২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষক নিয়োগ কমিশন

শিক্ষা নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার তোড়জোড়ে এবার বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগে অবশেষে কমিশন গঠন করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষানীতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করবে এই কমিশন। বলা হচ্ছে, নিয়োগে ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে এই কমিশন গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বেসরকারী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের কাজটি করবে এই কমিশন। সরকারী কর্মকমিশন তথা পিএসসির আদলে আলাদা এই স্বাধীন কমিশন শিক্ষক বাছাইয়ে কাজ করবে। শিক্ষা বিষয়ে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ মেধাবী ব্যক্তিরা এই কমিশনের দায়িত্ব পাবেন। তারাই বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নির্বাচন করবেন। এতে প্রকৃত যোগ্যরা মূল্যায়িত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি সব পর্যায়ে শিক্ষার মানও নিশ্চিত করা যাবে।

দেশের শিক্ষার যথাযথ পরিবেশ তথা মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হচ্ছে শিক্ষকদের। এমনিতেই বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ তুলনামূলক কম। শিক্ষা ব্যবস্থাতেও রয়েছে পুরনো পদ্ধতি। শিক্ষকদের সময়ের সঙ্গে সর্বশেষ তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানের অভাব, পুরনো ধ্যান ধারণা, পাঠ্যক্রম, যোগ্য শিক্ষকের অভাব, বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীদের চাপে শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন নিয়ে আইনের জটিলতা প্রভৃতি বিষয় সুষ্ঠু শিক্ষা পদ্ধতির অন্তরায়। বিদ্যমান পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ এবং অনেক ক্ষেত্রেই মেধানির্ভর নয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে এনটিআরসির অধীনে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে উত্তীর্ণরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে আরেকটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই পরীক্ষার পর পরিচালনা কমিটি শিক্ষক নিয়োগ দেয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির একচ্ছত্র ক্ষমতা থাকায় এদের বিরুদ্ধে হরহামেশাই অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগও ওঠে। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বর্তমান কমিটিগুলোতে ক্ষমতাসীনদের দাপট রয়েছে। তারা শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেনও করছে। বিক্রি হয় শিক্ষকতার পদটি। দেশের প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টাকার খেলা আর স্বজনপ্রীতির খেলা চলে আসছে। অভিযোগ ওঠে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অযোগ্য লোক নিয়োগেরও। এ কারণে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্য লোকেরা চাকরি পায় না। সংসদ সদস্যরাও নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে চালু নিবন্ধন পরীক্ষায়ও অস্বচ্ছতা রয়েছে। নিবন্ধন সনদ বাণিজ্য নামক দুর্নীতি বিদ্যমান রয়েছে। এই পরীক্ষা পদ্ধতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে প্রস্তাবিত পদ্ধতির স্বাতন্ত্র্য, উপযোগিতা এবং কতটা বিজ্ঞানভিত্তিক এবং বাস্তবায়নের অন্তরায়গুলো সফলতার হার ইত্যাদি বিচার বিবেচনা করা হয় না। বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ কমিশন চালু হলে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মেধাবীদের বাছাই করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নির্বাচিত হবে। এতে প্রকৃত যোগ্যরা মূল্যায়ন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নয়া কমিশন শিক্ষক নিয়োগ করবে মেধাক্রম অনুসারেই। এতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি দল, রাজনীতি, স্বজনপ্রীতি, আঞ্চলিকতা, ডোনেশন বা অন্য কোন অসাধু উপায় অবলম্বন রহিত হবে। পদ্ধতি কার্যকর হলে সারাদেশে মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তবে মূল বিষয়টি নির্ভর করছে কমিশনের কর্তা কারা হবেন তার ওপর। তারা যদি অসৎপ্রবণ হয়ে ওঠেন তবে কাক্সিক্ষত সাফল্য নাও আসতে পারে। সুনীতি, স্বচ্ছতা, দেশপ্রেম হোক শিক্ষক নিয়োগের অবলম্বন- সেই প্রত্যাশা সবার।