২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুভলগ্নে গণবিবাহ

সোমবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৫, বাংলায় ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২২ দিনটি ছিল একটি শুভদিন। শুভলগ্নও সমুপস্থিত। অন্তত প্রাচ্যদেশীয় জ্যোতিষশাস্ত্র সেটাই বলে। আর তাই যে বা যাদের ঘরে বিবাহযোগ্য বা যোগ্যা পাত্র-পাত্রী রয়েছে তারা আর দেরি করেননি। আর যেসব ছেলে-মেয়ে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে অভ্যস্ত এবং প্রেম-ভালবাসার বৃত্তে বন্দী থেকে বিবাহবন্ধনে সবিশেষ আগ্রহী তারাও বেছে নিয়েছেন শুভদিন, শুভলগ্নটিকে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে একই দিনে ২৫ থেকে ৩৫ হাজার বিয়ের শুভ সচিত্র সংবাদ জানিয়েছেন এনডিটিভির সংবাদদাতা ও চিত্রগ্রাহক। একই দিনে একই লগ্নে একই সঙ্গে এতগুলো বিয়ের আনন্দ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে কিছু আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আশঙ্কাটি ট্রাফিক জ্যামের। দিল্লী এমনিতেই ব্যতিব্যস্ত মহানগরী। তদুপরি কর্মমুখর দিনে একই সঙ্গে এতগুলো বিয়ে। যানজটের আশঙ্কা তো থাকবেই। বিয়ে তো শুধু নিছক পাত্রপাত্রীর ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও আনুষ্ঠানিকতা নয়, একই সঙ্গে সামাজিকতাও। এদিন দিল্লীতে কোন হল বা কমিউনিটি সেন্টার ফাঁকা পাওয়া যায়নি। মন্দিরগুলোও ছিল বিয়ের আয়োজনে ও উলুধ্বনিতে মুখরিত। গান-বাজনা-নাচ-বাজি ফোটানো সর্বোপরি হৈ-হুল্লড়েরও কোন কমতি ছিল না। আর আমন্ত্রিতদের জন্য নিশ্চয়ই চর্ব-চোষ্য-লেহ্য-পেয়সহ দিল্লীর প্রচলিত-প্রসিদ্ধ লাড্ডু তো ছিলই। এদিন দিল্লীতে একই সঙ্গে পুরোহিত ও পাচক সঙ্কট দেখা দেয়। এমন বামুনের খোঁজ পাওয়া গেছে যিনি এদিন ৯টি বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। বিয়ের দীর্ঘ লাইন এবং জনসমাগম এড়ানোর অভিপ্রায়ে অনেকে বিয়ের কাজটি সেরে নেন অপরাহ্ন, মধ্যাহ্ন এমনকি সকালে। দিল্লীতে জরুরী প্রয়োজনে বাবুর্চি-বেয়ারা তথা কর্মীবাহিনীর আমদানি হয়ে থাকে উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ থেকে। সেখানেও সঙ্কট। অতঃপর দ্বিগুণ পারিশ্রমিক ও বেতন দিয়ে জনশক্তি আমদানি করতে হয়েছে বিহার, ঝাড়খ- থেকে।

সোমবার দিনটি শুভদিন কেন- তারও বাখ্যা দিয়েছেন প-িত জ্যোতিষীরা। দিল্লীর বিখ্যাত জ্যোতিষী রিধি ভাহল বলেন, এদিন শুক্রের (ভেনাস) ও চন্দ্রমার অবস্থান ছিল লিব্রাতে (তুলারাশি-রাশিচক্রের সপ্তম রাশি)। এটি একটি উত্তম যোগ। শুভলগ্ন, শুভদিন। এটাই কারণ। সমাজে পিতা তথা অভিভাবকহীন মেয়েদের দায় ও দুরবস্থা সহজেই অনুমেয়। সমাজ-সংসারে তাদের বোঝা বলেই মনে করা হয়। একটি গণবিয়ের খবর পাওয়া গেছে ভারতের আহমেদাবাদ থেকে। এই দিন সুরাটের হীরক ব্যবসায়ী মহেশ সাবানি নিজে উদ্যোগী হয়ে ২৫১ জন পিতৃহীন কন্যার বিয়ের আয়োজন করেন। নানা কুসংস্কার ও কূপম-ূকতা তো আছেই। সে অবস্থায় এই ধনাঢ্য ব্যবসায়ী স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসেছেন এতগুলো মেয়ের দুর্ভাগ্য মোচনে। মনের সঙ্কীর্ণতামুক্ত এতগুলো পাত্রও পাওয়া গেছে। আনন্দেরও কোন কমতি হয়নি। তিন দিন ধরে মহাধুমধাম ও সমারোহে সম্পন্ন হয় বিয়ের অনুষ্ঠান।

ধর্মীয় বিধান এবং নিয়মকানুনের বাইরেও বিয়ে একটি পবিত্র ও সামাজিক বন্ধন। জীবনচক্রের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি মানুষ চায় জীবনে সুখী ও সমৃদ্ধ হতে। সুখী হওয়ার সহজ একটি উপায় হলো অন্যকে সুখী করা। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী পরস্পর সুখ-আনন্দ-এমনকি দুঃখ-কষ্টও ভাগাভাগি করে নিতে পারে। জ্যোতিষশাস্ত্র শুভদিন, শুভলগ্ন সম্পর্কে যা-ই বলুক না কেন জীবন চলার পথে আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ্যান্ড কম্প্রোমাইজ হলো আসল কথা। সংসার শুধু রমণীর গুণেই সুখের হয় না, বরং সংসার আনন্দময় হয়ে ওঠে পুরুষের সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমেও।