১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আউটসোর্সিংয়ে ৫ বছরে কর্মসংস্থানের টার্গেট দুই লাখ

আউটসোর্সিংয়ে ৫ বছরে কর্মসংস্থানের টার্গেট দুই লাখ
  • প্রথম বিপিও সামিটে সজীব ওয়াজেদ জয় ॥ সন্তানদের জন্য আইসিটি খাতের দিকেও নজর দেয়ার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আইসিটি খাতের আউটসোর্সিংয়ে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, আজকে আইসিটি খাতের অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে। কিন্তু ছয় বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ যাত্রা শুরু করেছিল, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ এতদূর আসতে পারবে। আইসিটি খাতের সঙ্গে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের সম্পৃক্ত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। আমরা চাই, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম উদ্যোক্তা হোক। নিজেদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যত নিজেরাই নিশ্চিত করুক। এ কাজে সরকার তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দুই দিনব্যাপী ‘বিপিও সামিট-২০১৫’ (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারের আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) যৌথভাবে এটি আয়োজন করেছে। দেশী-বিদেশী তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে যোগ দিয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ছয় বছর আগে আইসিটি খাতের মোট রফতানি ছিল ২৬ মিলিয়ন ডলার, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামার ছিলেন মাত্র কয়েক হাজার। আজ আইসিটি খাতের রফতানি ৩০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এখাতে কর্মী আছে দুই লাখ। ছয় বছর আগে বিপিও বা আউটসোর্সিং বলতে কিছুই ছিল না। বর্তমানে ২৫ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। আগামী পাঁচ বছরে আয় এক বিলিয়ন ডলার এবং দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

আইসিটি বিভাগ থেকে আউটসোর্সিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে জয় বলেন, গত বছর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আইসিটি ট্রেনিং নিয়েছেন। আগামী বছর থেকে আমরা ৫০ হাজার মানুষকে ট্রেনিং দেব। ডিজিটাল বাংলাদেশ শুধু সরকারের ভিশন নয়, নিজের ব্যক্তিগত স্বপ্নও- উল্লেখ করে জয় বলেন, ২২ বছর আগে ভারতের ব্যাঙ্গালুরু ছিল একটি সাদামাটা, শান্ত শহর। আইসিটি বা আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রি বলতে কিছুই সেখানে ছিল না। স্নাতকের বিষয় হিসেবেও কম্পিউটার বিজ্ঞান সেই সময় নতুন। আমি স্নাতক পড়ার সময়ই প্রথম কোন বিদেশী কোম্পানি ব্যাঙ্গালুরুতে তাদের অফিস খুলে। পরবর্তীতে সেখানে মাইক্রোসফট ও আইবিএমের মতো প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসে। নিজের চোখে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখেছি। সেই ব্যাঙ্গালুরু আজ আইসিটির ক্ষেত্রে বিশ্বের এক নম্বর গন্তব্য, আউটসোর্সিং সেন্টার হাব। আইসিটির বিপ্লব যদি ব্যাঙ্গালুরুতে সম্ভব হয়, বাংলাদেশেও তা সম্ভব বলে আমি বিশ্বাস করি। জয় বলেন, একসময় দেশে এক এমবিপিএস ইন্টারনেট কানেকশানের দাম ছিল ৭৫ হাজার টাকা। আমরা সেটিকে ছয় শ’ টাকায় নামিয়ে এনেছি। অথচ ছয় বছর আগে এটাকে কেউ সম্ভব বলে মনে করেনি।

আউটসোর্সিংয়ে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের তরুণদের সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীপুত্র বলেন, আমরা চাই, আমাদের তরুণরা উদ্যোক্তা হোক। নিজেদের উদ্যোগে তারা আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং, আইটি কোম্পানি গড়ে তুলুক। জয় বলেন, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা আইনজীবীর বাইরেও পেশা রয়েছে। অভিভাবকদের প্রতি আমার পরামর্শ, এবার সন্তানের পেশা হিসেবে আইসিটি সেক্টরের দিকেও নজর দেয়া উচিত। সরকারও এখাতে ভবিষ্যত তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায়। সেটাই হবে আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ যা আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্য। রেমিট্যান্স এবং পোশাক খাতের রফতানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অর্থনীতি আরও বেশি ভোক্তা চালিত (কনজ্যুমার ড্রাইভেন) হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২০ বছরে আইসিটি খাত দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের আয় ছাড়িয়ে যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলক।