২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আর নয় ক্ষুদ্রঋণ

আর নয় ক্ষুদ্রঋণ
  • দারিদ্র্য লালনের প্রচলিত এই তত্ত্ব ভাঙতে কাজ করছে পিকেএসএফ ;###;ঋণের ফাঁদ থেকে মুক্তি দেয়াই সরকারের লক্ষ্য;###;তবে এনজিওরা তাদের কাজ করবে

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ বদলে যাচ্ছে প্রথাগত ক্ষুদ্রঋণের ধারণা। এই ঋণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে সরকারও। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই ঋণের ফলে মানুষের দারিদ্র্য আরও বাড়ছে। কেননা একবার যারা এ ধরনের ঋণ নিচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা আর এই ফাঁদ থেকে বের হতে পারছে না। ফলে ঘটছে নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। এ প্রেক্ষিতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন সরকারীভাবে আর যেন ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক প্রকল্প হাতে নেয়া না হয়। এর বদলে ক্ষুদ্র সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তাছাড়া এর আগেই ক্ষুদ্রঋণের প্রচলিত ধারণা ভাঙতে চেষ্টা শুরু করেছে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ে সরকারের অর্থনৈতিক থিঙ্কট্যাংক হিসেবে পরিচিত পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থায় ক্ষুদ্রঋণ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবে ভিন্নমত দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, যদিও সুদের হার অনেক বেশি তারপরও এর প্রয়োজন রয়েছে। তবে ক্ষুদ্রঋণের পাশাপাশি সামাজিক বীমা চালু করা গেলেই এটি টেকসই হবে।

সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (্একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য লালন-পালন করে। এই ব্যবস্থায় দারিদ্র্য দূর করা যায় না। আমি দারিদ্র্য লালন করতে চাই না। ফলে এখন থেকে ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক কোন সরকারী প্রকল্প হাতে নেয়া যাবে না। কেননা মানুষ ঋণ নেয়, কিন্তু শোধ করতে পারে না। ফলে আবারও ঋণ নেয়। এভাবে তারা ঋণের জালে আটকে যায়। আর বের হতে পারে না। আমি দেশের মানুষকে এই ঋণের জালে আটকাতে চাই না। তাই এখন থেকে মাইক্রোক্রেডিট নয়, হবে মাইক্রো ফাইন্যান্স এবং মাইক্রো সেভিংস।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তাফা কামাল জনকণ্ঠকে বলেন, সরকার সরকারী ও বেসরকারী সকল খাতকেই প্রাধান্য দেয়। তাই এমন কোন পলিসি নেয়া হবে না যাতে এনজিওদের কার্যক্রম বন্ধ হয়। এনজিওরা তাদের কাজ করবে। সরকারীভাবে আর ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক প্রকল্প নেয়া হবে না। কেননা আমরা দেখছি একবার ঋণ নিলে ওই ঋণগ্রহীতা ঋণ থেকে মুক্ত হতে পারেন না। ঋণের দুষ্টচক্রে আটকে যায়। তাই ঋণের ফাঁদ থেকে মুক্ত রাখাই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা। তবে ক্ষুদ্রঋণের বদলে যে টাকা দেয়া হবে তাকে বিনিয়োগ হিসেবেই দেখা হবে। সে টাকা দিয়ে লাভ করে গরিব মানুষ সঞ্চয় করবে। এটি সরকারের লক্ষ্য।

সূত্র জানায়, ২০১১ সালেই শুধু ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে গরিব মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন যে সম্ভব নয়, সেটি বের করেছিল সরকারের অন্যতম সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। ওই সময়ই সংস্থাটি ক্ষুদ্রঋণের প্রচলিত ধারা ভেঙ্গে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে পরিবারকেন্দ্রিক সমন্বিত উন্নয়ন শীর্ষক একটি নতুন ধারণা জন্ম দিয়েছিল। এর মাধ্যমে ঋণের পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক একটি সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়। প্রথম অবস্থায় পরীক্ষামূলকভাবে নির্বাচিত কয়েকটি ইউনিয়নে একটি ইউনিয়ন একটি সহযোগী সংস্থা নীতিতে বাস্তবায়ন শুরু করে। নতুন এ কর্মসূচীর উদ্দেশ্য ছিল কর্মসূচীতে অংশগ্রহণকারী দরিদ্র পরিবারগুলোকে ক্ষমতায়িত করা, যাতে তারা টেকসই ভিত্তিতে তাদের দারিদ্র্য হ্রাস করে তা দূরীকরণের লক্ষ্যে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলতে পারে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টিতে দারিদ্র্যের অভিগম্যতা নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে নারী ও শিশুর প্রতি বিশেষ নজর দেয়া।

