১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমর্থন আদায়ের চ্যালেঞ্জ

রফিক তালুকদার

উৎসব প্রিয় বাঙালীর জন্য নির্বাচন যেন আরেকটা উৎসব। নির্বাচন এলেই আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নারী পুরুষ ধনী গরিব সকলের মাঝে আনন্দ বয়ে আসে। স্থানীয় নির্বাচন হলে তো সে আনন্দ আরও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। এবার স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে নতুন মাত্রায়। আর তা হলে দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা জমে উঠেছে। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী সকলেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে কি ধরনের উন্নয়ন কর্মকা- করবেন এ নিয়ে নানা ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে।

প্রার্থীরা ছাড়াও প্রার্থীদের নিকট আত্মীয়রাও প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। হাট বাজার থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লার প্রতিটি বাসায় বাসায় ভোটারদের দোরগোড়ায় গিয়ে নিজেদের জন্য ভোট চাইছেন প্রার্থীরা।

এছাড়া প্রার্থীদের প্রতীক সংবলিত নানা ধরনের পোস্টার ব্যানার ফেস্টুনে শহরের অলিগলি ছেঁয়ে গেছে। চলছে নানা মুখরোচক সেøাগান সংবলিত মাইকিং। প্রচারণাকারীরা সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নানা ধরনের রসালো সেøাগানও দিচ্ছেন। এছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতেও চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। ফোন মেসেজ, ইন্টারনেটসহ আরও বিভিন্ন মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে।

নির্বাচনী প্রচারণায় এবার নতুন যোগ হয়েছে বিজয় মেলা, সমাজের বিভিন্ন বিয়ে শাদী, মেজবান মৃত ব্যক্তির জানাযা, ওয়াজ মাহফিল, পূজাসহ সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান। প্রার্থীরা এসব সামাজিক অনুষ্ঠানের খবর পেলে ছুটে যাচ্ছেন। কোন মৃত ব্যক্তির জানাযার খবর পেলেই সেখানে ছুটে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশে চলছিল সরকারী ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন। এমনি সময় এ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে ছিল সংশয়। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অতীতে স্থানীয় ও নির্দলীয় নির্বাচন হলেও স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো প্রত্যক্ষ সমর্থন দিয়ে থাকে। তাই আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলও মেয়র থেকে শুরু করে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে আসত। এবার তা প্রকাশ্যে নিজ দলীয় মেয়র প্রার্থীর জন্য মাঠে নামতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলো। ইতোমধ্যে দলগুলোর নেতাদের নিজেদের সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী মাঠ সরব করতে দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে সহিংস আতঙ্ক রাজনৈতিক অস্থিরতার এ সময়ে এ নির্বাচন সাধারণ জনগণের মাঝে নিয়ে এসেছে আনন্দ ও স্বস্তি।

এ নির্বাচন সরকার ও বিশদলীয় জোটের জন্য অধিক গুরুত্ব বহন করে। যদিও স্থানীয় নির্বাচন। তবু এটি হচ্ছে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন। তাই দেশবাসীর মাঝে এ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। স্থানীয় নির্বাচন হলেও সচেতন মহল মনে করছে এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হবে সরকারের জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও কতটুকু সমর্থিত তার প্রমাণ মিলবে। পরিশেষে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে এবং জনগণ তাদের কাক্সিক্ষত যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করবে বলে আশা করছি।

ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম থেকে