১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আদর্শ পৌরসভার জন্য...

মোঃ রফিকুল ইসলাম

বাংলাদেশে পৌরসভাগুলো ক, খ ও গ তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত । খ ও গ শ্রেণীভুক্ত পৌরসভায় প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণজনিত সুযোগ-সুবিধা ও কিছুটা অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় জনসমাগম ও ঘনত্ব থাকলেও, এগুলোতে এখনও জনপ্রতিনিধি ও জনগণের মধ্যে কাক্সিক্ষত শহুরে সংস্কৃতি ও সঠিক দায়িত্ববোধ পুরোপুরি গড়ে উঠেনি। ফলে অনেক পৌরসভা যেন এক বিড়ম্বনা ও নামের প্রতি অসম্মান। পৌর বাসিন্দাদের জন্য সুশাসন, বিভিন্ন সেবামূলক কাজ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা ও জনগণের স্থায়িত্ব বা স্থিতিশীলতার উদ্দেশ্যে মূলত এ পৌরসভাগুলো প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এ উদ্দেশ্যগুলো অনেকাংশে পূরণ করার জন্য যে শর্তাবলী পালনীয় তা বাস্তবে অদৃশ্যমান।

এ উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নে পৌরসভাকে বহুবিধ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়, যেমন-রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, পার্ক, মাঠ, পানির ট্যাঙ্ক, পাবলিক টয়লেট, নালা-নর্দমা, পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা ইত্যাদি নির্মাণ; রাস্তাঘাট আবর্জনা ও ধূলা-কাদা মুক্ত রাখা; বিদ্যুত ও পানি সরবরাহ; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন ও ক্রীড়া সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি; পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিকা-ের মোকাবেলা এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন; দরিদ্রদের স্বার্থ-সংরক্ষণ ও বস্তি এলাকার উন্নয়ন; জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও নাগরিক সনদ প্রদান; ঐতিহাসিক স্থাপনা তৈরি ও সংরক্ষণ; পৌর এলাকার সীমানা নির্ধারণ, নগর পরিকল্পনা ও সুষ্ঠু আবাসন ব্যবস্থা; ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান ও শ্মশানখলার ব্যবস্থাপনা; হাট-বাজার, শিল্প-কল-কারখানা ও কসাইখানার ব্যবস্থাপনা; সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। এ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যাদির মূল অন্তরায় সুদক্ষ, নীতিবান ও নিবেদিতপ্রাণ জনপ্রতিনিধির অভাব এবং পর্যাপ্ত অর্থের অভাব।

আমি ‘গ’ শ্রেণীভুক্ত দুর্গাপুর পৌরসভার বাসিন্দা। দু’দশক যাবত লক্ষ্য করছি দুটি কলেজসহ ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়সমূহে গমনের মূল রাস্তার ওপর শনিবার ও বুধবার ধানের মহাল বসায় ছাত্র-ছাত্রী বিশেষ করে মহিলা পথচারীদের গন্তব্যে পৌঁছানো প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এ পৌরসভায় কোন ডাস্টবিন নেই, নেই গণশৌচাগার। অপর্যাপ্ত ড্রেন থাকলেও, ময়লা পানি নিষ্কাশনের জন্য সংযুক্ত নেই কোন মাস্টারড্রেন বা খাল-নদীর সঙ্গে। এখানে ঘর-বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে পৌর আবাসন বিধি না মেনেই। ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ ও বিঘিœত হচ্ছে নিরাপত্তা। এমন পৌরসভায় কী লাভ? একটি আদর্শ পৌরসভার জন্য যোগ্য মেয়র-কাউন্সিলর এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের বিকল্প নেই। বাংলাদেশে এই প্রথম পৌরসভা নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে, বড় দুটি দলের অংশগ্রহণে। রাজনীতিতে ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’ এ নীতিটি মেনে প্রতিনিধি নির্বাচন করলে দলীয় প্রার্থী অযোগ্য হলেও সে নির্বাচিত হবে যা, কাক্সিক্ষত পৌরসভার জন্য কাম্য নয়। আবার দলের বাইরে যোগ্য কেউ নির্বাচিত হয়ে আসবে তাও কঠিন। সেদিক বিবেচনায় নির্দলীয় নির্বাচনই ছিল উত্তম। গৃহীত পদ্ধতিতে দলীয় রাজনীতির শক্তি পরীক্ষা হবে, কিন্তু পৌরসভার শক্তি ও উন্নয়ন কতটুকু বাড়বে? বর্তমান সরকার ও তার অধীনে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আপত্তি ও অভিযোগ সত্ত্বেও তারা অংশগ্রহণ করছে। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন, সরকার ও প্রশাসনের বিধিবদ্ধ আচরণের মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যার মাধ্যমে শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা যাচাই নয়, নির্বাচনী প্রক্রিয়াটির আস্থাও সুদৃঢ় হবে। জয় হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির।

দুর্গাপুর, নেত্রকোনা থেকে