১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পৌর নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নিজেই অনিয়ম করেছেন ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এটি নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার প্রথম আলামত। বুধবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধি ১২তে বলা রয়েছে, কোন রাজনৈতিক দল থেকে দলীয় প্রতীকে একজনকেই মনোনয়ন দেয়া যাবে। সে মোতাবেক শরীয়তপুর সদর পৌরসভায় রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হলেও যাচাই-বাছাইয়ের পর তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। পরে নির্ধারিত সময়সীমার পরও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নের মাধ্যমে ফারুক আহমেদ তালুকদারকে মনোনয়ন দেয়া হয়। জেলা রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে নির্বাচন কমিশনের জন্য রেখে দিয়েছেন। যেখানে বিধিমোতাবেক তিনি নিজেই এ মনোনয়নপত্র বাতিল করতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিধিপরিপন্থী কাজ। এতে প্রমাণ হয় নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে না।

ফখরুল বলেন, শরীয়তপুর সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়নের বিষয়টি একটি ঘটনা। এমন আরও অনেক ঘটনা আছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এ ধরনের বিধিবহির্ভূত কাজের পর নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হবে, তা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন যে প্রহসনের দিকে যাচ্ছে, বিএনপি চেয়ারপার্সনের সে আশঙ্কাই প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাতিল হওয়া একজন মনোনয়নপ্রার্থীর পর আরেকজনের প্রত্যয়নপত্রে দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাক্ষর করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি হচ্ছেন সরকারের প্রধান নির্বাহী। তাহলে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জনগণ নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আস্থা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনারের। তিনি বলেন, এক পৌরসভায় একই দলের দু’জন মনোনয়নপত্র জমা দিলে দু’জনেরই প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা। অথচ শরীয়তপুর সদর পৌরসভা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার একজনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন। সরকারের হুকুম মানা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের যে কোন কাজ নেই তা এ ঘটনা থেকেই বোঝা যায়। এরকম পরিস্থিতিতে জনগণ ভোট দিতে আসবে কিনা তা ভেবে দেখা দরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, বিএনপির মূল অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। অনেক পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে করলেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মঙ্গলবার ফেনী বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট আবু তাহেরের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। তার বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। তার মা ও স্ত্রী ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। তার অপরাধ, তিনি ফেনী পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপীল করেছিলেন। এছাড়া রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় আমাদের সমর্থিত সব কমিশনারকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে।

ক্ষমতাসীন দলের সাংসদদের আচরণবিধি লংঘনে নির্বাচন কমিশনের কারণ দর্শাও নোটিস সম্পর্কে ফখরুল বলেন, শো-কজ করাটা মানে ব্যবস্থা নেয়া নয়। একটা এ্যাকশন নিতে হবে। আমরা সবচেয়ে নির্যাতিত বিরোধী দল। আমরা গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে পারি, আমাদের তো অন্য কোন বিকল্প রাস্তা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, সহ-প্রচার সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ।

কারাগারের ভেতর-বাইরে তফাৎ নেই-রিজভী ॥ দেশে প্রাচীরবেষ্টিত কারাগার ও এর বাইরে কোন তফাৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য কারামুক্ত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিরোধী দল দমনে অঘোষিত কারফিউ জারি করেছে। এর ধারাবাহিকতায় গণগ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। এভাবে গোটা দেশকে বন্দিশালা বানিয়েছে তারা। সোমবার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বুধবার বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আসন্ন পৌর নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে রিজভী বলেন, দেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করে। তাই নির্বাচন কমিশন যেন একটি বিশেষ মহলের এ্যাডভান্স বুকিং প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়। তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি গায়ের জোরে ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নেয়ার চেষ্টা না করে, তাহলে ৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ বিএনপির মেয়র প্রার্থী বিজয়ী হবে।

রিজভী বলেন, দাবি আদায়ের আন্দোলনের অংশ হিসেবেই বিএনপি পৌর নির্বাচনে যাচ্ছে। বিএনপি মনে করে জোর করে অবৈধ পন্থায় কেউ বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, এরাও পারবে না। এ সরকারের পতন হবে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

এ সময় বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ। বিকেল সাড়ে ৩টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবশ করলে রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান দলের নেতাকর্মীরা।

রোকেয়া দিবসে মহিলা দলের আলোচনা সভা ॥ বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে মহিলা দল। এতে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।