১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা

অনলাইন ডেস্ক ॥ গ্রামের তুলনায় শহরে জনসংখ্যার হার বেশি। আর শহরের মধ্যে সেই হারটা বেশি বস্তি এলাকায়। সেখানেই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাইপারটেনশন অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। যদিও যাঁরা ওই সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের একটা বড় অংশই সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। ফলে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ তাঁদের জীবনে নানা সমস্যা ডেকে আনছে। কলকাতার পুরসভার সঙ্গে এক হাসপাতালের যৌথ সমীক্ষায় ধরা পড়েছে এমন তথ্য, যা সামগ্রিকভাবে যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্টোডাঙা এলাকায় তিন নম্বর বরোকে ওই সমীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ৪৪ শতাংশই বস্তি এলাকা। সেখানকার বাসিন্দাদের উপরে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, ৪২ শতাংশের উচ্চরক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। কিন্তু সেই ৪২ শতাংশের মধ্যে ২৩ শতাংশ বিষয়টা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। বাকি ১৯ শতাংশ জানতেনই না তাঁদের সমস্যার কথা।

শহুরে মানুষদের মধ্যে গত ৫০ বছরে উচ্চ রক্তচাপের অসুখ ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উচ্চ রক্তচাপের জন্য শতকরা ৫৭ জনের স্ট্রোকে মৃত্যু হয়। আর শতকরা ২৪ জনের মৃত্যু হয় হার্টের অসুখে।

কেন বস্তি এলাকাকেই এমন একটি সমীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হল? সমীক্ষক দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ৩০ বছরে গ্রামের তুলনায় শহরে জনসংখ্যা বেড়েছে। আর শহরের জনসংখ্যা বেশি বেড়েছে বস্তি এলাকায়। সেই কারণেই বস্তি এলাকার চিত্রটা পরিষ্কার না হলে সামগ্রিকভাবে উচ্চরক্ত চাপের সমস্যা সম্পর্কে কোনও তথ্যপঞ্জি তৈরি করা সম্ভব নয়।

অ্যাপোলো গ্লেনেগেলস হাসপাতাল এবং কলকাতা পুরসভার তরফে যৌথভাবে এই সমীক্ষাটি চালানো হয়েছিল। অ্যাপোলোর হৃদরোগ চিকিৎসক শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সচেতনতার বিষয়টি খুব অদ্ভুত। পাকা বাড়ি বা খড়ের ছাউনিতেও যেমন তফাত নেই, ঠিক তেমনই শিক্ষাগত যোগ্যতা বা আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যও তেমন কোনও ফারাক তৈরি করছে না। তিনি বলেন, ‘‘৪০ পেরনোর পরে এই সমস্যা ধরা পড়ে, এমন একটা ধারণা রয়েছে অনেকেরই। সমীক্ষায় কিন্তু দেখা গিয়েছে, ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যেও ২২ শতাংশই এই সমস্যায় ভুগছেন।’’

সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা পুরুষদের তুলনায় কম। শুধু তাই নয়, উচ্চরক্ত চাপে ভুগছেন যে মহিলারা, তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।

আরও একটি অদ্ভুত তথ্য উঠে এসেছে সমীক্ষায়। সেটা কী? চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যাঁরা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খান, তাঁদের মধ্যে অন্তত এক চতুর্থাংশের ক্ষেত্রে রোগটা নিয়ন্ত্রিত হয়নি। কেন? শুভ্রবাবু বলেন, ‘‘ওষুধ খাওয়া আর নিয়মিত ওষুধ খাওয়া-এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হয়তো ওঁরা নিয়মিত ওষুধ খান না, কিংবা একাধিক ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন থাকলে এক রকম খান। উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে নিয়মিত ওষুধ খাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। না হলে বিপদ ঘটতে পারে।’’

পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ বলেন, ‘‘এই সমীক্ষার ফলে আমরা সঠিক চিত্রটা জানতে পারব। সেই অনুযায়ী সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা হবে।’’ কিন্তু শুধু একটি এলাকায় সমীক্ষা চালিয়ে সঠিক তথ্য কতটা পাওয়া সম্ভব? তিনি বলেন, ‘‘অল্প দিনের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় এই সমীক্ষা শুরু হবে। পুরসভার ক্লিনিকগুলিতে ডায়াবিটিসের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসাও হয়। আমাদের আরও বেশি সজাগ হওয়া প্রয়োজন।’’

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

নির্বাচিত সংবাদ