২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কালকিনিতে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে আ’লীগের নাটকীয়তা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর ও কালকিনি, ৯ ডিসেম্বর ॥ কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের নাটকীয়তা থামেনি। সভা সমাবেশ নেতা কর্র্মীদের পদত্যাগ আবার পদত্যাগ প্রত্যাহারসহ নানা কর্মকা-ে উপজেলা আওয়ামী লীগ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে মেয়র প্রার্থী এনায়েত হোসেন রয়েছেন খোশ মেজাজে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এনায়েত হোসেন হাওলাদার, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কালকিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মশিউর রহমান সবুজ, কালকিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য লোকমান হোসেন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এনায়েত হোসেন হাওলাদার, আবুল কালাম আজাদ, খোকন ব্যাপারী, ওয়াহিদুজ্জান বুলেট, সোহেল রানা মিঠু, আশরাফ হোসেন ব্যাপারী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে উপর মহলে লবিং শুরু করেন।

প্রথমদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপায়ান্তর না দেখে ৬ জনকে এক মঞ্চে দাঁড় করিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন। চূড়ান্তভাবে দলের মনোনয়ন লাভ করেন এনায়েত হোসেন। এতে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে কালকিনি। তারা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ কালকিনি পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা প্রশাসক আবুল কালাম আজাদকে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে আন্দোলনে নামেন।

ফলে দলীয় সমর্থন এনায়েত হোসেন হাওলাদারের পক্ষে থাকলেও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সমর্থন থাকে আবুল কালাম আজাদের প্রতি। শুরু হয় নানা ধরনের নাটকীয়তা চলতে থাকে দফায় দফায় সভা-সমাবেশ। এতে আওয়ামী লীগের আন্দোলন বন্ধ না হয়ে উল্টো ২ ডিসেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহমিনা সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম ফারুকের নেতৃত্বে চলে নেতাকর্মীদের গণপদত্যাগের ঘোষণা। জেলা আওয়ামী লীগের কাছে দফতর সম্পাদকের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠানো হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে কালকিনি উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য নেতৃবৃন্দরা মেয়র পদে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিলুর রহমান সোহাগ তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও খায়রুল আলম খোকন ব্যাপারী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান বুলেটের নাম প্রস্তাব করে জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়।

এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, মাদারীপুর জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে কয়েক দফা মিটিং করেও বিষয়টি নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম ফারুক বলেন, “জেলা আওয়ামী লীগ আমাদের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রস্তাবকৃত নামের মধ্যে কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীকে নৌকা মার্কা প্রতীক দেয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার সকল অঙ্গ সংগঠনের সকলেই পদত্যাগ করেছিলো। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মতে আবার পদত্যাগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাহমিনা সিদ্দিকীরও একই বক্তব্য।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে বলেন, “মনোনয়ন দেয়ার মালিক আমি না। মনোনয়ন দেয়ার মালিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”