিমবাহের ক্ষয় নেই। এরপর ১৯৯০ এর দশক থেকে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যখন কথাবার্তা শুরু মানুষ এ বিষয়ে সচেতন হয়। জলবায়ু পরিবর্তন প্রাকৃতিক পরিবেশের যে বিপর্যয় ঘটায় সেটি আর বিতর্কের বিষয় থাকল না।

অনেক বছর ধরেই বিজ্ঞানী কিন জিয়াং এবং তার সহযোগীরা চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় কিলিয়ান পার্বত্য অঞ্চলের একটি নিভৃত গবেষণাগারে বসে হিমবাহ গলে যাওয়া পর্যবেক্ষণ করছিলেন। চীনের পানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর একটি হিমবাহ। ৪২ বছর বয়সী কিন বলছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো হিমবাহ। মানুষ এক সময় মনে করত এগুলো কখনও গলবে না। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফল তারা এখন স্বচক্ষেই দেখতে পাচ্ছে। হিমবাহ খ-ের ওপর দাঁড়িয়ে তিনি যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন তার ঠিক পায়ের নিচে থেকে অনবরত আসা বরফ ভেঙ্গে পড়ার শব্দ জানিয়ে দিচ্ছিল আসলেই জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে চলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম বাস্তবতা এখনই দেখা দিতে শুরু করেছে চীনের পশ্চিমাঞ্চলে। তথাকথিত তৃতীয় মেরু নামে পরিচিত হিমালয় ও তৎসংলগ্ন পর্বত শ্রেণীগুলোর হিমবাহ গলতে আরম্ভ করেছে। এর ফলে এশিয়ার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন ঝুঁকির মুখে। এখানকার ঐতিহাসিক বাণিজ্য পথ ‘সিল্ক রোডের’ পার্শ্ববর্তী অনুর্বর হেক্সি করিডরটি ছিল উট গরু ছাগলের বিচরণ ক্ষেত্র। কিন্তু সেখানে এখন অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি নিয়মিত ঘটনা। গলতে শুরু করেছে তিব্বত-কিনগাই মালভূমির স্থায়ী বরফে পরিণত হওয়া পার্মাফ্রস্ট। ফলে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিঘিœত হচ্ছে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকা-। তিব্বতের লাসা পর্যন্ত নির্মিত চীনের রেল নেটওয়ার্কের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক ওপরে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের ফলে চীন এখন যে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে মাত্র কয়েক বছর হলো সে বিষয়ে দেশটির বিজ্ঞানীরা সতর্ক করতে শুরু করেছেন। প্যারিসে জলবায়ু বৈঠক সামনে রেখে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দৃষ্টি দিয়েছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ গ্রিনহাউস নির্গমনকারী দেশ চীন। দেশটি গত বছর প্রথমবারের মতো ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে উদ্যোগী ভূমিকা নেয়ার কথা জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত মাসে প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, হিমবাহ গলন ও সমুদ্র তলের উচ্চতা বেড়ে গিয়ে চীন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার মুখে রয়েছে। শিল্পায়নের গতির সঙ্গে মিল রেখে বেড়ে চলেছে কার্বন নির্গমন। ফলে বেড়ে চলেছে তাপমাত্রা। যে গতি চীনের তাপমাত্রা বেড়ে চলেছে তা অব্যাহত থাকলে এ শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। -ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস