২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আল্লাহর রহমতে বিজয় আসে

  • অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম

বিজয়ের নানা মাত্রিক দিক আছে। প্রকৃত বিজয় আসে আল্লাহর রহমতে, আল্লাহর অনুগ্রহে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : “আর তোমাদের পছন্দনীয় আরও একটি অনুগ্রহ হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়।” (সূরা সাফ্্ : আয়াত ১৩)। আমরা জানি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করবার জন্য বেশ কয়েকটি যুদ্ধের মুকাবেলা করতে হয়। সব যুদ্ধেই বিজয় অর্জিত হয়েছে। একমাত্র উহুদের যুদ্ধের সাময়িক সংকট সৃষ্টি হলেও শেষমেশ সে যুদ্ধেও বিজয় এসেছে।

কুরআন মজীদের ৪৮ নম্বর সূরার নাম ফাত্্হ। ফাত্্হ শব্দের অর্থ বিজয়। এই সূরা ফাত্্ বা বিজয় সূরাখানি নাযিল হবার পেক্ষাপট বা শানে নুযূল থেকে জানা যায়, এই সূরাখানি নাযিল হয় ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পাদনের পরপরই। ষষ্ঠ হিজরী মুতাবিক ৬২৮ খ্রিস্টাব্দের শাওয়াল মাসে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি সাহাবায়ে কেরামের একটি কাফেলা নিয়ে মক্কা মুর্ক্রামায় তশরীফ নিয়ে এসেছেন এবং বায়তুল্লাহ শরীফ তওয়াফ করছেন, বায়তুল্লাহ শরীফের অভ্যন্তরেও প্রবেশ করেছেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ৬২২ খ্রিস্টাব্দের রবিউল আওয়াল মাসে জন্মভূমি মক্কা মুকাররমা থেকে মদীনা মনওয়ারায় হিজরত করে আসেন। মক্কায় যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাঁরাও হিজরত করেন। দেখতে দেখতে ছয়টি বছর মদীনা মনওয়ারায় অতিবাহিত হয়েছে। জন্মভূমি ছেড়ে আসার সময় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম কাঁদছিলেন আর বলছিলেন : হে আমার জন্মভূমি মক্কা! আল্লাহর যমিনে তুমি আমার কাছে প্রিয়তম স্থান। ছয় বছর জন্মভূমি থেকে বহু দূরে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁর অন্তরে মক্কায় যাবার ইচ্ছে প্রবল হয়ে উঠলো এবং বায়তুল্লাহ শরীফ তওয়াফ করবার ইচ্ছাও জাগ্রত হলো। তাই তিনি সেই সাওয়াল মাসের পরের মাস যিলকদে তিন হাজার চার শ’ সাহাবার এক কাফেলা নিয়ে মক্কার উদ্দেশে রওনা হলেন। যুল হুলায়ফা নামক স্থানে এসে উমরার নিয়তে ইহ্্রাম বাঁধলেন, সাহাবায়ে কেরামও ইহ্্রাম বাঁধলেন।

ওদিকে মক্কার কাফির-মুশরিকদের কাছে খবর পৌঁছলো যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মক্কার দিকে আসছেন। তাঁর সঙ্গে কয়েক হাজার সহচর রয়েছে। তারা এই কাফেলার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অশ্বারোহী বাহিনী মোতায়েন করলো।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহ আলায়হি ওয়া সাল্লাম মক্কার নিকটবর্তী হুদায়বিয়া নামক স্থানে এসে একটি কূপের নিকট অবস্থান গ্রহণ করলেন। কূপটিতে সামান্য পানি ছিলো, যে কারণে তিন হাজার চার শ’ সাহাবীর জন্য তা নিহায়েত কম ছিলো। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম তাঁর তীরের খাপ (তুনী) -এর মধ্য থেকে একটি তীর বের করে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত বরাআ ইব্ন আযিব রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্্হুর হাতে দিয়ে বললেন, এই তীরটি ঐ কূপের ভিতরে নিক্ষেপ করো। সাহাবী নির্দেশ অনুযায়ী তীরটি কূপের ভিতর নিক্ষেপ করার সঙ্গে সঙ্গে কূপটি কানায় কানায় পানিতে ভরপুর হয়ে গেলে। এটা ছিলো প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লামের এক অনন্য মু’জিজা।

মক্কার কাফির-মুশরিকদের পক্ষ থেকে বুদায়ল ইবনে ওয়ারাকা খুযায়ী প্রিয় নবী (সা.) এর সামনে এসে মক্কায় মুসলিমদের আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে প্রিয় নবী (সা.) ইহ্্রাম পরিহিত সাহাবিগণকে এবং কুরবানির জন্য সঙ্গে আনা উটগুলো দেখিয়ে বললেন : এগুলো দেখে কি তোমরা বুঝতে পারছো না আমরা কেন এসেছি? বুদায়ল নগরীতে ফিরে গিয়ে সব জানালে কুরায়শ কাফির-মুশ্রিক নেতারা অনুধাবন করলো এই কাফেলার আগমনের উদ্দেশ্য কেবল বায়তুল্লাহ্্ শরীফ যিয়ারত করা। তবুও তাদের কেউ কেউ মুসলিমগণকে মক্কা প্রবেশ করতে দিতে রাজি হলো না।

তারা একদল তরুণকে কাফেলাটি আক্রমণ করতে পাঠালো। তাদের আটকানো হলো। কিন্তু প্রিয় নবী (সা.) তাদের ছেড়ে দিতে বললেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি বুঝিয়ে বলবার জন্য হযরত উসমান রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুকে নগরীতে পাঠানো হলো। তিনি মক্কা নগরীতে গিয়ে সবাইকে বোঝাবার চেষ্টা করলেন যে, আমরা কেবল বায়তুল্লাহ তওয়াফ করতে এসেছি। কিন্তু তাঁর কথায় কেউ কর্ণপাত না করে সাময়িকভাবে তাঁকে আটকিয়ে রাখলো।

হযরত উসমান রাদিআল্লাহু তা’আলা আনুহু ফিরছেন না দেখে সবাই চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনও গুজব ছড়িয়ে পড়লো যে, কুরায়শ মুশ্রিকরা হয়রত উসমান (রাদি.) কে হত্যা করেছে! এমন অবস্থায় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম একটি গাছের নিচে কাফেলার সকল সাহাবায়ে কেরামকে সমবেত করে প্রত্যেকের কাছ থেকে জান কুরবান করবার অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন। এই অঙ্গীকার বায়’আতুর রিদ্্ওয়ান নামে অভিহিত হয়েছে। কুরআন মজীদে এই অঙ্গীকার সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে : হে রাসূল, আল্লাহ তো মু’মিনদের ওপর সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা বৃক্ষতলে আপনার নিকট বায়’আত গ্রহণ করলো, তাদের অন্তরে যা ছিলো তা তিনি অবগত ছিলেন, তাদেরকে তিনি দান করলেন প্রশান্তি এবং তাদেরকে পুরস্কার দিলেন আসন্ন বিজয়। (সূরা ফাত্্হ : আয়াত ১৮) ।

বৃক্ষতলে সেই বায়’আতুল রিদ্্ওয়ান সম্পন্ন হবার পরপরই হযরত উসমান রাদিআল্লাহু তা’আলা আন্্হু হুদায়বিয়ায় ফিরে এসে এই বায়’আত গ্রহণ করলেন। ওদিকে মক্কা নগরীর কুরায়শ মুশরিক নেতারা প্রতিনিধি পাঠিয়ে একটি সন্ধির প্রস্তাব পাঠালো। মূলত তারা সাহাবায়ে কেরামের বৃক্ষতল শপথ গ্রহণের খবর পেয়ে রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলো, যে কারণে সন্ধি করার প্রস্তাব করা ছাড়া তারা ভয় থেকে নিষ্কৃতি পাবার কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছিলো না। রহমাতুল্লিল আলামীন সন্ধি প্রস্তাব মেনে নিলেন। অনেক কথা কাটাকাটি এবং মুশরিকদের অন্যায় আবদার ইত্যাদি সবকিছুর পর দশ বছর মেয়াদী সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হলো। সন্ধির একটি শর্ত মুসলিমদের জন্য আপত্তিকর হলেও প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম শান্তির বৃহত্তর স্বার্থে সেটাও মেনে নিলেন। সন্ধির শর্তানুযায়ী সে বছর মক্কা মুকাররমা যাওয়া হয়ে উঠল না। কারণ সন্ধির প্রথম শর্ত ছিলো : মুসলিমগণ এ বছর উমরা করবে না। আগামী বছর এসে উমরা করতে পারবে। তবে মক্কায় প্রবেশকালে কোষবদ্ধ তরবারী ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র তাদের কাছে থাকতে পারবে না। এই সময় মক্কায় তারা তিন দিনের বেশি অবস্থান করতে পারবে না।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম পরের বছর অর্থাৎ ৬২৯ খ্রি. সাহাবায়ে কেরামসহ মক্কা মুকাররমা গিয়ে উমরা পালন করেন। হুদায়বিয়ার এই সন্ধিকে আল্লাহু জাল্লা শানুহু ফাত্্হুম্্ মুনীব অর্থাৎ প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন। নাযিল হয় সূরা ফাত্্হ। এই সূরার শুরুতেই এরশাদ হয়েছে : হে (রাসূল) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়। (সূরা ফাত্্হ : আয়াত ১)।

৬৩০ খ্রিস্টাব্দের ২১ রমাদান সেই চূড়ান্ত বিজয় সাধিত হয় দশ হাজার সাহাবায়ে কেরামসহ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মক্কা মুকাররমায় উপস্থিত হবার মধ্য দিয়ে। সেদিন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম কালাম মজীদের যে আয়াতে কারীমা বার বার বলছিলেন তা হচ্ছে- আর বলো, সত্য সমাগত, মিথ্যা দূরীভূত, নিশ্চয়ই মিথ্যা দূর হয় (সূরা বনী ইসরাঈল : আয়াত ৮১)। আল্লাহু জাল্লা শানুহুর অনুগ্রহ এলেই সত্যের বিজয় অবশ্যই হয়। সূরা নাসরে ইরশাদ হয়েছে : আল্লাহর সাহায্য এলে বিজয় আসে। আমরা যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো বাংলাদেশের মানুষ যখনই বঞ্চনা, শোষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে তখনই আল্লাহর অনুগ্রহ তারা লাভ করেছে। এ দেশে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ১২০১ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারুদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বিজয় পতাকা উড্ডীন করার মধ্য দিয়ে। এর আগে এ দেশে যারা শাসক ছিলেন তাঁরা বর্ণবাদের স্টিমরোলার চালিয়ে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ওপর নির্মমভাবে অত্যাচার করতো। অব্রাহ্মণদের শিক্ষার অধিকার ছিলো না, নিজের ভাষায় জ্ঞানচর্চার অধিকার ছিলো না, এমনকি ধর্মগ্রন্থ পাঠ করবার অধিকারও ছিলো না। বাংলা ভাষাকে তারা বলতো ইতর জনের ভাষা, চাষাভূষার ভাষা, পক্ষীর ভাষা। এ সম্পর্কে ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন বলেন : “মুসলমান আগমনের পূর্বে বঙ্গভাষা কোন কৃষক রমণীর ন্যায় দীনহীন বেশে পল্লী কুটিরে বাস করিতেছিল।” ইতরের ভাষা বলিয়া বঙ্গভাষাকে প-িতম-লী দূর দূর করিয়া তাড়াইয়া দিতেন। হাড়ি-ডোমের স্পর্শ হইতে ব্রাহ্মণেরা যেরূপ দূরে থাকেন বঙ্গভাষা তেমনি সুধী সমাজে অপাঙক্তেয় ছিলÑ তেমনি ঘৃণা, অনাদর ও উপেক্ষার পাত্র ছিল। কিন্তু হীরা কয়লার খনির মধ্যে থাকিয়া যেমন জহুরীর আগমনের প্রতীক্ষা করে, শুক্তির ভিতর মুক্তা লুকাইয়া থাকিয়া যেরূপ ডুবুরির অপেক্ষা করিয়া থাকে, বঙ্গভাষা তেমনই কোনো শুভদিন, শুভক্ষণের জন্য প্রতীক্ষা করিতেছিল। মুসলমান বিজয় বাঙালা ভাষার সেই শুভদিন, শুভক্ষণের সুযোগ আনয়ন করিল।’

