২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুলাদীতে ৫ প্রকল্প ॥ কোটি টাকার দুর্নীতি

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), এতিম অসহায়দের জন্য বরাদ্দ (জিআর) ও ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী (ইজিপিপি) প্রকল্পে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মুলাদী উপজেলায় প্রায় কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতির কারণে এসব প্রকল্পে হরিলুটের মহাৎসব চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অপকর্মে সহযোগিতা করার জন্য নিজের শ্যালকসহ তিনজনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কোন কাজ না করেই কাবিটা কর্মসূচীর আওতাধীন ১০টি প্রকল্পের অর্থছাড় করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কে এম নজরুল ইসলাম। তার এ অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, টিআর কর্মসূচীর আওতায় মুলাদীর চরলক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার জামে মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ৪০ হাজার টাকা, কাবিটা প্রকল্পের আওতায় একই ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি বজায়শুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সোলাল প্যানেল স্থাপনে ৪০ হাজার টাকা, টিআর কর্মসূচীর অধীনে পৌরসভার মোল্লাবাজার জামে মসজিদে ২০ হাজার টাকা, ৮নং ওয়ার্ডের মেহেদী হাসানের বাড়ি হতে জিসিআর রাস্তা পর্যন্ত মাটি কাটা বাবদ টিআর থেকে এক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব প্রকল্পের কোনটিতেই কাজ হয়নি। এমনকি একইস্থানে ভিন্ন নাম ব্যবহার করেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রমতে, পৌরসভার মোল্লারবাজার জামে মসজিদে সোলার স্থাপন ও মোল্লারবাজার জামে মসজিদে সোলার নাম দিয়ে দুটি প্রকল্প দেখিয়ে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু মোল্লারবাজারে একটিই জামে মসজিদ রয়েছে। এছাড়া ওই মসজিদটিতে প্রকল্পের অর্থ দিয়ে কোন সোলার স্থাপন করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভুয়া কমিটি গঠন করে পিআইও ওইসব বরাদ্দের অর্থ আত্মসাত করেছেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় ধাপের বিশেষ বরাদ্দের ৫৬টি কাবিটা প্রকল্পের প্রত্যেকটিতেই সোলার স্থাপনে ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০৯টি টিআর প্রকল্পের বেশিরভাগই সোলার স্থাপনে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রকল্পে সোলার স্থাপন বাবদ ৫০ হাজার টাকা করেও বরাদ্দ দেয়া হয়। এ প্রকল্পের বেশিরভাগেরই কাজ হয়নি। যেসব প্রকল্পে কিছু কাজ হয়েছে তাতেও ১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যে সোলার স্থাপন করে বাকি টাকা পিআইও এবং প্রকল্প সভাপতি ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে সংসদ সদস্যর প্রথম পর্যায়ের বরাদ্দেও ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ টিপু সুলতান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অপরদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে বরাদ্দকৃত জিআর প্রকল্পের ২৫টি খাতে কোন কাজ না করেই ৫০ টন চাল আত্মসাত করেছেন পিআইও নজরুল। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করে চাল আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পান।

এছাড়াও অবৈধভাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নজরুল ইসলাম তার নিজ জেলা ফেনী থেকে তার এক শ্যালক ও মুলাদী থেকে আরও দুইজনকে অফিসের কাজের জন্য অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পান। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিজের মতো করে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে নয়-ছয় করতেই পিআইও তার শ্যালকসহ ওই তিনজনকে নিয়োগ করেছেন। সূত্রমতে, ইতোপূর্বে টাকা আত্মসাতসহ এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকা-ের জন্য সুনামগঞ্জ দক্ষিণ উপজেলায় চাকরিরত অবস্থায় নজরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছে তদবির করে মুলাদীতে যোগদানের পর তার (নজরুল) বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে এখনও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তারা। অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, একটি মহল সংসদ সদস্যকে ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