২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাদারীপুর, রানীনগর ও ভোলা হানাদারমুক্ত দিবস আজ

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ আজ ১০ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় মাদারীপুর ও ভোলা। ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পালিয়ে যায় পাকবাহিনী। এ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। খবর নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

মাদারীপুর ॥ ১০ ডিসেম্বর মাদারীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এদিনে মুক্তিবাহিনী ও পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে সন্ধ্যায় হানাদার বাহিনী মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। মূলত মাদারীপুুরে যুদ্ধ শুরু হয় আগস্ট মাসের প্রথম দিকে। মাত্র ৫ মাস পর ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই মাদারীপুরের বাইরের সবকটি থানা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। এ সময় হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা মাদারীপুর শহরের হাওলাদার জুট মিলের অভ্যন্তরে ও নাজিমউদ্দিন কলেজে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে তাদের ঘিরে রাখেন।

৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে সংবাদ পৌঁছে ৯ ডিসেম্বর ভোরে পাকবাহিনী মাদারীপুর থেকে ফরিদপুরের দিকে পালিয়ে যায়। এ উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সরোয়ার হোসেন বাচ্চুর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ’৭১ এর রণাঙ্গন সমাদ্দার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে আলোচনা সভা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দোয়া, মুক্ত দিবস র‌্যালি, বিভিন্ন ক্রীড়া ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নওগাঁ ॥ রানীনগর থানা এলাকা হানাদারমুক্ত হয় ১০ ডিসেম্বর। তাই রানীনগরবাসীর কাছে আজকের এই দিনটি একটি স্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা শত্রুসেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ চালিয়ে শত্রুদের বিতাড়িত করে ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে রানীনগর থানা চত্বরে ২১ বার তোপধ্বনী করে বিজয়ের পতাকা উত্তোলন করেন সেদিনের সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বীর মুত্তিযোদ্ধা হারুন অল রশিদ ও তার দলবল। স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনে সেদিন তারা বিজয়ের উল্লাসে ফেটে পড়েছিলেন। তবে সেদিনের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান।

ভোলা ॥ ১০ ডিসেম্বর ভোলা হানাদারমুক্ত দিবস। ভোলায় সর্বপ্রথম বোরহানউদ্দিন দৌলার তালুকদার বাড়িতে হানা দেয়। সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি সংগঠিত মুক্তিবাহিনী আগেই ওঁত পেতে থাকে। পাকবাহিনী সেখানে পৌঁছামাত্র তিন দিক থেকে মুক্তিবাহিনী তাদের ঘিরে ফেলে। সম্মুখ যুদ্ধে প্রায় ৪০ পাকসেনা নিহত হয়। বাকিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বোরহানউদ্দিন বাজার আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এরপর বাংলাবাজার চাউলতাতলী মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর পাকবাহিনী ভোলা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

নির্বাচিত সংবাদ