২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবশেষে ফেসবুক খুলল, ভাইবার হোয়াটসএ্যাপ পরে

অবশেষে ফেসবুক খুলল, ভাইবার  হোয়াটসএ্যাপ পরে
  • কষ্ট স্বীকার করায় তারানার কৃতজ্ঞতা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ২২ দিন বন্ধ থাকার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক খুলে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টায় মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, সরকারের নির্দেশনা এই মাত্র আমার হাতে এসেছে। জনগণের সুবিধার জন্য ফেসবুক খুলে দিচ্ছি।

তবে ভাইবার, হোয়াটস এ্যাপসহ বন্ধ থাকা অন্যান্য মোবাইল এ্যাপগুলোর বিষয়ে ‘পরে সিদ্ধান্ত হবে’ বলে জানান তিনি। তারানা হালিম বলেন, জননিরাপত্তার হুমকির মাত্রা যে ধরনের ছিল, সেই মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে। বাকি এ্যাপগুলো যদি কন্ট্রোল করি- হুমকি কন্ট্রোলে রাখতে পারব বলে আশা করছি। তিনি আরও যোগ করেন, যে মাত্রায় নিরাপত্তা সমস্যা হচ্ছিল তা অনেকটাই কমে এসেছে। তাই ফেসবুক খুলে দিতে পেরেছি। একথা বলার পরপরই ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনেই বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদকে ফোন করে ফেসবুক খুলে দিতে নির্দেশ দেন তিনি।

দুই বিদেশী নাগরিক হত্যা ও পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে হামলার ঘটনার পর জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের যোগাযোগের পথ বন্ধ করতে গত ১৮ নবেম্বর বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া হয়। একই সময়ে বন্ধ করা হয় মোবাইল ফোনের এ্যাপ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসএ্যাপ। আর বিটিআরসির নির্দেশে এ কাজটি করতে গিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রায় দেড় ঘণ্টা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে বাংলাদেশ। ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ এই কষ্ট মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সেদিন বলেছিলেন, দেশ ও জাতির নিরাপত্তার স্বার্থেই এগুলো বন্ধ করা হয়েছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বসে বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে এক সময়ের এই অভিনেত্রী বলেন, আমরা ফেসবুক খুলে দেয়ার জন্য সরকারী নির্দেশনা পেয়েছি। জননিরাপত্তার স্বার্থে ফেসবুক বন্ধ রাখা হয়েছিল। আমার মনে হয় আপাতত সেই সমস্যা কেটে গেছে। সে জন্য ফেসবুক খুলে দিতে সরকারের নির্দেশনা এসেছে। নিরাপত্তার বিষয়ে যখন কোন হুমকি থাকবে না তখন অন্য এ্যাপগুলো খুলে দেয়া হবে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তরুণ প্রজন্মকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমি জানি, তরুণ প্রজন্মের কাছে ফেসবুক যোগাযোগের অত্যন্ত প্রিয় মাধ্যম। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। জনস্বার্থে কিছুদিন ফেসবুক বন্ধ ছিল এটি তারা (তরুণ প্রজন্ম) সহৃদয় চিত্তে মেনে নিয়েছেন, সেজন্য তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। সাময়িক ফেইসবুক বন্ধের পর যারা সরকারের সমালোচনা করেছেন- তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। কারণ তারাও আমাদের সাময়িক অসুবিধাকে মেনে নিয়েছেন, বলেন তিনি। ফেসবুকে যারা ব্যবসা করেন- জনগণের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে তাদের যে, কিছুটা ক্ষতি হয়েছে, প্রতিমন্ত্রী তা স্বীকার করেন। সাময়িক ফেসবুক বন্ধ করে যদি একটা জীবনও বাঁচাতে পারি, সেই কৃতিত্ব সবার। তারানা বলেন, আশা করছি ফেইসবুক খুলে দেয়ার পর নাশকতা হবে না।

উল্লেখ্য, ফেসবুক খুলে দেয়ার আগে গত রবিবার মন্ত্রণালয়ে ফেসবুকের তিন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, টেলিকম প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও উপস্থিত ছিলেন। ফেইসবুকের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে ছিলেন কোম্পানির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ল’ এনফোর্সমেন্ট স্পেশালিস্ট বিক্রম লাংয়ে এবং পাবলিক পলিসি ম্যানেজার দিপালী লিবারহান। বাংলাদেশের তিন মন্ত্রী ছাড়াও পুলিশ মহাপরিদর্শক শহিদুল হক, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারি আলোচনায় অংশ নেন। এই বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছিলেন, ফেসবুকের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। দ্রুতই ফেসবুক খুলে দেয়া হবে।