২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৫ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ১৭ শতাংশ

  • ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি ২০১৫Ñ১৬ অর্থবছরের ৫ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ৩ বছরে সর্বনিম্নে নেমেছে। জুলাই থেকে নবেম্বর সময়ে মোট বরাদ্দের মাত্র ১৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। গত ২০১৪Ñ১৫ অর্থবছরে একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২০ শতাংশ, তার আগের বছর ছিল ১৯ শতাংশ। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আজম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হুমায়ুন খালিদ, এসএম গোলাম ফারুক, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা প্রমুখ। এডিপি বাস্তবায়ন কম হওয়ার কারণ হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রচুর বৃষ্টি ছিল। ফলে কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এডিপি বাস্তবায়ন কম হয়েছে। তবে জানুয়ারি মাসের মধ্যেই একটি ব্যালেন্স পর্যায় আসবে বলে আশা করছি। তাছাড়া এ অর্থবছরে এডিপিতে যত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তার সবটুকু ব্যয় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছি।

চলতি অর্থবছরের ৫ মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে মোট ১৬ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ১১ হাজার ৫৮৩ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থাৎ ৫ মাসে মোট ব্যয় হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা এবং তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ১৩ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শতাংশের দিক থেকে বাস্তবায়ন কম হলেও অর্থ ব্যয়ের দিক থেকে খরচ বেশি হয়েছে। কারণ এবার এডিপির আকার অনেক বড়।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থবছরের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও ৮ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তায়নের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রণালয় ৩ শতাংশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ১ শতাংশ। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৫ শতাংশ। এছাড়া ৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের বরাদ্দে ১০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে, নির্বাচন কমিশন ৯ ভাগ, অর্থবিভাগ ৯ ভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৬ ভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ ভাগ অর্থ ব্যয় করেছে।

সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোও এডিপি বাস্তবায়নে গতি কম। যদিও এর আগে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি না আসার কারণ জানতে চান পরিকল্পনামন্ত্রী। পরবর্তীতে উন্নয়নে গতি আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে জোর তাগিদ দেন তিনি। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

তথ্য অনুসারে, সর্বোচ্চ বারদ্দ পাওয়া মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বিদ্যুত বিভাগ ১৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ মোট বরাদ্দের ২৭ শতাংশ, সেতু বিভাগ ১৩ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১৪ শতাংশ, শিক্ষামন্ত্রণালয় ১৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর বরাদ্দের অর্থ কাক্সিক্ষত হারে ব্যয় করতে পারলে এডিপি বাস্তবায়নের গতি বেড়ে যাবে। চলতি বছর থেকে এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়বে বলে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু এডিপি বাস্তবায়নে গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না বাস্তববায়নের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এডিপির মোট আকার সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তার অংশে ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ ৩ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা।