১০ ডিসেম্বর ২০১৫

এনবিআরের জিডি যমুনার গ্রুপ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল ও তার মালিকানাধীন দৈনিক যুগান্তরের ইকোনমিক এডিটর হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অন্যদিকে এনবিআরের দায়ের করা জিডিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে যমুনা গ্রুপ।

বুধবার রাতে এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই দিন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভায় ওই জিডি করার সিদ্ধান্ত হয়।

রাতে রমনা মডেল থানার ওসি মশিউর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, বুধবার সন্ধ্যায় এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (বোর্ড প্রশাসন-১) এ এইচ এম আবদুল করিম এই জিডি করেন। যার নম্বর ৬২৪।

রাতে এবিআরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নুরুল ইসলাম বাবুলের প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপকে ‘বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি প্রদানকারী’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করা হয়। এতে বলা হয়, তার মালিকানাধীন দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের বিরুদ্ধে ‘অমার্জিত, শিষ্টাচারবিবর্জিত, মানহানিকর, বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্যসংবলিত ধারাবাহিক প্রতিশোধপরায়ণমূলক’ প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের জন্য রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান এনবিআর যদি সঠিকভাবে কাজ করতে না পারে তাহলে দেশের অগ্রগতি হবে না। এনবিআর-এর ওপর আক্রমণ হলে তা দেশের ওপর আক্রমণের শামিল বলে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে এনবিআরের জিডি দায়েরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যমুনা গ্রুপ এ জিডিকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ দাবি করেছে। এতে দাবি করা হয় কোন রকম যাচাইবাছাই ছাড়াই এ জিডি করা হয়েছে।

জিডিতে জারা এক্সেসরিজ লিমিটেড, এমকাবা লিমিটেড ও হংকং গার্মেন্টস লিমিটেড নামের তিন প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হলেও এ ব্যাপারে যমুনা গ্রুপ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যমুনা গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকদের বা যমুনা গ্রুপের কোন ধরনের সম্পর্ক নেই।

যমুনা গ্রুপের পক্ষে দাবি করা হয়, সম্পূর্ণ প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এনবিআর উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যমুনা গ্রুপকে হেয় ও হয়রানি করার জন্যই এ জিডি করেছে।

যমুনা গ্রুপের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনবিআরের জিডিতে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করায় তারা অবাক হয়েছেন। এটা তাদের বোধগম্য নয়। সরকারের একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিচারাধীন মামলা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখপূর্বক এ ধরনের জিডি দায়েরের ঘটনাও নজিরবিহীন বলে মনে করে যমুনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া জিডিতে উল্লেখিত দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদনগুলোকে সম্পূর্ণ সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ বলে দাবি করা হয়। এর একটি প্রতিবেদনও মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলে যে কোন শাস্তি মাথা পেতে নেয়ার চ্যালেঞ্জ যমুনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ করেন।