মুসলিম বিজয় শুধু বাংলা ভাষাকেই শাহী মর্যাদা দান করলো না, এই বিজয়ের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা লাভ করলো। কিন্তু ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন মীর জাফর আর জগৎ শেঠদের সঙ্গে আঁতাত করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পলাশী প্রান্তরে সেই স্বাধীনতা সূর্য লুট করে নিলো। সেই স্বাধীনতাকে উদ্ধার করবার জন্য সংগ্রামের দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়েছে এ দেশের মানুষকে, তারা লড়াই করেছে কখনও ফকীর মজনু শাহের নেতৃত্বে, কখনও হাজী শরীয়তুল্লাহর নেতৃত্বে, কখনও সৈয়দ নিসার আলী তিতুমীরের নেতৃত্বে।

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিপাহী জনতার মহান বিপ্লবী আন্দোলন হয়েছে। এমনিভাবে আন্দোলনের বাঁকে বাঁকে নতুন নতুন সংগ্রামী অধ্যায় সূচিত হয়েছে। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে বটে, কিন্তু বাংলায় প্রকৃত স্বাধীনতা আসেনি, বাংলা ভাষার ওপর চরম আঘাত এসেছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই দাবি উঠেছে, ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে, ভাষার জন্য শহীদের রক্তে রাজপথ লাল হয়েছে, স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন সূচিত হয়েছে। স্বাধিকারের জোরদার দাবি উঠেছে, চূড়ান্ত পর্যায়ে স্বাধীনতার দাবি উঠেছে। শেষমেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়েছে। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে দীর্ঘ ৯ মাস হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসরদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, অনেক রক্ত ঝরানোর মাধ্যমে আল্লাহ্্র রহমতে স্বাধীনতা এসেছে বিজয়ের উত্তাল আনন্দ নিয়ে ১৬ ডিসেম্বর তারিখে।

বর্তমান লেখক ১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারায় নিজেকে ধন্য মনে করে। “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্্” এই দৃঢ় প্রত্যয় ধারণ করে আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। যে কারণে আল্লাহর রহমতে স্বাধীনতা আসে পলাশীতে লুট হয়ে যাওয়ার প্রায় ২১৪ বছর পর।

মানুষ সত্যের জন্য, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করলে, লড়াই করলে সেখানে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : নিশ্চয়ই আল্লাহ্্ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে। (সূরা রা’দ : আয়াত ১১)

মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাস থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যে সমস্ত প্রচারপত্র ইশতেহার কিংবা জরুরী নির্দেশপত্র প্রকাশ করেছিলো সেগুলো পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবো তাতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে দুর্বার গতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য অনুপ্রেরণা প্রদান করা হয়েছে এবং অধিকাংশ ইশতেহার বা প্রচারপত্র সমাপ্ত করা হয়েছে এই বলে : আল্লাহ আমাদের সহায়, নাসরুম মিনাল্লাহি ফাত্্হুন কারীব। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১৪ এপ্রিল প্রকাশিত এক ইশতেহারের শীর্ষে ছাপানো ছিলো : আল্লাহ আকবার এবং শেষ করা হয়েছিলো এই বলে : আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় নিকটবর্তী।

বিজয় আল্লাহর দান। হানাদার ও তাদের দোসরদের সঙ্গে যুদ্ধ করে অনেক রক্তের বিনিময়ে আমাদের বিজয় অর্জিত হয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।

লেখক : পীর সাহেব দ্বারিয়াপুর শরীফ,

উপদেষ্টা ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহম্মদ (সা.)

সাবেক পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

নির্বাচিত সংবাদ