২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ট্রাম্পের বক্তব্য মার্কিন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি ॥ পেন্টাগন

  • ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য ॥ হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপন্ন করেছে। এ ধরনের কথাবার্তা জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কর্মকা-কে আরও জোরদার করবে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

ক্যালিফোনিয়ায় গত সপ্তাহে এক মুসলিম দম্পতির সশস্ত্র হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার কুক বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্যে আইএসের দর্শনই উজ্জীবিত হবে। মুসলিমদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করলে উগ্রবাদী আদর্শ মোকাবেলায় মার্কিন প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে কুক বলেন, আইএসের দর্শনকে উজ্জীবিত করে এমন কোন কিছু এবং মুসলিমদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে দাঁড় করিয়ে দেয়া শুধু আমাদের মূল্যবোধবিরোধীই নয়, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিরোধীও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট জাপানী-মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে এ পরিকল্পনার কোন পার্থক্য নেই। এদিকে হোয়াইট হাউস বলেছে, এ বক্তব্য প্রমাণ করে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য। ট্রাম্পকে দ্রুত প্রত্যাখ্যান করতে রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলেছেন, তাতে তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা থাকে না। একইসঙ্গে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পকে সমর্থনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেটিও তাদের অযোগ্যতাই নির্দেশ করে। তিনি ট্রাম্পকে কার্নিভালের দালাল বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ ধরনের বক্তব্য কোন গঠনমূলক ফল বয়ে আনবে না। এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও লন্ডনের মেয়র, ও লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশও ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প যদি তার মন্তব্য প্রত্যাহার না করেন, তাহলে উগ্রবাদ দমনে চালু হওয়া আইনের আওতায় তাকে যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধের দাবি জানান দেশটির একাধিক পার্লামেন্ট সদস্য।