সূত্র জানায়, এ কর্মসূচী বাস্তবায়নের ফলে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন কেবলমাত্র ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী মডেল থেকে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণে একটি সমন্বিত মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য দূরীকরণে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা দৃশ্যমান হয়। ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিন্যাস কার্যক্রমের আঙ্গিকে তাদের এবং স্থানীয় সরকারের মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বয় ও কার্যকর সম্পর্ক জাতীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য একটি টেকসই পল্লী উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচীর সূচনা হয়।

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এ প্রসঙ্গে এর আগে বলেছিলেন, এ কর্মসূচীর মূল উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে টেকসইভাবে দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে মুখ্য ইস্যুগুলো কার্যকরভাবে মোকাবেলার জন্য দরিদ্র পরিবারকে ক্ষমতায়িত করা। পিকেএসএফ এ কর্মসূচী বাস্তবায়নে আন্তরিক ও সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়েছে। আমি নিশ্চিত, সম্মিলিত প্রয়াসে এ কর্মসূচীর লক্ষ্য অর্জনে আমরা সফল হবই।

এ প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলোকে যেসব সহায়তা দেয়া হয় সেগুলো হলোÑ আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে পারিবারিক জরুরী প্রয়োজনে নমনীয় ঋণসহ নতুন উদ্যোগে বিভিন্ন ঋণ অথবা সহায়তা যেমন সন্তানদের লেখাপড়ায়, পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবায় অভিগম্যতায়, বসতবাটি উন্নয়নে, বাড়িতে সৌরবিদ্যুত স্থাপনে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে রান্নাঘরে পরিবেশসম্মত চুলা ব্যবহারে এবং পরিবারের সক্ষম ও সবল সদস্যদের বিদেশে চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে ঋণ অথবা অনুদান সহায়তা প্রদান। ফাউন্ডেশনের বিদ্যমান ঋণ কর্মসূচীর আওতায় যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ প্রদানসাপেক্ষে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ঋণ প্রদান যেমন গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ, মৌসুমী ঋণ, হতদরিদ্র ক্ষুদ্রঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ, পারিবারিক পর্যায়ে ক্ষুদ্রস্তরে হাঁস-মুরগি পালন উদ্যোগ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে গরু মোটাতাজাকরণ উদ্যোগ ঋণ, মৎস্য চাষ ও বাজারজাতকরণে সহায়তা ঋণ, চিংড়ি চাষে সহায়তা ঋণ ইত্যাদি।

এছাড়া সরকারী বিভাগ বা দফতরের অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলোর কাজের সমন্বয় করা, অবকাঠামো উন্নয়ন যেমন রাস্তা ও বিদ্যুত ইত্যাদি উন্নয়নে সহায়তা প্রদান, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগ যেমন বন্যা প্রতিরোধ, লবণাক্ততা রোধ এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে যৌথ কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান করা। পরিবারের সদস্যদের জন্য চিহ্নিত প্রয়োজনানুসারে সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এ কর্মসূচীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। বৃক্ষরোপণ অথবা শাক-সবজি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। আওতাভুক্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবায় অভিগম্যতা বৃদ্ধির জন্য সময়ে সময়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক, জীবনরক্ষাকারী ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ওষুধ সরবরাহ করা। অপুষ্টি রোধে পয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্টেশন, নিরাপদ পানি, স্থাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার, গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট দেয়া, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণে সহায়তা দেয়া, সম্ভাব্য ক্ষেত্রে জরুরী প্রয়োজনে হাসপাতাল অথবা এ্যাম্বুলেন্সভিত্তিক সেবা প্রদান করা এবং পরিবার পরিকল্পনার জন্য ব্যাপক প্রচার বা উদ্বুদ্ধকরণমূলক কর্মসূচী চালু করা (বিশেষ করে চর ও গ্রাম এলাকার জন্য)।

