২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌদিতে হালাল মাংসের ব্যাপক চাহিদা রফতানি বৃদ্ধির উদ্যোগ

  • সৌদি ফুডের সঙ্গে প্রাণিজ সম্পদ অধিদফতরের চুক্তি হচ্ছে

এম শাহজাহান ॥ সৌদি আরবে সব ধরনের হালাল মাংস রফতানি করা হবে। এ লক্ষ্যে দেশটির সৌদি ফুড এ্যান্ড ড্রাগ অথরিটির (এসএফডিএ) সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে সরকার। এ চুক্তি হবে বাংলাদেশের প্রাণিজ সম্পদ অধিদফতরের ডিপার্টমেন্ট অব লাইভ-স্টক সার্ভিসেস (ডিএলএস) এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ এসএফডিএ’র মধ্যে। সৌদি আরব এতদিন ব্রাজিলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গরু, মহিষ, খাসি, ভেড়া এবং চিকেন মাংস আমদানি করত। কিন্তু এখন দেশটি বাংলাদেশ থেকে হালাল মাংস আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশে এ মুহূর্তে গরুর কিছুটা সঙ্কট থাকলেও খাসিসহ অন্যান্য মাংসের কোন ঘাটতি নেই। তাই সৌদি আরবে মাংস রফতানি করে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের হালাল মাংস রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে। সৌদি আরব হচ্ছে বিশ্বের হালাল মাংসের অন্যতম ক্রেতাদেশ। এক্ষেত্রে সৌদি আরবে বাংলাদেশী হালাল মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এতদিন বিচ্ছিন্নভাবে দেশটিতে কিছু মাংস রফতানি হলেও তা যথেষ্ট ছিল না। তবে এবার দু’দেশের সরকারী প্রচেষ্টায় মাংস রফতানি বাড়ানো হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে হালাল মাংস রফতানির লক্ষ্যে সম্প্রতি ইপিবি’তে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় হালাল মাংস রফতানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রফতানি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

হালাল মাংস উৎপাদন হবে যে ভাবে ॥ পণ্যটি রোগবিহীন এবং স্বাস্থ্যসম্মত হলেই তাকে হালাল পণ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যেসব গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির মাংস রফতানি করা হবে সেগুলো খামারে উৎপাদন করা হবে। বেসরকারী খাতে বেঙ্গল মীট নিজস্ব খামারে উৎপাদিত গরু ও খাসির মাংস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করছে। এছাড়া বেসরকারী খাতে দেশে এখন গবাদি পশু-পালনে বহুসংখ্যক খামার গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রাণিজ সম্পদ অধিদফতর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশে পশু-পালন উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে দেশে গরুর কিছু সঙ্কট থাকলেও খাসি, ভেড়া, মহিষসহ অন্যান্য প্রাণীর উৎপাদনে কোন ঘাটতি নেই। তাই সৌদি আরবে মাংসের বড় বাজার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, মাংস রফতানি করা হবে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের সেরকম কোন চুক্তি নেই। এবার আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে দেশটিতে মাংস রফতানি করা হবে। তিনি বলেন, দেশে এখন গরুর মাংসের কিছুটা সঙ্কট রয়েছে। তবে আগামী দু’এক বছরের মধ্যে গরুর ঘাটতি দূর হবে। ইতোমধ্যে সরকারী-বেসরকারীখাতের উদ্যোগে গবাদি পশু-পালন বাড়ছে। তাই সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরবে হালাল মাংস রফতানি করতে পারবে বাংলাদেশ। এজন্য রফতানি কারকদেরও বিশেষ সহযোগিতা দেয়া হবে।

জানা গেছে, কোরবানির সময় সৌদি সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গবাদি পশু আমদানি করে থাকে। কিন্তু দেশটি এখন বাংলাদেশ থেকেও কোরবানির পশু নিতে চায়। এর প্রধান কারণ বাংলাদেশে উৎপাদিত গরু, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য পশু স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে উৎপাদন করা হয়। এছাড়া এগুলো রোগমুক্ত পরিবেশে পরিপালন করা হয়ে থাকে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে পশুর ভ্যাকসিন সহজে পাওয়া যাচ্ছে। এসব কারণে সৌদি সরকার বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় মাংস আমদানি করতে চায়। তবে বিদেশে বাংলাদেশের হালাল মাংসের বাজার তেমন বড় না হলেও এই খাতে রফতানি করছে বেঙ্গল মীটসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। গত অর্থবছরে সৌদি আরব, কুয়েত এবং দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশে খাসি ও গরুর মাংস রফতানি করে প্রতিষ্ঠানটি।

সার্টিফিকেট দিবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ॥ পশু জবাইয়ের পর তা শরীয়াহ সম্মতভাবে তা জবাই ও হালাল কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন হালাল সার্টিফিকেট প্রদান করবে। ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে মাংস রফতানির বিষয়টি ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে জানানো হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, জনপ্রতি দৈনিক মাংসের চাহিদা আছে ১২০ গ্রাম। সার্বিক হিসাবে দেশে বর্তমানে মাংসের চাহিদা আছে ৬৭ দশমিক ২০ লাখ টন। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করতে হলে মাংস উৎপাদন বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সৌদি আরবে মাংস রফতানি করা গেলে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিও কমে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে গার্মেন্টস বেবিওয়্যার, প্যাকেটজাত দ্রব্য, প্রাণ, বিডি ফুট, টাটকা শাক-সবজি, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে আয় করেছে ২১ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার। সৌদি থেকে পেট্রোলিয়াম, প্লাস্টিক, রবার, ইউরিয়া সারসহ ৭৯ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ।