২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অপেক্ষায় ওয়াসিম আকরাম

  • পাক-ভারত সিরিজ নিয়ে নতুন আশা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান-ভারত সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে- এমন আশায় অধির হয়ে আছেন পাকিস্তান গ্রেট ওয়াসিম আকরাম। চলতি ডিসেম্বরেই আলোচিত এই সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রথমে শোনা গিয়েছিল আরব আমিরাতে। কিন্তু ভারত রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কার নাম উঠে আসে। পাক-ভারত দ্বিপক্ষীয় দ্বৈরথ নিয়ে শঙ্কা-সন্দেহ-আলোচনা অনেক দিনের। কখনও সম্ভাবনার আকাশে উঁকি দেয় আশার আলো, পরক্ষণেই তা ঢেকে যায় কালো মেঘে। শুরুতে বিষয়টা দু’দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মারপ্যাঁচে আটকে ছিল, পরবর্তীতে ভেন্যু নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সিরিজটা অনুষ্ঠিত হবে এই মর্মে ভারত সরকারের তরফ থেকে ‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তরের আশায় আকরাম।

সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা ভারত সরকারের ওপরই নির্ভর করছে। তবে আমি মনে করি সিরিজটা হওয়া উচিত। এতে দু’দেশের বন্ধুত্ব আরও জোরদার হবে। আমার মনে হয় ক্রিকেট আর রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। যদি দুটি দেশই এটা করতে পারে, তাহলে ক্রিকেট রুখবে এমন সাধ্য কারও নেই। কারণ দু’দেশের মানুষ খেলাটিকে সমান ভালবাসে, তারা মাঠের লড়াই দেখতে চায়।’ বন্ধুত্ব বাড়ানোর এই ক্রিকেটীয় উপায়ের সাক্ষী তো আকরাম নিজেও। ১৯৯৯ সালে চরমপন্থী দলগুলোর হুমকির মুখেও দল নিয়ে ভারত সফরে গিয়েছিলেন অধিনায়ক তিনি। দেখেছেন, কীভাবে ক্রিকেটের নির্মল বিনোদনের কাছে হার মেনে যায় যত রাজনৈতিক কলুষতা। কীভাবে সব বিভেদ ভুলে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গ্যালারিতে গলা ফাটায় ভারত-পাকিস্তান সমর্থকেরা। ক্রিকেটকে তাই রাজনীতির উর্ধেই রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আধুনিক ক্রিকেটের জনপ্রিয়তম এ ক্রিকেটার।

গত সপ্তাহে প্যারিসে ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হয়েছে। এরপর ব্যাঙ্ককেও দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেছিলেন। সব মিলিয়ে ২০১২-১৩ সালের সিরিজের পর আবারও দুই দেশের ‘ক্রিকেট-যুদ্ধ’ দেখার সম্ভাবনা এই মুহূর্তে উজ্জ্বলই। সম্ভাবনাটা বাস্তবে রূপ নিতে পারে, যদি ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই সিরিজের বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত পাওয়া যায়। সিরিজটি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর কথা। ‘হার্ট অব এশিয়া রিজিওনাল’ শীর্ষক এক সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন সুষমা স্বরাজ। এর আগে গত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান শাহরিয়ার খান বলেছিলেন, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরই নির্ধারণ করে দিতে পারে পাকিস্তান-ভারত সিরিজের ভাগ্য।

সীমান্তের এপার-ওপারে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক সমস্যা সব সময়ই ছিল। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যতই বৈরিতা থাক, দুটি দেশের মধ্যে যত আনন্দের উপলক্ষ তা তো ক্রিকেটের কারণেই। ওয়াসিম আকরাম তাই ক্রিকেটকে দেখছেন বন্ধুতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে। না হলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে চিরদিনই হয় তো অপরাধী থেকে যাবেন দুই দেশের নীতিনির্ধারকেরা। এমন নয়, তিন ওয়ানডে ও দুই টি২০’র প্রস্তাবিত এই সিরিজ হলেই ভারত-পাকিস্তাানের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তবে অন্তত ম্যাচের কিছুক্ষণ তো মানুষ বৈরিতা ভুলে থাকতে পারবে। কে জানে, এখান থেকেই হয় তো নতুন সম্পর্কের শুরু হবে।

দুঙ্গার ভোট পেলেন নেইমার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ২০০৯ সাল থেকে টানা চারবার ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন লিওনেল মেসি। এবার ২০১৫ ব্যালন ডি’অরের তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসি-রোনাল্ডোর সঙ্গে রয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। এতেই ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ককে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন সেলেসাওদের কোচ কার্লোস দুঙ্গা। প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অরের তিনজনের চূড়ান্ত তালিকায় নেইমার। ইতোমধ্যেই জাতীয় দলের কোচ দুঙ্গার ভোট পেয়ে গেছেন ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। দুঙ্গার মতে, ‘নেইমারের বর্ষসেরা হওয়ার মুহূর্ত চলে এসেছে। আমি নেইমারকে ভোট দিয়েছি। এটা তার ব্যালন ডি’অর জেতার মুহূর্ত। যদিও তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকার সবাই সমানে সমান। গত মৌসুমটি ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর দুর্দান্ত কেটেছে। কিন্তু চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সে আগের অবস্থানে নেই। তার মানে এই নয় যে, রোনাল্ডো ভাল খেলছে না।’

মেসি প্রসঙ্গে দুঙ্গা বলেন, ‘মেসি বরাবরের মতোই ভাল করছে। তবে ইনজুরির কারণে সে লম্বা সময় ধরে মাঠের বাইরে ছিল। বার্সিলোনায় মেসির অনুপস্থিতিতে সবাই নেইমারের সেরাটা দেখেছে। আমি তো বলব, নেইমার উড়ছে। তার মধ্যে চমৎকার নেতৃত্বগুণ রয়েছে। আমার মতে, এটা নেইমারের সময়।’ উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের হাতে ২০১৫ ব্যালন ডি’অর এ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হবে। সেইসঙ্গে বর্ষসেরা কোচ, পুসকাস (বর্ষসেরা গোল) এ্যাওয়ার্ড তো রয়েছেই।