১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাতারবাড়িতে আরও একটি কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সেমবকরর্পের সঙ্গে ৭০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (সিবিজিসিবিএল)। দুই দেশের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বিদ্যুত কেন্দ্রটির সমান মালিকানা লাভ করবে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুত কেন্দ্রটিকে এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে।

বুধবার রাজধানীর বিদ্যুত ভবনের মুক্তিহলে সিবিজিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম এবং সেমবকরর্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট তান চ্যাং ওয়াং এমওইউতে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

কেন্দ্রটি কক্সবাজরের মাতারবাড়িতে সিবিজিসিবিএল এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রর এর সাড়ে তিন কিলোমিটার উত্তরে নির্মাণ করা হবে। শিঘ্রই বিদ্যুত কেন্দ্রটির সমীক্ষার কাজ শুরু করবে সেমবকরপ। তবে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-আপারেশন (জাইকা) এখানে মাতারবাড়ি-১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রর জন্য সমীক্ষা করেছে। সিবিজিসিবিএল একই কোম্পানি বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করায় তথ্য পেতে কোন সমস্যা হবে না। সঙ্গত কারণে দ্রুত বিদ্যুত কেন্দ্রটির সমীক্ষার কাজ শেষ হবে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুত, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে চার থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট পাইপ লাইনে রয়েছে। এ ছাড়া আমরা দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছি। আমাদের এখন জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগ। আমরা চেষ্টা করছি এটাকে আট থেকে ১০ ভাগের মধ্যে উন্নীত করতে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের বিদ্যুত এবং জ্বালানির নিশ্চয়তা দিতে হবে। তিনি বলেন সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। চলতি মাসেই এ জন্য এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের চূড়ান্ত চুক্তি হবে বলে জানান তিনি। আঞ্চলিক সহায়তার মাধ্যমে বিদ্যুত উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমরা ভুটানে জল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয় বিদ্যুত কেন্দ্রটি হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির। যাতে পরিবেশ দূষন কম হওয়ার পাশাপাশি বেশি বিদ্যুত উৎপাদন হবে।

গত ১৫ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশে জি-টু-জি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এতে বাংলাদেশে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র পরিচালনা, উন্নয়ন, অর্থায়ন, কনস্ট্রাকশন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় আন্তর্ভুক্ত ছিল।

এ সময় অন্যান্যের মাঝে বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলাম ও বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান কে. এম. হাসান, সেমবকর্পের গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টান কিন ফি, সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার স্যাং হ্যাং ইউং বক্তব্য রাখেন।