২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরেক কীর্তিতে ইতিহাসে রোনাল্ডো

আরেক কীর্তিতে ইতিহাসে রোনাল্ডো

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ তুলনামূলকভাবে খর্ব শক্তির দল মালমো, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তাই বলে ৯০ মিনিটে নিজেদের জালে প্রতিপক্ষের ৮ গোল! আসলে দলটা যদি রিয়াল মাদ্রিদ হয় সেই সংশয় উবে যাবে নিমিষেই। মাঠেও তা করে দেখাল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। মঙ্গলবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রাফায়েল বেনিতেজের দল ৮-০ গোলে রীতিমতো উড়িয়েই দেয় মালমোকে। এই ম্যাচে একাই চার গোল করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। হ্যাটট্রিক করেছেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা করিম বেনজেমাও। বাকি গোলটি করেন মাতেও কোভাচিচ। তবে চার গোল করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ইতিহাসে গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন সি আর সেভেন। সেইসঙ্গে রিয়ালের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের প্রতিযোগিতায় একই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডটাও নিজের করে নিলেন তিনি।

গ্রুপ পর্বে ৬ ম্যাচে এবারের আসরে রোনাল্ডো সর্বমোট ১১ গোল করেছেন। সেইসঙ্গে ছাড়িয়ে গেছেন তারই করা ২০১৩/১৪ মৌসুমে সর্বোচ্চ ৯ গোলের রেকর্ডকে। গত মৌসুমে অবশ্য শাখতার দোনেস্কের স্ট্রাইকার লুইজ আদ্রিয়ানোও গ্রুপ পর্বে ৯ গোল করেছিলেন। এবার সেই রেকর্ডকেই ছাড়িয়ে গেলেন সি আর সেভেন। নতুন এই রেকর্ড গড়তে পেরে উচ্ছ্বসিত পর্তুগীজ তারকা। এ বিষয়ে রোনাল্ডো নিজেও বেশ রোমাঞ্চিত, ‘ব্যক্তিগতভাবে আরেকটি রেকর্ড গড়তে পেরে আমি দারুণ খুশি।’ গত মাসে মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে ঘরের মাঠে বার্সিলোনার কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এ নিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের দেখা পেল মাদ্রিদ। এ বিষয়ে সি আর সেভেন বলেন, ‘সমালোচকদের কথায় আমরা মানিয়ে নিয়েছি। কিন্তু একইসঙ্গে নিজেদের পারফর্মেন্সেরও উন্নতি করছি, দল ক্রমেই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের অর্থই হচ্ছে রিয়াল সঠিক পথেই রয়েছে। এখন প্রয়োজনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।’

২০০৭ সালের নবেম্বরে বেসিকটাসের বিপক্ষে লিভারপুল ৮-০ গোলে জয়ী হয়েছিল। ওই সময় ইংলিশ জায়ান্টদের কোচ ছিলেন বর্তমান রিয়াল বস রাফায়েল বেনিতেজ। আর তাই নিজেকে কোনভাবেই রক্ষণাত্মক মানসিকতার কোচ হিসেবে ভাবতে নারাজ বেনিতেজ। তিনি বলেন, ‘আমি এটা আগেও অনেক বলেছি। কিন্তু অনেকেই সেটা ভুলে যায়। আজকের ম্যাচের ফলাফল আরেকবার তাদের সামনে উদাহরণ সৃষ্টি করল। গ্রুপ ‘এ’র শীর্ষ দল হিসেবে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। যে কারণে দলের কয়েকজন তারকাকেই বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেনিতেজ। তাদের মধ্যে গ্যারেথ বেল, লুকা মোদ্রিচ অন্যতম। জাতীয় দলের সতীর্থ ম্যাথিউ ভালবুয়েনাকে ঘিরে যৌন ঘটনার টেপ প্রকাশ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে চলতে থাকা অভিযোগের কারণে মানসিকভাবে বেনজেমা বেশ মুষড়ে পড়েছেন। আজই ফ্রান্সের জাতীয় দলের পক্ষ থেকে তার ভাগ্য নির্ধারণের ঘোষণা আসবে। কিন্তু মাদ্রিদের হয়ে নিজের ফর্ম ঠিকই ধরে রেখেছেন এই ফ্রেঞ্চম্যান। ২০১০ সালে লেভান্তের বিপক্ষে ৮-০ গোলে জয়ের ম্যাচটিতে রিয়ালের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন। আর মালমোর বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে গত দুই ম্যাচে নিজের গোলসংখ্যা পাঁচে উন্নীত করলেন তিনি। সেইসঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম হ্যাটট্রিকের মুখ দেখেছেন করিম বেনজেমা।

ম্যাচের শুরুতেই এদিন ইস্কোর একটি প্রচেষ্টা কোন রকমে লাইনের উপর থেকে রক্ষা করলেও ১২ মিনিটে বেনজেমাকে আর আটকাতে পারেনি সফরকারীরা। তাদের দুর্বল রক্ষণভাগের সুযোগে বেনজেমা-রোনাল্ডোর ক্রস থেকে ২৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। রোনাল্ডোর প্রথম দুটি প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় রক্ষা করলেও ৩৯ মিনিটে পর্তুগীজ তারকাকে আর আটকাতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী মালমোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়োহান উইল্যান্ড। দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে রিয়ালকে বিরতির আগেই ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন ব্যালন ডি’অর বিজয়ী রোনাল্ডো।

প্রথমার্ধে ভালভাবেই এগিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের বিরতির পরও কোন ধরনের আলস্য ঘিরে ধরেনি। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম পাঁচ মিনিটেই পরপর দুই গোল করে রোনাল্ডো হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ৫৯ মিনিটে ইসকোর ক্রস থেকে চ্যাম্পিয়নস লীগে রেকর্ডের পাশাপাশি ৮৮তম গোল পূর্ণ করেন সি আর সেভেন। পিএসজির বিপক্ষে দুই ম্যাচে কোন গোল করতে না পারলেও চার ম্যাচে তার কাছ থেকে এসেছে ১১ গোল। ৭০ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার কোভাচিচের কাছ থেকে আসে রিয়ালের সপ্তম গোলটি। ইন্টার মিলান থেকে চলতি মৌসুমে বড় অর্থের বিনিময়েই রিয়ালে যোগ দেন কোভাচিচ। দল বদলের পর রিয়ালের হয়ে কোভাচিচের এটাই প্রথম গোল। চার মিনিট পর বেনজেমা নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলে মালমোর ব্যর্থতার ষোলোকলা পূর্ণ হয়। চলতি মৌসুমে বেনজেমার এটি ১২তম গোল।