১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবশেষেগেইলের ব্যাটিং ঝড়

  • চিটাগাংকে ৮ উইকেটে হারাল বরিশাল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সবারই জানা, গেইল ঝড় যেদিন ওঠে সেদিন প্রতিপক্ষ ক্রিকেটাররা অসহায় হয়ে পড়েন। কিন্তু আগের দুই ম্যাচে সেই ঝড় মিলেনি। বিপিএলের তৃতীয় আসরে নিজের তৃতীয় ম্যাচে এসে অবশেষে সেই ঝড় উঠল। তাতে চিটাগাং ভাইকিংসের অসহায় আত্মসমর্পণ করা ছাড়া কোন বিকল্প ছিল না। ৪৭ বলে ৬ চার ও ৯ ছক্কায় গেইলের অপরাজিত ৯২ রানে ঝড়ো ইনিংসে ৮ উইকেটে জিতেও গেল বরিশাল বুলস। এ ম্যাচে হার দিয়ে টুর্নামেন্টের মিশন শেষ করল চিটাগাং। ম্যাচটিতে জিতে ১২ পয়েন্ট নিজেদের ভা-ারে যুক্ত করল বরিশাল।

আগের ম্যাচেই তামিম ইকবালের খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। তাও খেলেছেন। জিতলে যে শেষ চারে ওঠার ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকত। তাই ঝুঁকি নিয়েই খেলেছেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট থেকে সবার আগে বিদায় নিতে হয়েছে চিটাগাং ভাইকিংসকে। আর তাই বুধবার কোন ঝুঁকির মধ্যে গেলেন না। খেললেনইনা। তামিম থাকতেও যেমন দলের বেহাল দশা ছিল। তামিম না থাকতেও একই অবস্থাতেই পড়ে থাকে চিটাগাং।

শুরুটা এতো সুন্দর হলো। অথচ শেষটায় সেই সৌন্দর্য আর ধরে রাখতে পারল না চিটাগাং। ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৫ রান করল। এনামুল হক বিজয় ও তিলকারতেœ দিলশান ২৮ রান করে করলেন। এ রান অতিক্রম করতে গিয়ে এক গেইলই ৯২ রান করলেন। ২ উইকেট হারিয়ে ১৫ ওভারে ১৪১ রান করে জিতল বরিশাল।

চিটাগাংয়ের ইনিংস শেষ হতেই সবার নজর থাকে ক্রিস গেইলের দিকে। টানা দুই ম্যাচে ৮ রান করা গেইল এদিন কী করবেন? সবার মনেই এ প্রশ্ন উঁকিঝুকি দেয়। অবশেষে গেইল ঝড় দেখা গেল। যে ঝড়ো ইনিংসের জন্য সবারই অপেক্ষা ছিল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে গেলেন গেইল। বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি হাঁকালেন। ছক্কার পর ছক্কা হাঁকালেন। তৃতীয় ওভারে গিয়ে গেইলের ব্যাট থেকে প্রথম বাউন্ডারি আসে। এরপর যে শুরু করেন গেইল। আর থামলেনই না। ষষ্ঠ ওভারে আসিফ আহমেদ রাতুলের করা ৬ বলে ১টি ছক্কা ও তিনটি চার হাঁকান টি২০ ক্রিকেটের ‘দানব ব্যাটসম্যান’ খ্যাত গেইল। ১৫তম ওভারে গিয়ে তো জীবন মেন্ডিসের ৬ বলে চারটি ছক্কা হাঁকান! হুর হুর করে গেইলের স্কোরবোর্ডে রান জমা হতে থাকে। শেষে গিয়ে সেঞ্চুরি থেকে ৮ রান দূরে থাকেন বিপিএলে এর আগে তিনটি সেঞ্চুরি করা গেইল। ৩০ বল বাকি থাকতেই বরিশালও জিতে যায়।

টুর্নামেন্টে চিটাগাংয়ের শেষ ম্যাচটিতে তামিমের স্থানে নেতৃত্ব দেন দিলশান। তার ছোঁয়াতেও দল খুব ভাল কিছু করতে পারেনি। আগের ৯ ম্যাচে জয় মাত্র ২টি ছিল। ১০ম ম্যাচে এসেও হারই হয় নিয়তি। বরিশাল সেই তুলনায় ৯ ম্যাচে ৬ জয় পেয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে আছে।

বরিশাল টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুটা অবশ্য দুর্দান্তই হয় চিটাগাংয়ের। বিজয় ও দিলশান মিলে ৫২ রানের জুটি গড়ে। যেই দিলশান আউট হয়ে যান, চিটাগাংয়ের যেন ছন্দপতন শুরু হয়ে যায়। ৮ রান যোগ হতেই তামিমের পরিবর্তে ওপেনিংয়ে খেলতে নামা বিজয়ও সাজঘরে ফেরেন। ৮৫ রানের মধ্যে আরও ২টি উইকেট পড়ে। মাঝপথে নাঈম ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান উমর আকমল। নাঈম একপ্রান্ত আগলে খেলেন। আরেকপ্রান্তে উমর রান তুলতে থাকেন। কিন্তু ১০৫ রানে গিয়ে উমর (২৫) আউট হতেই ১১২ রানে নাঈমও আউট হন। শেষে আসিফ আহমেদ রাতুল ও বিলাওয়াল ভাট্টি মিলে দলকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যান। আসিফ ১৭ রানে আর বিলাওয়াল ৯ রানে, দল তখন ১৩৫ রানে। এমন সময়ে ইনিংসের শেষ বলে আসিফ আউট হয়ে যান। চিটাগাংয়ের ইনিংসেরও শেষ হয়। এ স্কোর করেও জেতা সম্ভব। কিন্তু গেইলের মতো ব্যাটসম্যান যদি ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন তাহলে কোন স্কোরই সুবিধার নয়। এ স্কোর তো সেই তুলনায় খুব অল্প। গেইল তাই প্রমাণ করলেন। তবে বরিশালের জন্য খুশির বিষয় হলো, গেইল ঝড় অবশেষে মিলেছে। শুরু হয়ে গেছে সেই ঝড়।