এছাড়া এ কর্মসূচীর আওতায় যেসব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত সেগুলো হলোÑ ক্ষুদ্র বীমা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, সঞ্চয় ও সম্পদ বৃদ্ধি কর্মসূচী, অন্য যে কোন ধরনের সহায়তা বা সহযোগিতা, পরিবারের প্রয়োজন নির্ণয় করা, দুর্যোগ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যৌথ সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবাধিকার ও লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালানো হবে।

ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের প্রয়োজন হলো কেন? রিবাট একটি জনগোষ্ঠীর ঋণ কার্যক্রমে অংশ ছিল না। ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার সক্ষমতা, সম্পদ ও জ্ঞান কোনটিই ছিল না। তাছাড়া ব্যাংকে আসতে হলেও শহরে আসতে হতো। সেটি দরিদ্রদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তখন ক্ষুদ্রঋণ গরিবদের কাছে গেছে। কোন রকম সম্পদ ছাড়াই তাদের ঋণ দিয়েছে। সেই ঋণ তুলেছে। কিন্তু ব্যাংক গরিবদের কাছে যেতে পারেনি। তবে এ কথা ঠিক যে, ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার অনেক বেশি। কিন্তু এই ঋণের ফলে গ্র্যাজুয়েশন যেমন হচ্ছে তেমনি ট্র্যাপেও (ফাঁদে) পড়ছে অনেকে। কিন্তু এখন সেই অবস্থার কি খুব বেশি পরিবর্তন হয়েছে? এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক সময় দেখা যায় মানুষ ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে গরু-ছাগল কেনে। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখা গেল সে নিজে অসুস্থ হয়ে পড়ল, তখন সে সেটি বিক্রি করে দেয়। ওই টাকা দিয়ে চিকিৎসা করে। ফলে ঋণ আর পরিশোধ করতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন হচ্ছে যে উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্রঋণ দেয়া হয়, সেই উদ্দেশ্য যেন পূরণ হয় তার ব্যবস্থা করা। এজন্য সামাজিক বীমার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে ক্ষুদ্রঋণের উদ্দেশ্য পূরণ হবে।

এ বিষয়ে জিইডির সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ভোক্তাদের ক্ষুদ্রঋণের চাহিদা কমে গেছে। দেশের অর্থনীতি যেহেতু কৃষি থেকে শিল্পের দিকে যাচ্ছে, সেহেতু এখন মানুষের ঋণের চাহিদা হচ্ছে প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যে, বিভিন্ন শিল্প পণ্যে, ইলেক্ট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে। তাই ক্ষুদ্রঋণের সংস্কার দরকার। এ বিষয়ে এনজিওগুলোকে সময়, যুগ এবং বাজারের কথা মাথায় রেখে প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু দেশের দারিদ্র্য কমেছে, সেহেতু উচ্চ সুদের ও ব্যয়বহুল পরিচালন ব্যয় সম্পূর্ণ ক্ষুদ্রঋণ থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। ক্ষুদ্রঋণ কখনই সাশ্রয়ী ছিল না।

সূত্র জানায়, পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ফলে অর্জিত প্রবৃদ্ধির ফল পৌঁছাচ্ছে সারাদেশে, যার প্রতিফলন ঘটছে দারিদ্র্য হারে। চলতি বছরের (২০১৫ সাল) সর্বশেষ প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০১০ সালে ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে কমেছে অতিদারিদ্র্যও। এ হার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশে, যা ২০১০ সালে ছিল ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) মূল্যায়নে দারিদ্র্য হ্রাসের এ চিত্র উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, প্রতিবছর দারিদ্র্য কমছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে। দারিদ্র্য কমার কারণ হিসেবে জানা গেছে, পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচী যেমন ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর, ওএমএস কর্মসূচী, টেস্ট রিলিফ, কাবিখা এবং ফেয়ার প্রাইস কার্ড ইত্যাদির কার্যকর বাস্তবায়ন।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ্যানেট ডিক্সন বলেছিলেন, দারিদ্র্য নিরসন ও মানব উন্নয়নে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা থেকে অন্য দেশগুলো শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে।