২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশ অস্থিতিশীল করতেই জাপানী নাগরিক ও খাদেম হত্যা

  • আসামিদের স্বীকারোক্তি

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর ॥ রংপুরে জাপানী নাগরিক হোশি কুনিওকে গুলি করে, মাজারের খাদেম রহমত আলীকে জবাই করে হত্যা এবং বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এসব ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠা, বহির্বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœœ করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশের অর্থনীতিকে ভেঙ্গে ফেলা। এসব কারণেই জেএমবির ৫-৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রংপুরে এ ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হুমায়ুন কবীর।

বুধবার দুপুরে ডিআইজি তার কার্যালয়ে জনকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় জানান, এসব ঘটনার পর থেকে পুলিশ, র‌্যাব ও পিবিআই’র ৫টি দল বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এই সফলতা। গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা ও ইসাহাক দু’জনেই প্রশিক্ষিত জেএমবি সদস্য। তারা পুলিশ এবং আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, কে কিভাবে কোন পরিকল্পনায় এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি জানান, এরা হয়ত ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এদের পেছনে তাদের হাইকমান্ড কে, দেশি-বিদেশী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও শক্তি রয়েছে কী না তারা সেসবও খতিয়ে দেখছেন।

তিনি জানান, মাসুদ রানা স্বীকারোক্তি দিয়েছে ৫-৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একেক দিন একেক অপারেশনে অংশ নিত। তাদের রয়েছে ভুয়া নম্বর প্লেট সম্বলিত একাধিক মোটরসাইকেল। মাসুদের পীরগাছার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার বাড়ি থেকে ইতোমধ্যেই ৬৫টি ভুয়া নম্বর প্লেট, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বেশ কয়েকটি ছোরা উদ্ধার করেছে তারা। এছাড়াও তাদের কাছে স্বয়ংক্রীয় অস্ত্র রয়েছে। যখন যেটা প্রযোজ্য তখন সেখানে সেটাই ব্যবহার করত তারা।

গত ৩ অক্টোবর কাউনিয়া উপজেলার আলুটারীতে জাপানী নাগরিক হোশি কুনিও খুন হওয়ার পরই পুলিশ কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান সোহেলের ছোট ভাই রাশেদ উন নবী খান বিপ্লব, কুনিওর ব্যবসায়িক অংশীদার হুমায়ুন কবীর হীরাকে আটক করে। পরে ৬ অক্টোবর তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কয়েক দফা রিমান্ডে নেয়। এরপর ১২ নবেম্বর রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রংপুরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী যুবদল কর্মী মেরিল সুমন ও কালা রুবেল এবং যুবলীগ কর্মী ভরসা কাজলকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের রংপুর নিয়ে এসে জাপানী নাগরিক হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর গত বুধবার রাতে পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়া থেকে আটক করা হয় মাসুদ রানা ও ইসাহাককে। প্রথমে তাদের আটকের বিষয়টি স্বীকার করা না হলেও সোমবার রাতে মাসুদ রানাকে এবং পরদিন মঙ্গলবার রাতে ইসাহাককে আদালতে এনে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপরই মঙ্গলবার এ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে ডিআইজি মুখ খোলেন মিডিয়ার কাছে। জেএমবির সদস্যরা এসব খুনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এবং আগে যাদের বিশেষ করে যুবদল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারাও এই ঘটনায় সম্পৃক্ত কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগে গ্রেফতার হওয়া যুবদলের তিন নেতাকর্মীসহ অন্য ৫ আসামিরা এ ঘটনায় জড়িত কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সম্পৃক্ততা না পেলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। তবে যুবদল নেতাদের আইনজীবী আফতাব উদ্দিন বুধবার জনকণ্ঠকে বলেছেন, যেহেতু গ্রেফতার হওয়া জেএমবির সদস্যরা হত্যাকা-ের বিষয়টি স্বীকার করেছে। সেহেতু প্রমাণ হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রেক্ষিতেই তার দলের নেতাকর্মীদের পুলিশ হয়রানি করছে। তিনি অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেছেন।